মঙ্গলবার, অক্টোবর 27, 2020

কল্পনার পাখায় হ্রদের পাড়ে...
কল্পনার পাখায় হ্রদের পাড়ে...

কল্পনার পাখায় হ্রদের পাড়ে...

  • scoopypost.com - May 31, 2020
  • যাঁদের পায়ের তলায় সরষে, তাঁরা তো বটেই, লকডাউনে হাঁপিয়ে উঠেছেন সকলেই।

    বাইরে থেকে দরকার ছাড়া বের হওয়ার জো নেই, বেড়ানো কষ্টকল্প।স্মৃতির পাতা হাতড়ে, প্রবীণরাও ঘরবন্দি জীবনের কথা মনে করতে পারেননি।আস্তে আস্তে ছন্দে ফিরছে জীবন। যদিও করোনা ভাইরাস এখনই পিছু ছাড়ছে না। আগে জনজীবন স্বাভাবিক হোক। তারপর বেড়ানো। তাই সশরীরে ঘোরাঘুরি না-ই বা হল। কল্পনার ডানা মেলে বেড়ানোয় তো আপত্তি নেই।তাই বরং জেনে নিন ভারতের বেশ কয়েকটা সুন্দর হ্রদের কথা।

    করোনাযুদ্ধে যেদিন আমরা জিতব, সেদিন সকলে হইহই করে বেড়াব। তার আগে বরং দেখে রাখুন এর মধ্যে কোনটায় আপনি যেতে চান।

    পাহাড় থেকে সমতল, মালভূমি ভারতে রয়েছে নানা ধরনের লেক বা হ্রদ। প্রকৃতির কোলে যে হ্রদ এক নিমেষে সমস্ত খারাপ লাগা সরিয়ে দিতে পারে। তাহলে বরং শুরু হোক পাহাড় থেকে.....

    প্যাংগং লেক

    রুক্ষ ঊষর পর্বতমালা। তারই কোলে বিশাল হ্রদ। রোদ ঝলমলে দিনে স্বচ্ছ জল দেখায় আকাশনীল। চড়ে বেড়ায় রাজহাঁস। কী তার রূপ। ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় হ্রদের সেই রূপের কাছে এমনি মাথা নত হয়ে আসে। লে শহর থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে কারাকোরাম পর্বতমালার বুক চিরে এগিয়ে চলা রাস্তা। সেই রাস্তা ধরেই পৌঁছনো যায় ১৪ হাজার ৩০০ ফুট উচ্চতার প্যাংগং লেকে। ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবিটা যদি দেখে থাকেন, তাহলে অবশ্যই লেকটিও রূপোলি পর্দায় আপনার দেখা হয়েছে। এবার চাক্ষুস করুন হ্রদটি।

     

    চন্দ্রতাল

    সবুজের চিহ্নমাত্র নেই। শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। আকাশ ছোঁয়া পাহাড়। তারই কোলে টলটলে জলের এক হ্রদ।চন্দ্রতাল।যেদিকে চোখ যায় শুধু পাহাড় আর পাহাড়। কোনওটার মাথায় বরফের ছোঁয়া। সেখানেই চন্দ্রতাল। যে হ্রদ দেখতে গেলে কাঠখড় পোড়াতে হয় বইকী! আসলে বিশ্বের কোনও সুন্দরের কাছেই কি কষ্ট ছাড়া যাওয়া যায়?

    হিমাচল প্রদেশের লাওল ও স্পিতি জেলার স্পিতি উপত্যকায় অপূর্ব সুন্দর হ্রদটি। মানালি থেকে পাহাড়ি পথে বাতাল বা কুনজুম পাস। চাইলে হিমাচলের কিন্নড় জেলা হয়ে, নাকো, টাবো, কাজা পেরিয়েও আসতে পারেন বাতালে। সেখান থেকে রাস্তা গিয়েছে বেঁকে ১৪ কিলোমিটার ট্রেকিং। গাড়িও যায় দু-একটা। তবে রাস্তা বিপদসংকুল। শেষে ২ কিলোমিটার আপনাকে হাঁটতেই। সৌন্দর্যের সংজ্ঞায় এই হ্রদ ভয়ংকর সুন্দর। কারণ, অনেক উঁচু এ এলাকায় শ্বাসের কষ্ট হতে পারে। রাস্তা বিপদ সংকুল। সেই ভয়ংকর পার হলেই পাওয়া যাবে সুন্দর চন্দ্রতালকে।

