বুধবার, অক্টোবর 21, 2020

পূর্ণিমা রাতে ম্যাসাঞ্জোরের হাতছানি
পূর্ণিমা রাতে ম্যাসাঞ্জোরের হাতছানি

পূর্ণিমা রাতে ম্যাসাঞ্জোরের হাতছানি

  • scoopypost.com - Oct 14, 2020
  • চারপাশে সবুজ পাহাড়। মাঝে বিস্তীর্ণ জলাধার। আর গেট দিয়ে তোড়ে পড়ছে জল।

    করোনা আবহে হাঁপিয়ে উঠেছেন! একটু সবুজ, একটু প্রকৃতি আর বুক ভরা বাতাস নিতে দু’দিনের জন্য তাই পাড়ি দিতে পারেন ম্যাসাঞ্জোর ড্যাম দেখতে। ঝাড়খণ্ডের ম্যাসাঞ্জোর বর্ষা শেষে ঘন সবুজ। পাহাড়ি টিলা সবুজ গাছগাছালিতে ঢাকা। তারই মাঝে ময়ূরাক্ষীর ওপর জলাধার। আছে ২১টি লকগেট। যে বছর বর্ষায় যত বেশি বৃষ্টি হয়, সে বছর তত বেশি করে খুলে দেওয়া হয় লকগেট। প্রচণ্ড গতিতে জল বের হতে থাকে। এখানে রয়েছে জলবিদ্যুত্ প্রকল্পও।

    পাখির কলতান, খোলা আকাশ, পাহাড়, বিস্তীর্ণ মাঠ, এক ঝলক টাটকা বাতাস, টুপ করে সূর্যের ডুবে যাওয়া দেখলে যদি আপনার মন এক নিমেষে ভালো হয় যায় তাহলে বরং দুটো দিন ম্যানেজ করে ঘুরে যান ম্যাসাঞ্জোর থেকে।

    লোকজনের ভিড় নেই বললেই চলে,  রয়েছে শুধুই সবুজ প্রকৃতি। লোকজন এখন হাতেগোনা। আর বর্ষা শেষের সবুজের ছোঁয়া এখন সেখানে পুরোদমে।না, ট্রেন নেই এই মুহূর্তে। তাই আপাতত বেড়াতে গেলে ভরসা হয় বাইক, নয় চারচাকার গাড়ি। যাওয়া আসার পথে ঘুরে দেখে নিতে পারেন শান্তিনিকেতন, রানিবহাল, তিলপাড়া ব্যারেজ ।

    ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলা থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরেই ড্যাম। ভরা বর্ষায় আর পূর্ণিমা রাতে এই বাঁধের শোভাই আলাদা।একটু চুপ করে থাকলে শুনেত পাবেন, জলের শব্দর সঙ্গে প্রকৃতির শব্দও। টুপ করে পাতা পরার আওয়াজ। কখনও স্তব্ধতা ভেদ করবে রাত পাখির ডাক।আর সেই রূপে যত ডুববেন, ততই বাড়বে ভালোলাগা।

    থাকার জায়গা-ড্যামের ধারে সাজানো গোছানো ময়ূরাক্ষী রিসর্টে ঘাঁটি গাড়তে পারেন। জ্যোত্স্না ধোওয়া রাতে বারান্দায় বসে দেখবেন জলের মধ্যে চাঁদের ঝিকমিক।আজীবনের সম্পদ হয়ে থেকে যাব মনের ভেতরে। চাইলে গরম চিকেন পকোড়ার সঙ্গে ভদকা ও হুইস্কিতে ডুব দিতে পারেন। চাইলে ডুবতে পারেন প্রকৃতির নিবিড় আলিঙ্গনে।

     কীভাবে যাবেন?

    কলকাতা থেকে মোটামুটি দূর হবে ২৩০ কিলোমিটার।করোনা পরিস্থিতিতে নিজের গাড়িতে বা বাইকে যাওয়াই ভালো। গণ পরিবহণে একটু ঝামেলাই এখন। তার চেয়ে গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারেন। কলকাতা থেকে বর্ধমান-বোলপুর-সিউড়ি হয়ে পৌঁছতে পারেন ম্যাসাঞ্জোরে।শান্তিনিকেতন বা সিউড়ি যাওয়ার জন্য দুর্গাপুর এক্সপ্রেস ওয়ে বেস্ট। সিউড়ি থেকে ম্যাসাঞ্জোর যাওয়া যায় দু’ভাবে। আমজোড়া-সুলঙ্গা হয়ে অন্যটা শ্যামসুন্দরপুর হয়ে। রাস্তার ধারে ধাবায় খেতে পারেন। শান্তিনিকেতনে হল্ট করে খেতে পারেন।

    আশপাশে দেখার-রানিবহাল হয়ে ড্যামের দিকে যাওয়ার রাস্তাটা অসাধারণ সুন্দর, এখানে পাহাড়, নদী, ভ্যালি সব পাবেন। চাইলে ঘুরে আসতে পারেন দুমকা থেকেও।শান্তিনিকেতন, তারাপীঠও ঘুরতে পারেন।

    থাকার ব্যবস্থা?


    ড্যামের পাশেই রয়েছে ময়ূরাক্ষী রিসোর্ট। এদের নিজেদের পার্ক, রেস্টুরেন্ট, ভিউপয়েন্ট, সানসেট পয়েন্ট সবই রয়েছে।ঘরভাড়া ২০০০ থেকে শুরু। এসি ও নন এসি ঘর মিলবে।আছে পশ্চিবঙ্গ সরকারের যুব আবাস।পশ্চিমবঙ্গ সেচ দফতরের বাংলো। গুগল সার্চ করে তাদের পেজে গিয়ে বুকিং-এর খোঁজ খবর করতে পারেন।মহামায়া হোটেলেও খাওয়া দাওয়া সারতে পারেন।