মঙ্গলবার, অক্টোবর 27, 2020

নদীপথে দীর্ঘতম রোপওয়ে চড়তে চলুন গুয়াহাটি
নদীপথে দীর্ঘতম রোপওয়ে চড়তে চলুন গুয়াহাটি

নদীপথে দীর্ঘতম রোপওয়ে চড়তে চলুন গুয়াহাটি

  • scoopypost.com - Aug 27, 2020
  • রোপওয়ে চড়তে ভালোবাসেন? দারুণ লাগে না, ওপর থেকে চারপাশের দৃশ্য দেখতে?

    ভ্রমণ ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়দের জন্য এবার একটা সুখবর। গুয়াহাটিতে দু’দিন হল চালু হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর রোপওয়ে।নদীর এপার থেকে ওপার প্রায় ২ কিলোমিটার পথ ৮ মিনিটে পৌঁছনো যাবে রোপওয়েতে। বাড়তি পাওনা হিসেবে থাকছে ব্রহ্মপুত্র নদের শোভা, নদের ওপর ছোট ছোট দ্বীপের সৌন্দর্য, নদীপথের উমানন্দ মন্দির।দীর্ঘ পরিকল্পনা শেষে অবশেষে গুয়াহাটিতে ব্রহ্মপুত্রের দুই পাড়ের যাত্রা সহজ হয়েছে। আর এটাই এই মুহূর্তে হয়ে উঠেছে ভারতের দীর্ঘতম নদী রোপওয়ে।

    পাহাড়ি পথে রোপওয়ে অনেকেই চড়েছেন। উত্তরাখণ্ডে যোশীমঠ থেকে আউলি যাওয়ার রোপওয়ে এশিয়ার দীর্ঘতম। কাশ্মীরে গুলমার্গেও রয়েছে গন্ডোলা রোপওয়ে। মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে ধুঁয়াধার জলপ্রপাতের অসাধারণ শোভা দেখার জন্যও রোপওয়ে। তবে বিস্তীর্ণ নদীপথের ওপর রোপওয়ে ভারতে আর আছে কি না, ঠিক জানা নেই।

    তিব্বতের পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্পন্ন হয়ে নদীটি অরুণাচল প্রদেশের ভারতে প্রবেশ করে। অরুণাচলে এর নাম ডিহং। অসমে দিবং ও লোহিত নামে দুটি নদী এতে মেশে। তারপর ওই নদী সমতলে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত হয়।প্রতি বছরই বিশাল ব্রহ্মপুত্র বর্ষায় ফুলে-ফেঁপে ওঠে। নদীর দুই পারের ফেরি সংযোগ বন্ধ হলেই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। কারণ, সেতু থাকলেও নদী পার করা শুধু সময় সাপেক্ষই নয়। ঘুরপথে খরচও বাড়ে।এখন যে পথ আট মিনিটে যাওয়া যাবে সেই পথ সরাইঘাট সেতু পেরিয়ে যেতে সময় লাগে ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা। নদীপথেও সময় লাগে আধঘণ্টার ওপর।

    সে কারণে ২০০৬ সালেই ব্রহ্মপুত্রের ওপর রোপওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল অসম সরকার। ২০১১ সালে কাজ শুরু হয়। ২০২০-তে তা শেষ হল। গত সোমবার থেকেই রোপওয়ে চালু হয়েছে। অসমের স্বাস্থ্য ও শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা গুয়াহাটির উন্নয়ন মন্ত্রী সিদ্ধান্ত ভট্টাচার্য রোপওয়ে উদ্বোধন করেন।৫৬ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত প্রকল্পের অবশ্য ভাড়া অত্যন্ত বেশি নয় পর্যটকদের জন্য। একমুখী যাত্রায় খরচ ৬০ টাকা। দ্বিমুখী যাত্রার টিকিট একসঙ্গে কাটলে ১০০ টাকা।

    তাই যারা দীর্ঘ লকডাউনে আটকে হাঁসফাঁস করছেন আর ভাবছেন করোনা বিদেয় হলে আপনি কোথায় যাবেন তাঁরা কিন্তু পাড়ি দিতে পারেন বাংলার কাছের রাজ্য অসমেও। গুয়াহাটিতে অনেক কিছুই দেখার আছে। আর যদি জঙ্গল ভালোবাসেন চলে যেতে পারেন কাজিরাঙা। এখানেই একমাত্র একশৃঙ্গ গন্ডারের দেখা মেলে। আর পাহাড় চাইলে যেতে পারেন শিলং-এ।

    গুয়াহাটির কয়েকটি দর্শনীয় জায়গার হদিশ রইল আপনাদের জন্য...

    কামাখ্যা মন্দির

    গুয়াহাটির পশ্চিমে নীলাচল পর্বতে কামাখ্যা মায়ের মন্দির। সতীর ৫১ পীঠের একটি কামাখ্যা মন্দর। আদি শক্তিপীঠও বটে। এখানেই পার্বতীর যোনি পড়েছিল। দেশের মানুষের কাছে অন্যতম পুণ্যভূমি এই মন্দির।এখানে কালী, তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ধূমাবতী, ছিন্নমস্তা, বগলমুখী, মাতঙ্গী ও দেবী কমলার মন্দিরও আছে।বহু প্রাচীন এই মন্দির। কালিকা পুরাণে কথিত, এই মন্দিরে পুজো দিলে সকল মনোবাসনা পূরণ হয়। কামাখ্যা আসলে শিবের পত্নী ও মোক্ষদাত্রী শক্তি।কামাখ্যায় বলিপ্রথা রয়েছে। তন্ত্রসাধকদের কাছে এ অন্যতম পীঠস্থান।

     উমানন্দ মন্দির

    ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর পিকক আইল্যান্ড। সেখানেই এই মন্দির। জলপথেই যাত্রা করতে হয়। ফেরি সার্ভিস রয়েছে।রোপওয়ের দৌলতে এই মন্দিরের ওপর দিয়ে আপনি এবার যেতে পারবেন। দেখতে পাবেন এরিয়াল ভিউ। উমানন্দ মন্দিরে শিবের উপাসনা। এছাড়াও ১০ জন দেবদেবীর মূর্তি আছে এখানে। পাহাড়ের মাথায় মন্দির। ছোট্ট দ্বীপটি গাছপালায় ঘেরা। মন্দিরে অসমের স্থাপত্যের ছোঁয়া। কথিত আছে, বহু পুরনো মন্দির স্থাপন করেছিলেন রাজা গদাধর সিংহ। ভূমিকম্পে মন্দিরের ক্ষতি হয়।১৮৯৭ সালে সেটি ফের নির্মাণ করা হয়।

    দোলগোবিন্দ মন্দির- গুয়াহাটির উত্তরপ্রান্তে কৃষ্ণের মন্দির।চন্দ্রাবতী পাহাড়ের এই মন্দিরের প্রাকৃতিক শোভাও যথেষ্ট।রয়েছে জনার্দন, নবগ্রহ মন্দিরও। এছাড়াও গুয়াহাটি মিউজিয়াম, দিঘালিপুকুরে অসম রাজ্যিক সংগ্রহালয় দেখতে পারেন।