    ডাল ও উলার

    ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর।ছবির মতো সাজানো প্রকৃতি। সেই প্রকৃতির সৌন্দর্যের অনেকটা জুড়ে রয়েছে শ্রীনগরের উলার ও ডাল লেক। এই হ্রদ শ্রীনগরের লাইফলাইন। পাহাড় ঘেরা হ্রদ ঘিরে গড়ে ওঠা জনজীবন। হ্রদে ছোট ছোট নৌকোয় বিক্রির জন্য যাচ্ছে সবজি, ফুল।হাউজবোটের জন্য সিলিন্ডার থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় নানা জিনিস। শিকারা টানছেন মানুষজন।শীতের ছোঁয়া আর সকালের নরম রোদ্দুরে সেই হ্রদে আতঙ্কহীন। হ্রদের পাশে পার্ক। চিনার গাছ।হ্রদ ঘিরেই দোকানপাট-বাজার, সবজি ক্ষেত। এ এক আশ্চর্য সুন্দর। কাশ্মীরে যাওয়ার ইচ্ছে সকলেরই থাকে। কিন্ত রাজনৈতিক দিক থেকে অশান্তি, জঙ্গি-নাশকতায় বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ায় কাশ্মীরের পথে। কিন্তু একদিন সেই বাধা সরবেই। আর তথন গিয়ে নিজেই দেখবেন শ্রীনগরের এই হ্রদ হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।

    গুরুদোংমার

    বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হ্রদটায় যদি যেতে চান তাহলে যেতেই হবে গুরুদোংমারে।সিকিমের লাচেন থেকে পাকদণ্ডী বেয়ে চার ঘণ্টার খাড়াই পথ। সেই পথের শেষেই রূপকথার দেশ। রূপকথাই তো, যে রূপ দেখে মুখ থেকে কথা সরে না, চোখ সরে না,তা রূপকথার রাজ্য ছাড়া কীই বা হয়।

    গ্যাংটক থেকে পাহাড়ি গ্রাম লাচেন। এপ্রিলে গেলে সে পথে আপনার সঙ্গী হবে রঙিন রডোডেনড্রন।ভোররাতে লাচেন থেকে বেরিয়ে পড়তে হয় গুরুদোংমারের উদ্দেশ্যে। আসলে এই হ্রদে যেতে সকলে পারেন না। উচ্চতা ১৭, ৮০০ ফুট। গাছপালা নেই। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। অক্সিজেনের অভাব। ১৫-২০ মিনিটও সেখানে থাকা মানে অনেক।লাচেন ছেড়ে বরফ ঢাকা পর্বতশৃঙ্গকে সঙ্গী করে খাড়াই পথ।একটা বাঁক ঘোরা মানে এক ধাক্কায় অনেকটা উঁচুতে চলে যাওয়া। তাই অনেকের শরীর মানিয়ে নিতে পারে না। তবে শরীর সঙ্গ দিলে এই হ্রদ দর্শন জীবনের সেরা প্রাপ্তি অবশ্যই।

    ছাঙ্গু

    সিকিমের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ছাঙ্গু লেক। শীতে হ্রদ হয়ে যায় বরফ। আর কপাল ভালো থাকলে বছরের যে কোনও সময়েই পেয়ে যেতে পারেন বরফ।গ্যাংটক থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে ১২,৩১৩ ফুট উচ্চতায় আপনাকে স্বাগত জানাবে ছাঙ্গু লেক। হ্রদের সৌন্দর্যতো আছেই, উপভোগ করার মতো ছাঙ্গু যাওয়ার রাস্তাও। পাহাড়ি পথে চেনা-অচেনা ঝরনা আপনাকে স্বাগত জানাবে। কখনও নেমে আসবে মেঘ। চাইলে ছাঙ্গুপাড়ে চমরিগাইয়ের পিঠেও চড়তে পারেন।আর কপাল ভালো থাকলে, ঝরে পড়বে বরফ।মার্চের মাঝামাঝি গেলেও দেখা মিলবে বরফ গলা হ্রদের।

