মঙ্গলবার, অক্টোবর 27, 2020

দেশজুড়ে প্রেম-সৌধের খোঁজে
দেশজুড়ে প্রেম-সৌধের খোঁজে

দেশজুড়ে প্রেম-সৌধের খোঁজে

  • scoopypost.com - Feb 14, 2020
  • ভালোবাসার স্মৃতিসৌধ। বললেই মাথায় আসে তাজমহলের কথা। বেগম মুমতাজের স্মৃতিতে এমন এক সৌধ তৈরি করিয়েছিলেন সম্রাট শাহজাহান যা বিশ্বের কাছে বিস্ময়!অদ্ভূত সুন্দর এর স্থাপত্যশৈলী।তাজমহলের মাথায় বিশাল গম্বুজ এর অন্যতম আকর্ষণ। ভারতীয়, ইসলামিক, পারস্য, তুরস্কের স্থাপত্যের অভূতপূর্ব মিশেলে সাদা মার্বেলের তাজমহল বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি।

    কিন্তু ভালোবাসার স্মৃতিসৌধ শুধু শাহজাহানই তৈরি করাননি তাঁর প্রিয়তমা বেগমের জন্য। ভালোবাসার মানুষের জন্য ভারতের আনাচ-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে এমন অনেক স্মৃতিসৌধ যা তাজমহলের চেয়েও বিস্ময়কর। সেই সমস্ত স্মৃতিসৌধ ইউনেস্কোর হেরিটজ সাইটের তকমা পেয়েছে।

    ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেনটাইন্স ডে-তে জেনে নিন ভারতের সেই সমস্ত ভালোবাসার স্মৃতিসৌধের কথা, যার প্রত্যেকটিতে রয়েছে বিশেষ স্থাপত্যশৈলী।

    রানি কি ভা, গুজরাত


    ভালোবাসার জন্য পুরুষই সমস্ত কিছু করে কে বলেছে?

    গুজরাতের পাটানে রানি উদয়ামতী রাজা প্রথম ভীমদেবের স্মৃতিতে খুঁড়ে ফেলেন কুয়ো।না, যে সে কুয়ো নয়। ৩০ মিটার গভীর এই কুয়ো ধাপে ধাপে নেমে গিয়েছে। কুয়োর দেওয়াল জুড়ে অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী।৮০০-এর বেশি ছবি রয়েছে এখানে। বিভিন্ন দেবদেবীকে উৎসর্গ করা হয়েছে সেগুলো। প্রতিবছর এই ঐতিহাসিক স্থান দেখতে ভিড় করেন অসংখ্য পর্যটক।সরস্বতী নদীর তীরে রানি কি ভাও বা রানির কুয়ো।১০৬৩ খ্রিষ্টাব্দে রাজার স্মৃতিতে রানি এই বিশাল ইঁদারা খনন করান। সোলাঙ্কি বংশের রাজা ছিলেন ভীমদেব।

    দীর্ঘদিন সরস্বতী নদীর জলের নীচে ছিল এটি।আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার উদ্যোগে ১৯৮০ সালে ঐতিহাসিক ইঁদারাটি প্রকাশ্যে আসে।

    হুমায়ুন সৌধ, দিল্লি


    এই সৌধও সম্রাট হুমায়ুনের জন্য করেছিলেন তাঁর বেগম। বেগা বেগম ১৫৬০ সালে তৈরি করান বেলে পাথরের এই স্মৃতিসৌধ। একঝলক দেখলে তাজমহল বলে ভ্রম হতেই পারে। তফাৎ শুধু মার্বেল আর বেলে পাথরের। আদল অনেকটাই এক। অনেকে মনে করেন, হুমায়ুনের স্মৃতি সৌধর অনুকরণেই শাহজাহান তাজমহল তৈরি করিয়েছিলেন।

    পার্সি স্থাপত্য চোখে পড়ে এই স্মৃতিসৌধে। ১৯৯৩ সালে ইউনেস্কো এই স্মৃতিসৌধকে হেরিটেজ ঘোষণার পরও অনাদরে পড়েছিল দিল্লির এই অসাধারণ স্থাপত্যকীর্তিটি।নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল সৌধ। ফাটল দেখা দিয়েছিল প্রবেশদ্বারে।খসে পড়ছিল চাঁই। ২০০৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের উদ্যোগে আগা খান ট্রাস্ট ফর কালচার সৌধ পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব নেয়।আর্কিও লজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার যৌথ উদ্যোগে স্মৃতিসৌধটিকে পুরনো রূপে ফেরানো হয়। ছ বছর ধরে স্থপতীরা সংস্কারের কাজ করেন।

    আবদুর রহিম খান-ই খানার স্মৃতিসৌধ, দিল্লি


    শাহজাহান, মুমতাজের জন্য স্মৃতিসৌধ বানিয়েছিলেন, জানে বিশ্ববাসী। কিন্তু শাহজাহানের অনেক বছর আগে প্রিয়তমা বেগমের জন্য স্মৃতিসৌধ বানিয়েছিলেন আরও একজন। তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী। আকবরের নবরত্ন সভার এর রত্ন। অনুমান করা হয় আবদুর রহিম খানই প্রথম যিনি তাঁর বেগমের স্মৃতিতে সৌধ তৈরি করান। আর ওই অঞ্চলে কোনও মহিলার জন্য স্মৃতি সৌধ ছিল এটাই প্রথম।

    রহিম দাস নামে জনপ্রিয় ছিলেন আকবরের নবরত্ন সভার এই কবি। তাঁর বেগম মাহ বানু। মাহ বানুর সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। তিনি ছিলেন জিজি অঙ্গার মেয়ে। মির্জা আজিজ কোকার বোন। আকবরকে পালন করেছিলেন তিনি।

    ভক্তি আন্দোলনের সময় রহিম দাস কৃষ্ণকে নিয়ে কবিতা লেখেন।ইসলামিক ও হিন্দু স্থাপত্যের অসাধারণ মেলবন্ধন দেখা যায় এই স্মৃতিসৌধে।১৬২৭ সালে রহিম দাসের মৃত্যুর পর তাঁর বেগমের পাশে এখানেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। এই স্মৃতিসৌধ তাই তাঁর নামে বেশি পরিচিত।

    বিবি কা মাকবারা, মহারাষ্ট্র


    এক ঝলক দেখলে মনে হতেই পারে তাজমহল। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে এই স্মৃতিসৌধটি তৈরি হয়েছিল ঔরঙ্গজেবের প্রথম স্ত্রী দিলরস বানু বেগমের স্মৃতিতে। সৌধের সামনে রাখা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ফলকে লেখা ঔরঙ্গজেবের ছেলে আজম খান তাঁর মায়ের স্মৃতিতে এই সৌধটি নির্মাণ করেন। শোনা যায় আকবরের তাজমহলের থেকেও বড় ও চমকপ্রদ কিছু তৈরি করতে চেয়েছিলেন আজম খান। কিন্তু আর্থিক কারণ ও ঔরঙ্গজেবের জন্যই তা হয়নি।

    তবে এই স্থাপত্যকীর্তিও মনে দাগ কাটার মতো। এর ভেতরের গম্বুজ, কারুকাজ, সৌধরে মার্বেলের জাল অসাধারণ।