সোমবার, অক্টোবর 26, 2020

ফুলসজ্জার টানে দোকান্ডায়
ফুলসজ্জার টানে দোকান্ডায়

ফুলসজ্জার টানে দোকান্ডায়

ফটো ক্রেডিট : সুস্মিতা মণ্ডল

  • scoopypost.com - Feb 02, 2020
  • দূর থেকে দেখলে যেন রঙের খেলা। হলুদ, কমলা, সাদা। কোথাও আবার রংবেরঙের বাহার।

    যেদিকে চোখ যায় শুধু ফুল আর ফুল। গাঁদা, অ্যাস্টর, চন্দ্র মল্লিকা। হালকা হাওয়ায় মাথা দুলিয়ে কাছে ডাকছে। কংক্রিটের জঙ্গলে থেকে হাঁফিয়ে ওঠা মানুষের পক্ষে সে ডাক অগ্রাহ্য করা অসম্ভব।তাই হাতে ঘণ্টা ছয়-সাতেক সময় থাকলেই হাওড়া থেকে উঠে পড়তে পারেন ট্রেনে। গন্তব্য পাঁশকুড়ার পরের স্টেশন ক্ষীরাই। সেখান থেকে রেললাইনের ধার দিয়ে হাঁটতে থাকলেই পৌঁছে যাওয়া যায় কাঁসাই নদীর পাড়ে ফুলের রাজ্যে।

    রেললাইন সংলগ্ন কাঁসাইয়ের ব্রিজ। সেখান থেকে ডাঁয়ে ফিরলে শুধু ফুল আর ফুল। ফুলের মাঝে মাথা উঁচিয়ে রয়েছে তাল গাছ।গ্রামের নাম দোকান্ডা। দশক ধরেই ফুলের চাষ এখানে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া আর অফবিট ডেস্টিনেশনের খোঁজ করতে গিয়েই বছর দুই হল ‘ফেমাস’ হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের এই ফুল চাষের জায়গা।

    কাঁসাই এখন নদীর বদলে বড় নালা। লোকে ছুটছে ফুলের শোভা দেখতে। আসলে শহুরে মানুষ বাড়িঘর, দোকানপাট, রাস্তাঘাট, হোর্ডিং-এর আড়ালে নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, নদী কোথায় আর দেখতে পায়। আর তার সঙ্গে যদি দিগন্ত জোড়া ফুল মেলে তবে তো কথাই নেই!

    সেই গুণেই দর্শক টানছে দোকান্ডা।খেত থেকে রংবেরঙের অ্যাস্টর তুলে বিক্রি করছেন ফুল চাষিরাও।চলছে একের পর এক ক্লিক। শুধু ফুল দেখাইতো নয়, পুরো চত্বর যেন ফটো শ্যুটের মঞ্চ।কাঁসাইয়ের এক পাড়ে যখন হলুদ, কমলা, চিনে গাঁদা মাথা দোলাচ্ছে অন্য পাড়ে তখন ডাকছে সাদা, হলুদ চন্দ্র মল্লিকা। রেষারেষি দুই পাড়ে। কোন দিকে যাবেন আপনি।তবে গেলে না-হয় দুদিকই ঘুরুন। রূপে, গুণে কেউই কারও থেকে কম যায় না।

    আর পাঁশকুড়া সংলগ্ন এই গ্রামে যাওয়া না তো খরচ সাপেক্ষ না সময় সাপেক্ষ। হাওড়া থেকে মিনিট ১৫-২০ অন্তর ট্রেন যাচ্ছে। সময় লাগবে ঘণ্টা দুই। ফাঁকা ট্রেন। কোনও চাপই নেই। তবে হ্যাঁ, হাতে সময় কিন্তু এখন আর নেই। শীত শেষ, ফুল শেষ। আরও সপ্তাহখানেক পেতে পারেন। তাই আর দেরি না করে একবার ঘুরেই আসুন ফুলবাগিচা পাঁশকুড়া সংলগ্ন দোকান্ডায়।