মঙ্গলবার, অক্টোবর 27, 2020

লকডাউনে মুক্তির খোঁজ, বেড়ানোর নতুন নিয়ম
লকডাউনে মুক্তির খোঁজ, বেড়ানোর নতুন নিয়ম

লকডাউনে মুক্তির খোঁজ, বেড়ানোর নতুন নিয়ম

  • scoopypost.com - Jul 19, 2020
  • প্রায় চার মাস হতে চলল, করোনার জন্য ঘরবন্দি সকলে। লকডাউন চললেও, কনটেনমেন্ট জোনের বাইরে নিয়ম কিছুটা শিথিল এ রাজ্যে। এখন আর জেলার সীমানা পার হতে পুলিশি পাসের দরকার হয় না। হ্যাঁ, তবে কনটেনমেন্ট জোনের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি রয়েছে। করোনা সংক্রমণের হার যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছ, তাতে সকলেরই সচেতনতা ও সাবধানতা প্রয়োজন নিঃসন্দেহে।

    কিন্তু পায়ের তলায় যাদের সর্ষে, তাঁরা তো বটেই, এখন সকলেই একটু মুক্তি খুঁজছেন। এক টুকরো খোলা আকাশ, সবুজের সান্নিধ্য চাইছেন মানুষ। দিগন্তজোড়া মাঠ, সমুদ্রের আদর, ঝাউ-এর ধারের সমুদ্রতটে ঘুরতে মন চাইছে সকলেরই। আর পাহাড়-জঙ্গলের জন্য তো মনের আকুলি-বিকুলি রয়েছেই।

    কুলতা থাকবেই, করোনাও থাকবে। ভয়াবহ ভাইরাস যে টাটা বাই বাই বলছে না আপাতত তা পরিষ্কার। তাহলে এরকম পরিস্থিতিতে কি বেড়ানো উচিত? নিজের ও অপরের জন্য ঝুঁকি হয়ে যাবে না? এই প্রশ্নই ঘুরছেন। অনেকে বের হতে চাইছেন কিন্তু বুঝতে পারছেন না। 

     পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে অনেকেই একবেলা, একরাতের জন্য মুক্তি ঘুরে বেড়িয়ে আসছেন। তেমন ভ্রমণপ্রিয় মানুষের লকডাউন অভিজ্ঞতা জড়ো করেই রইল কিছু টিপস। কীভাবে কিছুক্ষণের জন্য প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে পারেন আপনি, ফুসফুস ভরে আনতে পারেন বিশুদ্ধ বাতাস তারই হদিশ থাকল। তবে সাবধান, একটু এদিক-ওদিক হলেই ফুসফুসে ঢুকে পড়তে পারে মারণ করোনা।

    বদলে যাওয়া সময়ে বেড়ানোর টিপস

    ট্রেন বন্ধ, তবে বাস চলা শুরু হয়েছে। কিন্তু যদি ক্ষণিকের মুক্তির দরকার হয় তাহলেও পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার না করাই উচিত হবে

    ব্যক্তিগত গাড়ি থাকলে খুবই ভালো। আর তরুণ প্রজন্মের জন্য রইল বাইক, স্কুটি। ব্যক্তিগত গাড়ি না-থাকলে ভাড়ার গাড়ি নিতে পারেন


    ভাড়ার গাড়ি বা নিজের গাড়ি ঠিকভাবে স্যানিটাইজ করাটা কিন্তু খুব জরুরি। গাড়ির সিট থেকে হাতল সমস্তটাই সারফেজ স্যানিটাইজার দিয়ে স্যানিটাইজ করে নিন

    সকালে বেরিয়ে বিকেল বা রাতের মধ্যে মানুষের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে ঘুরে আসা যায় এমন জায়গা নির্বাচন করুন

    বাচ্চারাও ঘরে থাকতে থাকতে ক্লান্ত, মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। তাই ওদের যদি ঘোরাতে নিয়ে যেতে বাড়তি সাবধানতা দরকার


    বাচ্চা থাকলে এমন জায়গা বাছুন যেখানে সারা দিন ঘুরে ফিরে আসা যায়

    প্রত্যেকরই মুখে মাস্ক থাকা বাধ্যতামূলক ও বারাবার হাত স্যানিটাইজার খুব জরুরি। সঙ্গে রাখুন সারফেজ স্যানিটাইজার


    বাইরের খাওয়া ও ছোঁয়াচ এড়াতে গাড়িতে বরং বাড়িতে তৈরি খাবার ও শুকনো খাবার সঙ্গে নিন

    বাইরের জল একেবারেই নয়, গাড়িতে তুলুন যথেষ্ট পরিমাণে পাণীয় ও হাত-মুখ ধোওয়ার জল

    সঙ্গে নিন পুরনো খবরের কাগজ, প্লাস্টিক, ইউজ অ্যান্ড থ্রো প্লেট, গ্লাস ভরে নিন

    নিয়ে নিন জরুরি ওষুধপত্র। বমি, জ্বর, বাচ্চাদের পেটব্যাথার মতো জরুরি কিছু ওষুধ

    সমুদ্রের ধার বা গাছের তলা কিম্বা গাড়িতে বসে যেখানেই দুপুরের খাবার খান এঁটো পাতা কিন্তু ছড়িয়ে আসা চলবে না। এঁটো জিনিস ও থালা বড় প্লাস্টিক বা জুটের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিন থাকলে সেখানেই ফেলবেন নয়তো গাড়িতে তুলে নেবেন। ডাস্টবিনে ফেললেও সেই আবর্জনাও স্যানিটাইজার স্প্রে করতে ভুলবেন না। মনে রাখবেন আপনার যেমন করোনা হওয়া কাম্য নয়, অন্যদেরও নয়। সংক্রমণ ছড়ানো যাবে না।

