সোমবার, অক্টোবর 26, 2020

ঠাকুরের ভোগ শুধুমাত্র চকোলেট!
ঠাকুরের ভোগ শুধুমাত্র চকোলেট!

ঠাকুরের ভোগ শুধুমাত্র চকোলেট!

  • scoopypost.com - Oct 07, 2020
  • মানুষ না থাকলে ঈশ্বরের আর মহিমা কী! ঈশ্বরকে মানুষ তাই নিজের আদলেই গড়ে নিয়েছে। এমনকী তাঁর রূপ, রঙে, ভোগ নিবেদনেও। দেবতার ভোগপ্রসাদ মানেই নৈবিদ্য, মিষ্টি, দই, ফলমূল, নারকেল নাড়ু, খিচুড়ি, চচ্চড়ি, পাঁচমিশালি তরকারি, তরকারির নানা পদ, চাটনি, পায়েস, লুচি, নানারকম ভাজা, পোলাও, ক্ষীর, রাবড়ি ও আরও কতকিছু এবং অবশ্যই পান। তবে কেরালার শ্রীমত শ্রী সুব্রহ্মমণম স্বামী মন্দিরে মুরুগান দেবতাকে চকোলেট ছাড়া অন্য কোনও ভোগ নিবেদন করা চলে না। পুরাণ মতে, কার্তিকের অবতার মুরুগান। তাঁর পুজো দিতে মন্দিরের পাশে গড়ে ওঠা দোকান থেকে ভোগ চাইলেই মিলবে চকোলেট ‘ মাঞ্চ ’। এটি চকোলেটের একটি ব্র্যান্ড। কিন্তু দেবতার এতই প্রিয় যে ভক্তরা সকলে ‘ মাঞ্চ ’ চকোলেট দিয়েই ভোগ দেন। সেজন্য দেবতারও ব্র্যান্ড নেম হয়ে দাঁড়িয়েছে মাঞ্চ মুরুগান।
    তবে পুজোয় এরকম অদ্ভুত ভোগ দেওয়ার নিয়মের পিছনে রয়েছে এক লোককথা। বহুযুগ আগে এক মুসলিম বালক ওই মন্দির চত্বরে খেলতে খেলতে হঠাতই ওই মন্দিরের ঘণ্টা বাজিয়ে ফেলে। একথা জানাজানি হতে ওই বালকের মা-বাবাও তাঁদের ছেলেকে এরকম আচরণের জন্য যারপরনাই বকাঝকা ও শাসন করেন। তাতে অসুস্থ হয়ে পড়ে সারারাত ওই বালক মুরুগানের নাম জপতে থাকে। পরদিন সকালে অবশ্য ওই বালক সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। ছেলেকে নিয়ে ওই মুসলিম দম্পতি মন্দিরের পুরোহিতের সঙ্গে দেখা করে সমস্ত ঘটনা জানান। পুরোহিত ওই বালককে নিজ হাতে পুজো দিতে বলেন। এদিকে পুজো দেওয়ার কোনও প্রস্তুতি ছিল না। ওই বালক তার হাতের চকোলেট দিয়ে দেন দেবতা মুরুগানকে। আর সেই থেকেই চকোলেটই হয়ে ওঠে মুরুগানের প্রিয়। ভক্তরাও দেবতাকে ভোগ নিবেদনে তাঁর পছন্দের চকোলেটই দিয়ে আসছেন। সময়ের সঙ্গে চকোলেট ব্র্যান্ডের সহজলভ্যতার দেবতার ব্র্যান্ডিং এখন মাঞ্চ মুরুগান।