    লোকটাক হ্রদ

    ভারত কেন, বিশ্বের কাছেও বিস্ময় লোকটাক। জানেন কি, এটা একটা ভাসমান হ্রদ। ভাবছেন হ্রদ ভাসবে কেমন করে? মণিপুরের লোকটাক হ্রদে ভেসে বেড়ায় ছোট ছোট দ্বীপের মতো ফামদি। স্থানীয় ভাষায় ফামশং।গাছপালা, জৈব পদার্থ ও মাটি মিশে তৈরি হয় সবুজ ফামদি।যেগুলো দ্বীপের মতো। এ জন্যই একে বলা হয় ভাসমান হ্রদ। লোকটাকের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে রয়েছে সবচেয়ে বড় আকারের দ্বীপ।এখানেই রয়েছে বিশ্বের একমাত্র ফ্লোটিং পার্ক কেইবুল লামজাং ন্যাশনাল পার্ক।

    পিছোলা লেক

    রাজস্থানের এই হ্রদকে কেন্দ্র করে নগরজীবন, প্রাসাদ মন্দির। লেক পিছোলা। পিছোলা উদয়পুরের অন্যতম পর্যটক আকর্ষণ।একসময় মেবারের রাজধানী ছিল উদয়পুর। চারপাশে তাই ছড়িয়ে, ছিটিয়ে থাকা ইতিহাস। পিছোলার পাশেই উদয়পুর প্যালেস। প্যালেসর ওপরের মহল থেকে হ্রদটি অসাধারণ লাগে।হ্রদের কেন্দ্র করে রয়েছে আরও অনেক পর্যটন কেন্দ্র। বাগোর কি হাভেলি, জগ মন্দির প্যালেস, মন্দির। হ্রদের ওপর রয়েছএ বিলাসবহুল হোটেলও।

    নৈনিতাল

    নৈনি নাম, তাল মানে হ্রদ। উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন হিমালয় এলাকার জনপ্রিয় জনপদ নৈনিতাল।নৈনি নামের বিশাল হ্রদকে কেন্দ্র করেই জনপদ, পর্যটন কেন্দ্র। হ্রদের একপাশে সবুজ পাহাড়, একপাশ দিয়ে গিয়েছে পাইনবন। চওড়া রাস্তা। রাস্তার ধারে বসার সুদৃশ্য বেঞ্চ। সবমিলিয়ে এই হ্রদ ও জনপদ বড়ই মনোরম। নৈনিতালের বিশাল হ্রদ প্যাডেল বোট, শিকারা দুইই চড়তে পারেন। এখানে রয়েছে সাততাল, ভীমতাল নামে আরও হ্রদ।

    ভেম্বনাদ  হ্রদ

    ভারতের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ কেরালা ব্যাকওয়াটার। এই ব্যাকওয়াটার গড়ে উঠেছে ভেম্বনাদ হ্রদের ওপর নির্ভর করে। ভেম্বনাদ ভারতের বৃহত্তম হ্রদ। কেরালার বেশ কয়েকটি জেলজুড়ে রয়েছে বিশাল হ্রদ। অ্যালাপুজা জেলায় এই হ্রদ ভেম্বনাদু নামে পরিচিত।এই জলপথ কেরালার বেশ কয়েকটি জেলার লাইফ-লাইন। ভেনিসের সঙ্গে তুলনা টানা হয় কেরালার ব্যাক ওয়াটারের। জলপথে হাউজবোটে করে ঘোরানো হয়। চাইলে থাক যায় হ্রদের ওপর হাউজবোটেও।

    চিল্কা

    ওড়িশায় অবস্থিত চিল্কা পর্যটন মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশাল হ্রদটি পুরী, খুরদা ও গনজাম জেলার ওপর দিয়ে বিস্তৃত।ডলফিন তো রয়েইছে মূলত পক্ষীপ্রেমীদের কাছে এই হ্রদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফি বছর অসংখ্যা পরিযায়ী পাখি আসে এই হ্রদে। হ্রদ ঘিরে গড়ে উঠেছে একাধিক পর্যটন ক্ষেত্র।