    রাত্রিবাসের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা


    গত মাস থেকেই ধীরে ধীরে হোটেল খুলেছে দিঘা, মন্দারমনি, তাজপুর, পুরুলিয়া, শান্তিনিকেতন-সহ বিভিন্ন জায়গায়

    করোনা বিধি মেনে যেমন হোটেল খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তেমনই পর্যটকদের জন্যও থাকছে নির্দিষ্ট গাইডলাইন

    হোটেলে রাত্রিবাস করতে গেলে জ্বর, কাশি বা এ ধরনের কোনও অসুখ, উপসর্গ থাকা চলবে না

    হোটেলে থার্মাল গান দিয়ে পর্যটকদের যেমন শরীরের তাপমাত্রা মাপা বাধ্যতামূলক তেমন হোটেল কর্মীদেরও জ্বর, সর্দি রয়েছে কি হোটেল কর্তৃপক্ষকে দেখতে হবে

    হোটেল রাত্রিবাসের পরিকল্পনা খাকলে বাচ্চা, কোনও রকম ক্রনিক অসুখ আছে এমন কেউ বা প্রবীণ মানুষদের নিয়ে যাবেন না

    লকডাউন পরবর্তী সময়ে যাঁরা হোটেল গিয়ে থেকেছেন তাঁরাই বলছেন নিয়মিত ঘর, বিছানা, বাথরুম স্যানিটাইজ করা হচ্ছে

    প্রয়োজন হলে হোটেল কর্মীদের আপনার সামনে ঘর স্যানিটাইজ করতে বলুন

    অনেকেই খুঁতখুঁতে আছেন, যাঁরা হোটেল গিয়ে তাঁদের বিছানা, বালিশ, চাদর ব্যবহার করতে চান না। বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে একটু খুঁতখুঁতে হয়ে আপনিও বিছানার চাদর নিয়ে যেতে পারেন। সেই চাদর দিয়ে খাট, বালিশ ঢাকা দিয়ে তার ওপর ঘুমান

    অবশ্যই সঙ্গে রাখুন সারফেস স্যানিটাইজার ও কমোড স্যানিটাইজার

    চাইলে হোটেলের গ্লাস, বাটি, থালায় না খেয়ে কাগজের প্লেট ব্যবহার করতে পারেন

    হোটেলের দরজার হাতল, টিভি রিমোট, বাথরুমের বেসিন-কলগুলোতে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া স্যানিটাইজার স্প্রে করে দিন ব্যবহারের আগে। এটা বাড়তি সতর্কতা

    মাস্ক অবশ্যই পরবেন। মাস্ক ছাড়া হোটেল কর্মীদের যদি দেখেন তাহলে সাবধান করবেন

    একটু সতর্ক হলে মনে হয় না করোনা আপনার পিছু নেবে।

    তবে হ্যাঁ, এই পরিস্থিতিতে এক থেকে দু’দিনের বেশি প্ল্যান না করাই ভালো

    এবার প্রশ্ন কোথায় যাবেন?


    কাছেপিঠে ঘোরার জন্য দিঘা, মন্দারমনি, তাজপুর, শংকরপুর লিস্টে রাখতেন পারেন। যদিও এখন ভ্যাপসা গরম তবে কয়েক ঘণ্টায় ঘুরে আসতে পারেন শান্তিনিকেতন থেকে। সোনাঝুরির গাছ-গাছালির মুক্ত হাওয়া খেয়ে আসতে পারেন। রইল পুরুলিয়ার গড়পঞ্চকোট-সহ আশপাশের জায়গা। যেতে পারেন গ্রামীণ হাওড়ার দিকে রূপনারায়ণের কাছে সাহিত্যিক শরত্চন্দ্রের গ্রামের ভিটে দেউলটিতেও। আর যেতে পারে দিকশূন্যপুরে। দিল্লিরোড ধরে বা বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে ধরে গাড়ি ছোটালে অনেক সবুজ প্রান্তর পাবেন।ভালো করে খুঁজলে প্রতি জেলাতেই ঘোরার ঠিকানা পেতে পারেন।

    সতর্কতা

    বেড়াতে গিয়ে করোনাকে ডেকে আনা যেমন কাঙ্খিত নয়, তেমনই আপনার জন্য অন্য কোথাও সংক্রমণ ছড়াবে সেটাও কাম্য নয়। তাই দায়িত্ব যাঁরা সঠিকভাবেই নিতে পারবেন তাঁরাই মুক্তি পেতে শর্ট ট্রিপের কথা ভাবুন। হোটেল কর্মীদের থেকে আপনি সংক্রামিত হতে পারেন, আবার আপনি উপসর্গহীন হলে তাঁরাও করোনা সংক্রমণের শিকার হতে পারে। তাই সোশ্যাল ডিসট্যন্সিং, মাস্ক, করোনা স্বাস্থ্যবিধি মানা খুব জরুরি।গ্রামাঞ্চলে বেড়াতে গেলেও লোকজন নেই এমন ফাঁকা জায়গা দেখলে তবেই গাড়ি থেকে নামুন।

    সমস্ত নিয়ম মানলে একটু একটু করে দু’পা ফেলে আবার নতুন নিয়মের ভ্রমণ ছন্দে ফিরবে সেটাই আশা।