রবিবার, এপ্রিল 18, 2021

নৃশংস পুতুলে সাজানো দ্বীপ
নৃশংস পুতুলে সাজানো দ্বীপ

নৃশংস পুতুলে সাজানো দ্বীপ

  • scoopypost.com - Nov 07, 2020
  • মেক্সিকো সিটিতে জলরাশির মাঝে সবুজ ঘেরা দ্বীপ ' দ‍্য আইল্যান্ড অফ ডলস '। দূর থেকে গাছের ডালে মুণ্ডহীন, হাত, পা কাটা শিশুদের ঝুলতে দেখলে যে কেউ শিউরে উঠবেন। কাছে গেলে অবশ্য বোঝা যাবে শিশু নয় ওগুলো আসলে পুতুল। বিস্ময়ে এমন বীভৎস দৃশ্যের কারণ জানতে চাওয়াই স্বাভাবিক। গাছের ডালে পুতুলগুলোর হাত, পা মুণ্ডু, শরীর ছিঁড়ে কেন ঝোলানো জানতে গেলে একটু পিছনে তাকাতে হবে।

    বিশ শতকের মাঝামাঝি ডন জুলিয়ান সান্তা বরেবা নামের এক ব‍্যক্তি নিজের পরিবার এবং সমাজ থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন থাকতে জনমানবহীন নির্জন এই দ্বীপে এসে থাকতে শুরু করেন। কয়েকদিন পরে দ্বীপে ঝোপজঙ্গলে ঘেরা একটি নালার মধ্যে একটি বাচ্চা মেয়ের মৃতদেহ ভেসে আসতে দেখেন। বাচ্চা মেয়েটি জলে ডুবে ভেসে এসেছিল বলে তাঁর ধারণা হয়। মেয়েটির দেহ তুলে দ্বীপে কবর দেন তিনি। আরও কয়েকদিন পর ওই নালা দিয়ে একটি পুতুল ভেসে আসতে দেখেন তিনি। পুতুলটি তুলে রাখেন এবং তারপর থেকে বাচ্চা মেয়েটির ফিসফিস করা, ছুটে খেলে বেড়ানোর শব্দ শুনতে পান জুলিয়ান। মেয়েটির আত্মাকে শান্ত করার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে পুতুল কুড়িয়ে এনে গাছে ঝোলাতে শুরু করেন তিনি। বাচ্চারা পুতুল খেলতে গিয়ে তার হাত , পা, শরীরের নানা অংশ খুলে দেয়। নালাতে ভেসে আসা পুতুলটির সেরকমই একটি হাত একটি পা ছিল না। সংগৃহীত গোটা পুতুলগুলিরও সেভাবেই অঙ্গহানি করে জুলিয়ান গাছের ডালে ঝুলিয়ে দিত। তাঁর বিশ্বাস ছিল এতে ওই বাচ্চাটির আত্মার শান্তি পাবে।

    যদিও জুলিয়ানের পরিবারের দাবি ছিল মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন তিনি। ৫০ বছর ওই দ্বীপে বসবাসের পর ২০০১ সালে মারা যান জুলিয়ান। কিন্তু এরপর থেকে দ্বীপটি একটি পর্যটনস্থল হয়ে ওঠে। সেদেশের সরকার দ্বীপে একটি মিউজিয়াম গড়ে তোলে। দ্বীপের ইতিহাস, সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ক্লিপিং ইত্যাদি মিউজিয়ামে ঠাঁই পেয়েছে। পর্যটকরা অনেকে অবশ্য বাচ্চা মেয়েটির আত্মার শান্তি কামনায় পুতুল নিয়ে গিয়ে দ্বীপের গাছের ডালে ঝুলিয়ে দেন। দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন রহস্যে ঘেরা এই দ্বীপ এখন পর্যটকদের কাছে অদ্ভুত আকর্ষণ।