মঙ্গলবার, অক্টোবর 27, 2020

বর্ষা শেষে লুলুং সুন্দরীর টানে
বর্ষা শেষে লুলুং সুন্দরীর টানে

বর্ষা শেষে লুলুং সুন্দরীর টানে

  • scoopypost.com - Sep 13, 2020
  • ভরা বর্ষায় সে যৌবনবতী। রূপে পাগলপাড়া করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। বর্ষা শেষে স্নিগ্ধ-সবুজ। উদ্দামতা কমলেও চঞ্চল। স্রোতস্বিনী পলপলায় নুড়ি-পাথরে জলের ধাক্কা ফেনিল হয়ে ওঠে।সেই রূপকে সঙ্গ দেয় সবুজ চাদর, নীল আকাশ। জানা-অজানা পাখির কলতান।
    এমন রূপের সাক্ষী হতে চাইলে ধরুন রাতের পুরী প্যাসেঞ্জার। চেনা অচেনা নামের স্টেশনগুলো পার হত হতেই কেটে যাবে রাত। ভোরবেলা এসে যাবে রূপসা জংশন। ঘড়ির কাঁটায় ছ’টা বাজার আগেই, বর্ষা শেষের লুলুং জানান দেবে, আপনি এসে পড়েছেন।


    চাইলে স্টেশনের বাইরে বন্দোবস্ত হতে পারে অটোর।আগাম বলে রাখলেই ভালো। বুড়িবালামে সেতু পেরিয়ে অস্তিয়া মোড় হয়ে ডানদিকে বাঁকবে রাস্তা। বারিপদা থেকে সিমলিপাল জাতীয় উদ্যান তথা ব্যাঘ্রপ্রকল্পের অন্যতম প্রবেশদ্বার পিথাবাটা রূপসা থেকে ১৮ কিলোমিটার পথ।

    পিথাবাটা গেটের ঠিক আগেই বাঁয়ে দেড় কিলোমিটার গেলেই সীতাকুণ্ড জলপ্রপাত। ঝরঝরিয়ে পড়ছে ঝরনা। শীতল জল চোখ-মুখে ছুঁইয়ে ক্লান্তি খানিক কাটিয়ে নিতে পারেন সেখানে। আর যদি ক্লান্তি দূর করার ওষুধ পটাপট সেলফি হয়, সেটাও করতে পারেন। বেড়াতে গেলে সুন্দর ডিপি তো বানতাহি হ্যায়!ঝরনা লাগোয়া ঘরে থাকার বন্দোবস্ত আছে। তবে ব্লক পঞ্চায়েতের সেই গেস্ট হাউস কখনও বন্ধও থাকে। তাই আগেভাগেই খোঁজ নিয়ে যাওয়া ভালো। সেখানে ডেরা না-হলে রয়েছে অন্য ব্যবস্থা। ফরেস্ট গেট দিয়ে ঢুকে পঞ্চাশ মিটার এগিয়েই ডানদিকে একফালি বেসরকারি জমিতে গড়ে উঠেছে একটি খামার বাড়ি। ভিতরে দু’টি ঘর পর্যটকেদের জন্য বরাদ্দ। বারিপদার এক দম্পতি সেটি ‘লিজ’ নিয়েছেন।


    মাথাগোঁজার ঠাঁই হলেই বাকি থাকে প্রকৃতি। আসলে জঙ্গল, নদী, আকাশ, পাখির মিশেলে লুলুং- মোহময়ী। সেই মোহিনী মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে ক্যামেরা-বাইনোকুলার নিয়ে আপনিও যেতে পারেন জঙ্গল এক্সপ্লোর করতে। লক্ষ্য, সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরের লুলুং। কিন্তু দেড়শ মিটার গিয়ে পলপলা নদীর ব্রিজের সামনে গিয়েই থমকাতে হতে পারে যদি ভরা বর্ষায় যান। বর্ষা শেষে পলপলা নদীর ওপর সেতু আপনাকে অন্য পাড়ে পৌঁছে দেবে।
    সেতুর ওপারে পথ দু’ভাগে ভাগ হয়েছে। ডানদিকে, ভজাম চেকপোস্ট হয়ে সিমলিপালের অন্দরে। বাঁদিকের পথ নদী ঘেঁষে চলেছে লুলুং গ্রামের দিকে। গ্রাম ছাড়িয়ে কয়েকশো মিটার এগোলে পলপলার ধারে ওড়িশা পর্যটন বিভাগের অরণ্যনিবাস। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ভোলবদলে এখন ঝাঁ-চকচকে। কাচে ঘেরা ডাইনিং হল আর সুইমিং পুল যেন এই জঙ্গুলে আবহে কিছুটা বেমানান। দুজনের রাত্রিবাসের খরচ অন্তত হাজার পাঁচেক। খাওয়াও সেখানে খুব দামি।লুলুং থেকে পলপলার পাড় ধরে পায়ে হেঁটে আরও কিলোমিটার খানেক দূরের ফরেস্ট ক্যাম্প পর্যন্ত এগোনো যায়। সিমলিপালের বাফার অঞ্চলের এই বনভূমিতে হাতির যাতায়াত নিত্য। পথের ধারে পড়ে থাকা পূরীষ গজরাজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। পক্ষীপ্রেমীদের কাছে জায়গাটি সত্যিই স্বর্গ! স্কারলেট মিনিভেট, লার্জ উডশ্রাইক, ক্রেস্টেড ট্রি সুইফট, গ্রিন বিলড মালকোহা, বেয়ার্ডেড বি ইটার, জঙ্গল আউলেট, ব্রাউন হেডেড বারবেট আরও কত কী!


    ভারতের ক্ষুদ্রতম টিয়া, ‘ভারনাল হ্যাঙ্গিং প্যারটে’র ছোট ঝাঁকও চোখে পড়তে পারে। বহেড়া গাছের মগডালে নজরে আসতে পারে ফুট-দু’য়েক লম্বা কাঠবেড়ালি, মালাবার জায়েন্ট স্কুইরেল।

    যাওয়ার সন্ধান সীতাকুণ্ড-পিথাবাটা-লুলুং যাওয়া যায় বছরভরই। কিন্তু সিমলিপাল জাতীয় উদ্যানের অন্দরে ১৬ জুন-৩১ জুলাই বর্ষার জন্য ‘প্রবেশ নিষেধ’! পিথাবাটা গেট দিয়ে গাড়ি নিয়ে শুধুমাত্র লুলুং যাওয়ার উদ্দেশে ঢুকলে নাম-ধাম লেখালেই হবে। কোনও প্রবেশমূল্য দিতে হবে না। কিন্তু জোরান্ডা-বরাহাইপানি-চাহালা যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ‘ফি’ রয়েছে।

    বাবুঘাট থেকে বারিপদা যাওয়ার বেশ কযেকটি বাস আছে, ৬ ঘণ্টা মতো লাগে
    সন্তোষের যোগাযোগের নম্বর—০৯৪৩৮৬৯০৭৭৮
    পিথাবাটার গেটে ফার্ম হাউসের বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ— ০৯০০৭৪৩৭৭৩১
    লুলুং অরণ্যনিবাস বুকিং— ০৮৪৮০২৭৬৭৩৭ এবং ০৭৯০৬৭৩২৫৭২