মঙ্গলবার, জানুয়ারী 26, 2021

ইচ্ছে আছে, রেস্তো কম! কম খরচেই হবে বেড়ানো
ইচ্ছে আছে, রেস্তো কম! কম খরচেই হবে বেড়ানো

ইচ্ছে আছে, রেস্তো কম! কম খরচেই হবে বেড়ানো

  • scoopypost.com - Dec 18, 2020
  • সাদা বরফে মোড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা আপনাকে ডাকে! সমুদ্রের অতল জলরাশির শব্দ আপনাকে মুক্তির স্বাদ দেয়! গহণ বনের বনের শোভা আপনাকে বিভোর করে!

    বারবার বেড়িয়ে পড়তে ইচ্ছে করে অজানাকে জানতে, অচেনাকে চিনতে, প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে? অথচ বাধ সাধছে সাধ্য! পকেট টাকা নেই। তাহলেও বেড়ানোর শখ পূরণ সম্ভব। কীভাবে অল্প টাকায় হিমালয়ের কোলে যেতে পারেন বা সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করতে পারেন রইল তারই টিপস।


    দল-প্রথমেই চেষ্টা করুন বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে দল করতে। তাহলে মাথা পিছু খরচ অনেকটাই কমে যাবে।গাড়িভাড়া থেকে ঘরভাড়া সবেতেই শেয়ার হবে।তাছাড়া রাস্তাঘাটে বিপদ-আপদ হলে দল থাকলে সুবিধে। দলে আনন্দও বেশি।

    ট্রেনে স্লিপার- ট্রেনে গেলে অবশ্যই ননএসি স্লিপারে যান। এতে খরচ এসির চেয়ে অনেক কম। হাতে হাজার চারেক টাকা থাকলেও কিন্তু আপনি দার্জিলিং বা পাহাড়ে ঘুরে আসতে পারবেন।


    তথ্য, লোকাল গাড়ি- যে জায়গায় যাবেন সেই জায়গার সম্পর্কে খুব ভালো করে জেনে নিন। পর্যটকরা গাড়িতেই ঘোরেন। কিন্তু সেখানকার স্থানীয় মানুষ রয়েছেন। তাঁরা তো ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করে ঘোরেন না। তাই স্থানীয় পরিবহণের ওপর ভরসা করে ঘোরার পরিকল্পনা করুন।

    সোলো ট্রিপে শেয়ার-যদি পাঁছ ছ’জনের দলে যান তাহলে গাড়ি ভাড়ার টাকা ভাগ হয়ে যাবে। কিন্তু যদি একা হন বা দু’জন হন তাহলে পাহাড়ে বা পর্যটন কেন্দ্রে অপেক্ষা করুন শেয়ার গাড়ির জন্য।ধরুন দার্জিলিং বা কালিম্পং গেলেন তাহলে বাসস্ট্যান্ড বা ট্যাক্সিস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করুন। আপনাদের মতো এক বা তিন জনের দল পেলে একটু দূরে গিয়ে নিজেরা দল গড়ে নিন। চালকদের সামনে বা ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে করতে যাবেন না, চালকরা এ নিয়ে একটু-আধটু ঝামেলা করতে পারে।


    হোটেল-পাহাড়ি এলাকায় গেলে হোম স্টে এখন সস্তা। দার্জিলিং-এর আশপাশে সুন্দর পাহাড়ি গ্রামগুলোতে সস্তার হোম-স্টে মেলে। সেখানে ডর্মিটারি রুম নিলে আরও সস্তা হবে।প্রাইম লোকশন থেকে একটু সরে এলেই দেখবেন হোটেলের ভাড়া কমছে।আর কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ যদি বলেন, সে হোটেলের ঘর থেকে না দেখে রাস্তা থেকে দেখুন।তাতেই কিন্তু ভাড়া কমে যাবে।আর বাজেট ট্রিপে চেষ্টা করুন ডর্মিটারি নেওয়ার।

    খাওয়া-স্থানীয় লোকেরা কোথা থেকে খাচ্ছেন দেখুন। সেখানেই চলে যান। স্ট্রিট ফুড যে কোনও জায়গায় ভালো ও সস্তা হয়।তাই রেস্তোরাঁর বদলে সেই খাবার খান। সঙ্গে রাখুন মুড়ি, চিঁড়ে, ছাতু। এতে কিন্তু খাবারের বাজেট কমবে তাই নয়, শরীরও সুস্থ থাকবে। আর যদি পারেন সঙ্গে নিন ইলেকট্রিক কেটল। এতে নুডলস, ভাত-আলু সেদ্ধ বানিয়ে নিতে পারবেন।


    ট্রেকিং- পাহাড়কে বা যে কোনও জায়গাকে ভালোভাবে জানতে ট্রেকিং অন্যতম উপায়। ট্রেকিং-এর পরিকল্পনা করলে গাড়িভাড়ার খরচ বেঁচে যাবে।আর হোম স্টেতে সস্তায় মাথা গোঁজা খাওয়াও মিলবে। একটু পরিকল্পনা করে পা বাড়ান।

    পাহাড়ে বা সমুদ্রে বেড়াতে গিয়ে কেউ চার দিনে ২০ হাজারও খরচ করতে পারেন, আবার যদি বেড়ানোটাই উদ্দেশ্য হয় তবে চার হাজারেও ঘুরতে পারেন।গুড় ঢাললে মিষ্টি হবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই, কিন্তু আপনি পাঁচ হাজার টাকার হোটেলে রাত্রিবাস করলেও যে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখবেন, ৬০০ টাকার হোটেলেও তাই। তফাত্ পাঁচ হাজারের ঘরে বসেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাবে আর সস্তার হোটেল থেকে বাইরে বেরিয়ে পাহাড় দেখতে হবে। টাকার জন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বদলাবে না। আর খাওয়া নিয়ে ট্যাবু না থাকলে, যে জায়গায় যাবেন সেখানকার খাবার খান। খরচ কমে যাবে, ঝক্কিও।