সোমবার, অক্টোবর 26, 2020

বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়না দেখেছেন কখনও?
বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়না দেখেছেন কখনও?

বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়না দেখেছেন কখনও?

  • scoopypost.com - Aug 05, 2020
  • বিশাল এক আয়না! নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ হোক বা বিকেলের সিঁদূরে রঙা মেঘের পরত। মেঘলা আকাশের ধূসর রং হোক বা আকাশ জুড়ে বিকেলের রংয়ের খেলা সবই বড় নিখুঁতভাবে ধরা পড়ে এ আয়নায়। আর এমন বিস্ময়কর আয়না দেখে আপনার যে অভিব্যক্তি, সেটাও প্রতিফলতি হয় ওই আয়নাতেই।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়না। জানেন কোথায়? কে বানিয়েছে এমন আয়না?

    লকডাউনে বরং বিশ্বের বৃহত্ আয়নার মুখোমুখি কী করে হবেন জেনে নিন। বলিভিয়ার সালার দে ইউয়ানির (Salar de Uyani) নাম শুনেছেন কখনও?  এখানেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়নাটি বানিয়েছে প্রকৃতি। দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম-মধ্যভাগে স্থলভাগ ঘেরা দেশ বলিভিয়া। এ দেশেরই দক্ষিণ-পশ্চিম প্রদেশে রয়েছে নুনের প্রাকৃতিক ভাণ্ডার (salt pan)। ১০, ৫৮২ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে অবস্থিত নুনের সমতলভূমি। শোনা যায়, প্রাগৈতিহাসিক যুগে এটা একটা বড় হ্রদ ছিল। বছরের বেশির ভাগ সময় শুকনো খটখটেই থাকে।

    কিন্তু বর্ষাকালে এই নুনের সমতলভূমির ওপর জলের স্তর জমে। আর তখনই হয় দেখা যায় প্রকৃতির ক্যারিশমা। নুনের দিগন্তজোড়া সমতলভূমি তখন জলের স্তর পড়ে বিশাল আয়না। নুনের ওপর জল পড়লে সেটাই হয়ে ওঠে আয়না। যেখানে প্রকৃতির অপূর্ব রূপ নিখুঁতভাবে ফুটে ওঠে। নীল আকাশ, পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ, ছোট ছোট টিলা সবই যেন মাটিতে নেমে আসে। নিখুঁত প্রতিবিম্বের সৃস্টি হয়। সে এক অসাধারণ দৃশ্য। যে রূপ বলার নয়, লেখার নয় শুধু সালার দে ইউয়ানিতেই সে রূপের পরিচয়।

    হাজার হাজার পর্যটক এই সময়ে বেড়াতে আসেন। এখানে গাড়ি বা সাইকেল চালালে মনে হবে আপনি যেন আকাশেই এক মসৃন সমতলে আছেন। আকাশ আর মাটি এখানে মিশে গিয়েছে। ভাবুন তো একবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়নায় বসে সূর্যাস্তের রঙিন মেঘ, ডুবন্ত সূর্যের কোমব চ্ছটা দেখতে দেখতে চেয়ারে বসে আপনি পছন্দের পানীয়তে চুমুক দিচ্ছেন। ভেবেই স্বর্গীয় অনুভূতি হচ্ছে তো।

    বেঁচে থাকা মানুষ স্বর্গ দেখেননি। স্বর্গ বলে কিছু হয় কিনা, তাও বিতর্কিত। তবু আমরা ভেবেনি স্বর্গ মানেই ভীষণ সুন্দর। ভাবুনতো প্রকৃতির আয়নায় আপনি যখন প্রিয় মানুষটির হাত ধরে আনন্দে বিভোর হয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন তার চেয়ে সুন্দর অনুভূতি কি হতে পারে? আকাশ রয়েছে আকাশে, আবার রয়েছে মাটিতেও।

     

    বেড়ানোর আদর্শ সময়

    সারা বছরই এখানে বেড়ানো যায়। এক এক ঋতুতে বিশাল এই নুনের সমতলভূমি এক-এক রূপ ধরা দেয়। শীতের শুকনো সময় এই এলাকা বিশাল নুনের মরুভূমি। গরমেও তাই। তবে বর্ষাতেই মিরর এফেক্ট বা আয়না রূপ দেখা যায় সবচেয়ে বেশি। সেই বৃষ্টিরও পরিমাণ আছে। বেশি বৃষ্টি হলে নুন নরম হয়ে বসে যাবে। তখন তা বিপজ্জনক। তবে পরিমিত বৃষ্টি এই ভূপ্রকৃতিতে অপরূপ করে তোলে।

    ভারতের সময়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে হবে না। বলিভিয়ার এই এলাকায় গরম আসে বছরের শুরুতে। আর এই সময়ই বৃষ্টি হয় এখানে। জুন-জুলাই-অগস্ট এখানে শীতকাল। সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ-এপ্রিল এখানে বেড়ানোর আদর্শ সময়। তবে বিশাল আয়না দেখতে গেল জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চের মধ্যেই আসা ভালো।আর আকাশ জোড়া নক্ষত্র দেখতে চাইলে শীতকাল হল সবচেয়ে ভালো।

    কীভাবে যাবেন-বলিভিয়ার একটি নামী শহর লা পাজ। এখানেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। লা পাজ থেকে আট ঘণ্টার বাস যাত্রায় পৌঁছনো যায় সালার দে ইউয়ানি-তে। দূরত্ব ৪১০ কিলোমিটার। রাতে বাস ছাড়ে। ভোরে সে বাস পৌঁছয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আয়না, সমতল নোনাভূমিতে।চিলি থেকেও বাসে আসা যায়। ১১ ঘণ্টা সময় লাগে।