সোমবার, অক্টোবর 26, 2020

লকডাউনে ভার্চুয়ালি ঘুরুন মিউজিয়াম
লকডাউনে ভার্চুয়ালি ঘুরুন  মিউজিয়াম

লকডাউনে ভার্চুয়ালি ঘুরুন মিউজিয়াম

  • scoopypost.com - May 18, 2020
  • রত্নভাণ্ডার। 

    যেখানে নামী-দামি হিরে, জহরতের চেয়েও ইতিহাসের দুষ্প্রাপ্য নির্দশন মেলে, যেখানে থেকে শুরু হয় শিক্ষা, যে স্থান জ্ঞানের আকর সেই জায়গাকে রত্নভাণ্ডার ছাড়া কী-ই বলা যায়। মিউজিয়াম। বাংলায় যাদুঘর। যাদুঘরই বটে। প্রাগৈতিহাসিক যুগের বিশাল বিশাল গাছের গুঁড়ি থেকে বিশাল বিশাল হাতির দাঁত, মমি, তিমির কংকাল, ইতিহাসের নানা প্রস্তর খন্ড এমন সমস্ত জিনিসেই ভরপুর ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম। শুধু ভারত নয়, বিশ্বে ৬০ হাজারের বেশি নানা ধরনের মিউজিয়াম আছে।যা আমাদের ইতিহাসকে বুঝতে সাহায্য করার পাশাপাশি দিশা দেখায় ভবিষ্যতের।

    আজ, ১৮ মে ইন্টারন্যাশনাল মিউজিয়াম ডে। এ নিয়ে বিশ্বের গন্যমান্যরা করছেন টুইটও

    এই প্রথম করোনার জেরে বিশ্বের বেশিরভাগ মিউজিয়াম বন্ধ। ভারতও ব্যতিক্রম নয়। করোনা সংক্রমণের ভয়ে এ দেশেও সমস্ত ধরনের মিউজিয়াম বন্ধ। তবে খোলা রয়েছে ভার্চুয়াল গ্যালারি বা ট্যুর।সরাসরি না-হলেও কোনও মিউজিয়ামের ওয়েব সাইটে ঢুকে সেখানকার জিনিসপত্র ভার্চুয়াল দেখতে ও সেগুলোর সম্পর্কে জানতে পারবেন চাইলেই।ইন্টারন্যাশনাল মিউজিয়াম ডে-তে রইল ভারতের বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় মিউজিউয়ামের হদিশ। করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেলে, জনজীবন স্বাভাবিক হলে একবার বরং ঘুরে আসুন সেখানে।

    ২০২০ সালে ইন্টারন্যাশন্যাল মিউজিয়াম ডে-র থিম সাম্য, বৈচিত্র ও অন্তর্ভুক্তিকরণ।

    বৈচিত্রের দেশ ভারত। মুঘল সাম্রাজ্য ছিল একসময় ভারত। ছিলেন ভারতের বীর রাজারাও। তারপর ব্রিটিশ শাসনকাল। তাই এদেশের ইতিহাসও বৈচিত্র্যময়। বর্ণময় ভারতের সংস্কৃতি। ভারত হল বিবিধের মাঝে মহামিলনের দেশ। আর এই সমস্ত কিছু সযত্নে তুলে রাখা বিভিন্ন মিউজিয়ামে। যেখান থেকে প্রাচীন ভারতকে চেনা সম্ভব।শুধু প্রাচীন নয় আধুনিক ভারতের শিল্প, সংস্কৃতিক নিদর্শনও রয়েছে এই সংগ্রহশালায়।

