মঙ্গলবার, অক্টোবর 27, 2020

নরকের দরজা এই গ্রহেই
 নরকের দরজা এই গ্রহেই

নরকের দরজা এই গ্রহেই

  • scoopypost.com - Jul 28, 2020
  • করোনা আবহে লকডাউন আর আনলকের লুকোচুরিতে কমবেশি সকলেই ঘরবন্দি। গরমের ছুটি বোঝা গেল না। আম, জাম, কাঁঠাল খাওয়া, হাওয়া বদলে যাওয়া হল না। হাঁসফাঁস গরমে নিদেনপক্ষে মাগনায় পাহাড়ি হিমেল হাওয়া খেয়ে আসা হল না। করোনা বহু মানুষের কাজকর্ম খেয়েছে। ওয়ার্ক ফ্রম হোম - এ স্বস্তি নেই বিশেষ। করোনা কাঁটায় মানুষের রোজগার কমেছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। বাড়িতে সব কটি মানুষের সবসময় মুখ দেখতে দেখতে এবং মুখ ঝামটানি খেতে খেতে অনেকেই ক্লান্ত। মনখারাপ, অবসাদ গ্রাস করছে। স্কুপিপোস্ট বলছে মনখারাপ করবেন না। মানসভ্রমণে চলুন আপনাদের নরকের দরজায় নিয়ে যাই। হলফ করে বলতে পারি নরক মন্দ লাগবে না। বরং প্রেমে পড়ে যেতে পারেন…...

    কোথায় আছে স্বর্গ নরক, কে বলে তা বহু দূর.....

    সবাই স্বর্গে, বেহেশতে যেতে চান কিন্তু নরক দর্শন করতে আর কে চান ! জীবনভর পরম সত‍্যবাদী যুধিষ্ঠিরকে ক্ষণিকের জন্য নরক দর্শন করতে হয়েছিল কেবলমাত্র তাঁর একটিমাত্র অর্ধ‍্য সত্য বলার জন্য। মহাভারতের যুগের কথখ ছেড়ে দিন। বেঁচে থেকে কম নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে না মানুষকে। কিন্তু নরক জায়গাটা কেমন ? মাথায় ডাঙস মেরে গরম তেলের কড়াইতে পাপী, অপ‍রাধীদের ফেলে দেয় যমদূতেরা ! গনগনে আগুনে ঠেলে ফেলে দেয় ! আগুনের কথাই যখন উঠল তাহলে জানাই এই গ্রহেই রয়েছে নরকের দরজা। আর নরকের রূপ যে এত সুন্দর, তা দেখে যে এত মুগ্ধতা তৈরি হতে পারে না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারবেন না। নরকের দরজা দেখতে গেলে আপনাদের যেতে হবে তুর্কমেনিস্তান। রাজধানী আশগাবাতের থেকে ২৬০ কি.মি দূরে দ্রাভাজ শহরের অদূরে কারাকুম মরুভূমিতে রয়েছে এই ন‍রকের দরজা। প্রায় ৫০ বছর ধরে একনাগাড়ে সেখানে আগুন জ্বলছে। জ্বলন্ত আগুনের ভাঁটা এখন সেদেশের সেরা পর্যটন ক্ষেত্র। এখানে সব থেকে কাছের গ্রাম দারওয়েজা। তাও কিন্তু বেশ কয়েক কি.মি দূরে। কারণ ৬৯ মিটার ব‍্যাস, ২০ মিটার দীর্ঘ এবং ৩০ মিটার গভীর খাদ থেকে সেই ১৯৭১ সাল থেকে একনাগাড়ে আগুন জ্বলছে। আশপাশে এত তাপমাত্রা কাছাকাছি যেতেই পারবেন না। বেশ খানিকটা দূর থেকেই আগুনের অপরূপ শোভা দেখতে হবে। রাতে এই শোভা আরও অপরূপ। ১৯৭১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের একদল অনুসন্ধানকারী কারাকুম মরুভূমি অঞ্চলে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ‍্যাসের সন্ধান চালাচ্ছিল। দুর্ঘটনাক্রমে ভূমিধসে ড্রিলিং রিগ পড়ে গিয়ে গভীর খাদ তৈরি হয়। আর তারপরেই বিষাক্ত মিথেন গ‍্যাসে গোটা এলাকা ছেয়ে যায়। পরিবেশের ব‍্যাপক ক্ষতি হতে শুরু হয়। ভূ তাত্ত্বিকদের পরামর্শে তখন ওই খাদে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের অনুমান ছিল মিথেন গ‍্যাসের ভাণ্ডার খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে এবং পরিবেশের ক্ষতি এভাবে আটকানো যাবে। কিন্তু তা হয়নি। উল্টে আজও পর্যন্ত তা জ্বলছে। এত বড় ও গভীর খাদ থেকে আগুন জ্বলার ফলে এই জায়গাটিকে ' নরকের দরজা ' নাম দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে এই জায়গাকে ' শয়তানের সুইমিংপুল ' ও বলা হয়ে থাকে।
    দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা খুব কম। কারাকুম মরুভূমি জুড়ে আছে দেশের অনেকটা আয়তন। ১৩৩ ফুট উঁচু একটি দণ্ডে সেদেশের জাতীয় পতাকা টাঙানো যা পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচুতে কোনও দেশের টাঙানো পতাকা বলে দাবি করা হয়। আরব‍্য উপন‍্যাসের সঙ্গে অনেক মিল পাবেন। আর শাহরিয়ারের মতো সুন্দরী যুবতীর অভাব নেই সেদেশে।