বুধবার, অক্টোবর 21, 2020

আমরা বাঁচতে চাই
আমরা বাঁচতে চাই

আমরা বাঁচতে চাই

  • scoopypost.com - Jan 07, 2020
  • ‘আমরা বাঁচতে চাই...' 

    তাদের ভাষা আমরা বুঝি না, আমাদের ভাষাও তারা বোঝে না। কিন্তু বাঁচার আকুতি বোঝার জন্য ভাষার দরকার হয় না। আর তাই বাঁচার জন্য মানুষের কাছেই ছুটে আসছে 'না-মানুষ'রা।

    দাবানলের গ্রাসে অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল।দু’মাস হতে চলল দাউ দাউ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।হেলিকপ্টার থেকে রাসায়নিক স্প্রে, জল দিয়ে আগুন নেভানোর সমস্ত চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।এখনও পর্যন্ত দাবানলের বলি ৫০ কোটি প্রাণী। কোয়ালা থেকে ক্যাঙারু, পাখি-সহ অসংখ্য বনপ্রাণীর আর ছাইটুকুও অবশিষ্ট নেই। দাবানলে মৃত্যু হয়েছে এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের। নষ্ট হয়ে গিয়েছে ১০০০ ওপর ঘরবাড়ি।

    এই পরিস্থতিতেই বাঁচার জন্য মানুষেরই দ্বারস্থ হচ্ছে বন্যপ্রাণীরা।ঘটছে উল্টোটাও। আগুনের হাত থেকে বাঁচাতে ধোঁয়ায় ঢাকা পথ ধরে মালিককে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে পোষ্য ঘোড়া।

    চোখে জল আনা সেই ছবি বুঝিয়ে দিয়েছে দাবানলের ভয়াবহতা। অস্ট্রেলিয়াতেই বাস কোয়ালার। লাজুক স্বভাবের প্রাণীটি সাধারণত মানুষ দেখলেই গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। বিপদ বুঝলে দ্রুত গাছ বেগে মগডালে চড়ে শরীরটাকে গোল করে গুটিয়ে নেয়। কিন্তু আগুনের শিখা লম্বা লম্বা গাছ ছাড়িয়ে ওপরে উঠে গিয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা কোথাও ৪০ ডিগ্রি কোথাও ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছে।

    খাওয়ার জল নেই। খাবার নেই। এই পরিস্থিতিতে দমকলকর্মী, মানুষজন দেখলেই পোড়া শরীর নিয়ে ছুটে যাচ্ছে কোয়ালারা। আসছে ক্যাঙারুরা।বারবার ধরা পড়েছে সেই ছবি। তৃষ্ণার্ত কোয়ালার সামনে জল ধরতেই নিমেষে তা শেষ করে ফেলছে।

    বাঁচার জন্য এতটাই মরিয়া তারা যে রাস্তার মাঝখানে সাইকেল আরোহীদের আটকাচ্ছে। সাইকেলে রাখা জলের বোতল দেখে ইশারায় দিতে বলছে।হৃদয় বিদারক এই ছবি বুঝিয়েছে দাবানেলর ভয়াবহতা।

    ক্যামেরাবন্দি হয়েছে আগুন থেকে ক্যাঙারুর পালানোর জন্য দৌড়নোর ছবি...

    ক্যাঙারু-সহ বন্যপ্রাণীদের বাঁচাতে এগিয়ে আসছেন দমকলকর্মীরাও। প্রাণী হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়ছে ভিড়। এগিয়ে আসছেন অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ মানুষও। তাঁরাই সোশ্যাল সাইটের মাধ্যমে বন্যপ্রাণীদের চিকিৎসায় ফান্ড তৈরি করছেন। পথে ঘাটে পুড়ে যাওয়া, তৃষ্ণার্ত প্রাণী দেখলে নিয়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি করছেন।

    আবার এই দাবানলের গ্রাসে মরতে বসা মালিকনকে প্রাণে বাঁচিয়েছে পোষ্য ঘোড়া চার্মার।ধোঁয়ায় যে রাস্তা দেখাই যাচ্ছে না, সেখান দিয়ে ছুটে পাবে নিয়ে এসেছে মালকিনকে।

    এমন পরিস্থিতি এক অদৃশ্য বন্ধনে বাঁধা পড়েছে মানুষ ও বন্যপ্রাণীকুল।