    ন্যাশনাল মিউজিয়াম, দিল্লি

    ভারতের সবচেয়ে বড় মিউজিয়াম।প্রাগৈতিহাসিক থেকে আধুনিক ভারত, রয়েছে নানা নিদর্শন।১৯৪৯ সালে স্থাপিত হয়েছিল মিউজিয়ামটি।দিল্লির জনপথ শহরে রয়েছে মিউজিয়ামটি।বিভিন্ন বিষয় ও সময়কে ধরতে রয়েছে আলাদা আলাদা বিভাগ। প্রাচীন গয়নাগাটি, আসবাব থেকে অস্ত্র, পাণ্ডুলিপি, সম্রাট অশোকের সময়ে বুদ্ধর বিভিন্ন মূর্তি থেকে শুরু করে বাসনপত্র.... এত জিনিস আছে একদিনে ভালো করে ঘুরে দেখাও সম্ভব নয়। বারবারই আমরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাই পয়সা খরচ করে। কিন্তু ভেবে দেখুন তো নিজেদের শহরে বা রাজ্যে থাকা মিউজিয়ামে আমরা কবার গিয়েছি।এবার একটু নতুনভাবে ভাবুন। তার আগে লকডাউনে দেশের যে প্রান্তেই থাকুন এক ক্লিকে দেখে নিন মিউজিয়ামের সম্পদ।

    ভার্চুয়াল ট্যুরের জন্য ক্লিক করুন http://www.nationalmuseumindia.gov.in এ।

    ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম, কলকাতা


    বাংলায় বলা হয় ভারতীয় যাদুঘর। মিশরে কাপড়ে মোড়া মমি, ওপর থেকে ঝোলানো বিশাল তিমির কংকাল, হাতির ইয়া বড় বড় দাঁত, প্রাচীন সমস্ত মূর্তি ইতিহাস,প্রাণী বিজ্ঞান, ভূগোল সবই যদি মিলেমিশে একাকার হয়, আপনার কি মনে হবে না যাদুঘরে এসেছেন।ভারতীয় যাদুঘর শুধু কলকাতা নয়, দেশের সম্পদ। বিশ্বের পর্যটকরাও কলকাতা এলে অবশ্যই ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম ঘুরে যান। ১৮১৪ সালে কলকাতার এশিয়াটিক সোস্যাইটি এটি নির্মাণ করেছিল। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন মিউজিয়ামের মধ্যে একটি পড়ে। ছেলেবেলা হয়তো আপনিও গিয়েছেন, কিন্তু আপনার বাড়ির ক্ষুদে সদস্যকে নিয়ে যাওয়া হয়নি। তাহলে বরং লকডাউন মিটলে একবার ঘুরেই আসুন। তার আগে বাড়িতে বসে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের ওয়েব সাইটে ক্লিক করে দেখে নিন নানা মহার্ঘ জিনিস ও তার ইতিহাস। ক্লিক করুন...  ttps://indianmuseumkolkata.org

    সালার জং মিউজিয়াম, হায়দরাবাদ

    যদি বিশ্বের বিভিন্ন আসবাবপত্র দেখার শখ থাকে আর শখ থাকে সৌখিনতা দেখার তাহলে অবশ্যই এই মিউজিয়ামে ঘুরে আসুন।হাতির দাঁতের সূক্ষ্ম কাজের জিনিস তো রয়েছেই। আছে চিন, জাপান, ইজিপ্ট, সিরিয়ার নানা দুর্মূল্য আর্ট ওয়ার্ক। মর্ডান পেন্টিংয়ের পাশাপাশি মিনিয়েচার পেন্টিং, বিদরি গ্যালারি, রঙিন পাথরের শিল্পকলার জেড গ্যালারি। মিউজিয়ামে প্রতিটা ঘরে রয়েছে অপার বিস্ময়।চাইলে ক্লিক করতেই পারেন মিউজিয়ামের নিজস্ব ওয়েবসাইটে। সেখানেই জানতে পারবেন কোন রত্ন ভাণ্ডার রয়েছে সেখানে। http://salarjungmuseum.in/

     

    ছত্রপতি শিবাজী সংগ্রহালয়, মুম্বই

    শিবাজি রাজে ভোঁসলে যিনি ছত্রপতি শিবাজি নামে পরিচিত ছিলেন স্বাধীন মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। বীর যোদ্ধা সেইসঙ্গে অত্যন্ত ক্ষুরধার বুদ্ধি ছিল তাঁর। মোগলদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যুদ্ধ করেছেন তিনি। মহারাষ্ট্রের সেই বীর সেনানায়কের ইতিহাস ও জিনিসপত্র সংগৃহীত রয়েছে ছত্রপতি শিবাজি বাস্তু মিউজিয়ামে।এই মিউজিয়াম বহু পুরনো। এর আগে নাম ছিল প্রিন্স অফ ওয়েলস মিউজিয়াম।১৯৯৮ সালে এর নাম বদলায়। মারাঠা সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশাপাশি এখানে রয়েছে গুপ্ত, মৌর্য, চালুক্যদের সময়ের দুষ্প্রাপ্য জিনিসপত্র।

    বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন https://www.csmvs.in/

     

    শংকর ইন্টারন্যাশানাল ডলস মিউজিয়াম, দিল্লি

      ছোট ছোট পুতুল। তাই দিয়েই তুলে ধরা হয়েছে জীবনপত্র। কী অসম্ভব নিখুঁত তার কারুকাজ। রয়েছে মিনিয়েচার আর্টও। রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট কে শংকর পিলাইয়ের সংগ্রহ দিয়েই তৈরি হয়েছে এই সংগ্রহশালা।বাহাদুর শাহ জফর মার্গে এই মিউজিয়ামটি বাচ্চাদের খুব ভালো লাগবে। রয়েছে আধুনিক নানা পুতুলও। দিল্লিতে বেড়াতে গিয়েছেন অনেকেই। কিন্তু এই মিউজিয়ামের কথা বোধহয় জানা ছিল না আপনারও। হলফ করে বলতে পারি জীবনে এত রকমের ও এত ধরনের পুতুল দেখেননি আপনি। তাই এবার সময়-সুযোগ করে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরে নিন ডলস মিউজিয়াম।আপাতত এই লিংকে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন সংগ্রহের কিছু ঝলক...

    https://www.museumsofindia.org/museum/349/shankars-international-doll-museum

     

    ক্যালিকো মিউজিয়াম, আহমেদাবাদ

    পুরনো জামাকাপড়ের সংগ্রহ নিয়ে একটি মিউজিয়াম রয়েছে আহমেদাবাদ শহরে। ক্যালিকো মিউজিয়াম।১৯৪৯ সালে গৌতম সারাভাই ও তাঁর বোন গীতার উদ্যোগে এই মিউজিয়াম তৈরি হয়।বস্ত্র শিল্পের বিবর্তন বুঝতে গেলে একবার আসতেই হবে এখানে। আর যাঁরা দেখতে চান প্রাচীন ভারতে কী ধরনের জামাকাপড় পরতেন নারী, পুরুষ, শিশুরা তাঁরাও সংগ্রহ দেখে মুগ্ধ হবেন।

    মাদ্রাজ মিউজিয়াম, চেন্নাই

    ইগমোরে অবস্থিত এই মিউজিয়ামেও ভারতের শিল্প, সংস্কৃতির চিত্র পাওয়া যায়। চালুক্য, চোল, বিজয়নগর সাম্রাজ্যের পেন্টিং, আসবাব, মূর্তি রয়েছে এখানে। মূলত দক্ষিণ ভারতের নানা নিদর্শন এখানে মেলে।

    ন্যাশনাল রেল মিউজিয়াম, দিল্লি

    চাণক্যপুরীতে ১০ একর জায়গায় রয়েছে রেলের মিউজিয়াম। আগে বাষ্পে চলত রেল। তারপর তার বিবর্তন। বিভিন্ন সময়ের ট্রেন কেমন ছিল তা জানতে চাইলে ঢুঁ মারতে হবে এই মিউজিয়ামে। সকাল সাড়ে ন’টা থেকে সাড়ে পাঁচটা খোলা থাকে। সোমবার ছাড়া। টয়ট্রেনের মডেল, হেরিটেজ ট্রেন ছাড়াও রয়েছে নানা ছবি ও রেলের ইতিহাস।

    তবে চিন্তার বিষয় বিশ্বজুড়ে অনেক জানা-অজানা মিউজিয়াম ও সেখানকার সংগ্রহ অর্থ ও দক্ষ শ্রমিকের সংকটে ধুঁকছে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্যই আমাদের ইতিহাস ও জ্ঞানভাণ্ডার মিউজিয়ামগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার। বিশেষত লকডাউনের জেরে ভীষণ সমস্যায় মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ। কারণ বন্ধ হয়েছে আয়। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হচ্ছে যথেষ্ট।