মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

অবন ঠাকুরের স্মৃতিমাখা বাগানবাড়িতে একটা বিকেল
অবন ঠাকুরের স্মৃতিমাখা বাগানবাড়িতে একটা বিকেল

অবন ঠাকুরের স্মৃতিমাখা বাগানবাড়িতে একটা বিকেল

  • scoopypost.com - Nov 12, 2020
  • নিউ নর্মালে একটু ফাঁকা জায়গা, ভিড় এড়িয়ে যেখানে বুক ভরে শ্বাস নেওয়া যায় তার খোঁজ সকলেরই। হয়তো হাতে আছে তিন-চার ঘণ্টা। কিন্তু কোথাও একটু ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করছে, যেখানে থাকবে অনেকটা খোলা জায়গা, মুক্ত বাতাস, সবুজের ছোঁওয়া। তেমনই একটি জায়গার সন্ধান রয়েছে হুগলি জেলার কোন্নগরে। যেখানে প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে আছে ইতিহাস।অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাগানবাড়ি।


    মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের তৃতীয় ভ্রাতা গিরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৌত্র অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর বাবা গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুর।অবনীন্দ্রনাথ বিখ্যাত চিত্রশিল্পী, লেখক। ঠাকুর পরিবারের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি।তাঁরই ছোটবেলার স্মৃতিমাখা কোন্নগরের গঙ্গাপাড়ের বাগানবাড়িটি।এখানেই তিনি শিখেছিলেন কুঁড়েঘর আঁকতে।

    গঙ্গার ধারে বুড়ো বট, আম, জাম, কাঁঠালে ঘেরা বিশাল বাগানবাড়িতে ঢুকলেই আপনাকে স্বাগত জানাবে দোয়েল, ফিঙে, টিয়া, ছাতারে পাখির দল।পুটুস পাটুস করে চাইবে কাঠবেড়ালিরা। গঙ্গার দিকে তাকিয়ে বসে থাকতে থাকতে ভুলে যাবেন করোনার কথা।চাইলে বাগানবাড়ি নিজের মনে করে দোলনায় দুলতেই পারেন। শুধু শর্ত একটা থুতু ফেলা বা চারপাশ নোংরা করা যাবে না। মানতে হবে কোভিড সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি।


    দীর্ঘ লকডাউনে যত্নের অভাব হয়েছে একটু। তবে নতুন ঘাস লাগিয়ে বাগানবাড়ির শ্রী বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।গঙ্গার পাড়ে বুড়ো বট, তাল থেকে শুরু করে অসংখ্য গাছের সারি। বড় বড় গাছ নকশা করে বাঁধানো। বাগানে টিয়া, ফিঙে, বাবলার, হাঁড়িচাচাদের ডাকাডাকি শুনতে ভালোই লাগে।মূল বাড়িটি আপাতত বন্ধ। সেখানে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ছবি, জিনিসপত্র, ইতিহাস জানিয়ে মিউজিয়াম করার দাবি উঠেছে।


    এই বাগানবাড়ি একসময় প্রোমোটারদের হাতে চলে গিয়েছিল। ২০০৭ সালে বাম জমানায় বাড়িটি হেরিটেজ ঘোষণার পরও তা হাত বদলে চলে গিয়েছিল লাখোটিয়া গ্রুপের হাতে। ১ কোটি ১০ লাখের বাড়ি ভেঙে আরও কয়েক কোটি সম্পত্তি বাড়ানোর স্বপ্নে তখন লাখোটিয়া গ্রুপ বিভোর। বহুতল বানানোর পরিকল্পনা যখন চূড়ান্ত তখন সংস্কৃতি মনস্ক কিছু মানুষের লড়াইয়ে রক্ষা পায় এই সম্পদ।


    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর নৌকো চড়া, দৌরাত্ম্য, শিকার শিখেছেন এখানেই।শিখেছেন প্রথম কুঁড়েঘর আঁকা। অবনীন্দ্রঠাকুরের স্মৃতিকথায় এই বাগানবাড়ির উল্লেখ আছে। এখানেই শৈশবের ছুটি কেটেছে তাঁর। এই বাগানবাড়িতে বসে তিনি প্রথম কুঁড়েঘর আঁকা শিখেছিলেন। গরমের ছুটি কাটাতে সপরিবারে তাঁরা আসতেন। তখন অবন ঠাকুর ছোট্টটি। এই বাড়ি ছিল গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের। এখানে এসেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও। ‘ক্ষীরের পুতুল’ , ‘বুড়ো আংলা’, ‘রাজকাহিনী’ -র মতো অসাধারণ সাহিত্য সৃষ্টিকারী অবনীন্দ্রনাথের শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত বাগানবাড়ি নিউ নর্মালে আপনার ঘণ্টা দুয়েকের সুন্দর গন্তব্য হতে পারে। গঙ্গার অন্য পাড়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিমাখা পেনেটির বাড়ি। দাবি উঠেছে, গঙ্গাকে কেন্দ্র করে এই সমস্ত হেরিটেজ এলাকা সংরক্ষণ করে নতুন পর্যটন মানচিত্রর।


    কীভাবে যাবেন- ট্রেনে  হাওড়া-ব্যান্ডেল মেন লাইনে কোন্নগর স্টেশন। সেখান থেকে অটো বা টোটোয় জিটি রোডের ওপর কোন্নগর বাটা বা অরবিন্দ রোড স্টপেজ। সেখান থেকে হিন্দমোটরের দিকে একটু হাঁটলেই জিটি রোডের ওপর আছে গেট ও অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তি। বাইক, বাসেও আসতে পারেন।

    সময়- কোনও প্রবেশমূল্য নেই।খোলা থাকে সকাল দশটা থেকে বেলা ২ টো ও ৩টে থেকে ৫টা।