বুধবার, অক্টোবর 21, 2020

পরিযায়ী শ্রমিকের বেশে মণ্ডপে মা দুর্গা
পরিযায়ী শ্রমিকের বেশে মণ্ডপে মা দুর্গা

পরিযায়ী শ্রমিকের বেশে মণ্ডপে মা দুর্গা

  • scoopypost.com - Oct 17, 2020
  • স্বামীজি বলেছিলেন, “বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর, জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”।

    বিবেকানন্দ বুঝিয়েছেন, ঈশ্বর থাকেন সকলের মধ্যে। শিশু থেকে মেথর, গরিব থেকে বড়লোক, সকল জীবরে মধ্যেই।

    আর তাই তো, করোনার জেরে হওয়া লকডাউনে পথের ধুলোয় সন্তান নিয়ে কয়েকশো কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়া মায়েরা ঈশ্বর শিল্পীর চোখে। ক্ষিদে, তৃষ্ণায় ক্লান্ত যে পরিযায়ী শ্রমিকরা সন্তান নিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন ঘরে ফেরার আশায়, মা দুর্গা যে রয়েছেন তাঁরই মধ্যে। আর তাই পরিযায়ী শ্রমিকই এবারের দুর্গা। শিল্পীর শিল্পে তিনি এভাবেই ধরা দেবেন কলকাতার পুজোয়।

    এমনভাবেই দুর্গাকে কল্পনা করে মূর্তি গড়েছেন আর্ট কলেজের শিল্পী পল্লব ভৌমিক। সেই ছবি সোশ্যাল সাইটে পোস্ট হতেই ভাইরাল। ছবিতে দেখা যাচ্ছে কাদা মাটির মা দুর্গা। মাইলের পর মাইল হাঁটার জন্য যাঁর বেশ কর্দমাক্ত, মলিন। তবে তিনি ত্রিনয়নী। কোলে তাঁর সন্তান কার্তিক। দু’পাশে দুই মেয়ে লক্ষ্মী ও সরস্বতী। তাঁদের হাতে পেঁচা ও হাঁস। আর হাতির মাথা মায়ের আর এক সন্তান গণেশের প্রতীক। মায়ের দশ হাত চালচিত্র। এই মা পরিযায়ী শ্রমিকের প্রতিনিধি।

    করোনা আবহে আচমকা মার্চ মাসে লকডাউন ঘোষণা হয়। সন্তান সন্ততি নিয়ে তখন ভিন রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকরা ঘরে ফেরার জন্য ব্যাকুল। কোনও যানবাহন নেই। কয়েকশো কিলোমিটার যেতে ভরসা শুধু পা। খাবার নেই, জল নেই এই অবস্থায় পরিবার নেই হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক হেঁটেছেন। ক্ষিধে-তেষ্টায় কাতর সেই সব মায়েদের মুখ শিল্পীর অন্তরকে এমনভাবে নাড়া দিয়েছে, যে তিনি বাস্তব দুর্গাকে মৃন্ময়ী রূপ দিয়েছেন।

    বেহালার বড়িশা ক্লাবের দুর্গাপুজোয় মা এবার এই রূপেই আসছেন। দুর্গাপুজো মানে শিল্প, ভাবনা, হৃদয় ছোঁয়ার চেষ্টা। আর মানুষের অন্তরাত্মাকে জাগানো। শিল্পী পল্লব ভৌমিক সেটাই করেছেন। তাঁর কথায়, টিভির পর্দায় দেখা পরিযায়ী শ্রমিকদের কষ্ট, মলিন চেহারা তাঁকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তাই এভাবেই তিনি দুর্গাকে দেখেছেন দেখিয়েছেন। এক মা সন্তানদের বাঁচানোর জন্য, তাঁদের আগলে হেঁটেছেন। লড়াই করেছেন করোনাসুরকে হারিয়ে বাঁচার জন্য।