রবিবার, এপ্রিল 18, 2021

যাবেন না কি হীরক রাজার দেশে!
যাবেন না কি হীরক রাজার দেশে!

যাবেন না কি হীরক রাজার দেশে!

  • scoopypost.com - Dec 14, 2020
  • সত্যজিত রায়ের হীরক রাজার দেশে যাবেন না কি ঘুরতে? ওমা ঠাট্টা করছি না কি! কী বলছেন, ওটাতো শুটিং-এর জন্য সাজানো সেট! তা ঠিকই, তবে লোকশন তো শেট নয়।

    ওই যে যেখানে উদয়ণ পণ্ডিত-এর গুপি ও বাঘা শুন্ডির জামাতাদ্বয়ের পরিচয় হয়েছিল, মনে আছে সে জায়গা!ওই যে পাথরের আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ওরফে সিনেমার মাস্টারমশাই উদয়ণ পণ্ডিত। যেখানে গুপি-বাঘা জুতোর ম্যাজিক দিয়ে বলেছিল জলের পাশে, পাথরের ওপর।

    ভাবছেন কি, সে সব সেট নয়। সে সব এখনও অক্ষতই রয়েছে। সেই জায়গা হল পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের জয়চণ্ডী পাহাড়। এখনও শীতে যদি সেখানে যান বড়ই ভালো লাগবে।হ্যাঁ পাহাড়ের চূড়োয় যেতে সিঁড়ি ভাঙতে হবে।এক, আধটা নয় এই ধরুন শ’ চারেক। সে একটু জল খেয়ে জিরিয়ে নিয়ে উঠে পড়তে যদি পারেন যা দেখবেন অনবদ্য।

    রঘুনাথপুরের জয়চণ্ডী পাহাড় স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ক্ষেত্র। আর ভ্রমণপিপাসুদের জন্য পর্যটনক্ষেত্র। পাহাড়ের মাথায় আছে জয়চণ্ডী মায়ের মন্দির। আছে পাহাড়ি চাতালে একটি গাছ। যেখানে মনোবাসনা পূরণের জন্য গ্রামবাসী লালসুতো বাঁধেন।মায়ের মন্দির চত্বরের দেওয়ালে ঠেসান দিয়ে বসলে শীতল হাওয়ায় শরীরটা যেন জুড়িয়ে যায়।আর ওপর থেকে শহরের রূপ! সে তো নিজেকেই দেখতে হবে। চাষের ক্ষেত, জলাশয়, ধানজমি, রাস্তা, বাড়িঘর, গাছপালা সব মিলিয়ে যেন পটে আঁকা ছবি।

    এই পাহাড়কেই হীরক রাজার দেশের লোকশন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন বিখ্যাত পরিচালক সত্যজিত্ রায়।রঘুনাথপুরে জয়চণ্ডী পাহাড়ের কাছে সত্যজিত্ রায়ের নামাঙ্কিত মঞ্চ আছে।

    এই পাহাড়কে ঘিরে জানুয়ারি মাসে শুরু হয় উত্সব। পুজোঅর্চনা। বসে মেলা। হাজার হাজার পর্যটক আসেন তখন।মালভূমি এই অঞ্চলে গরম ও শীত দুটোই তীব্র। তবে পাহাড় চড়তে সুবিধে হয় শীতেই। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বারবারই জিরিয়ে নেওয়ার জায়গা পাবেন।

    পাহাড়ে ওঠার সময়- অবশ্যই জল সঙ্গে রাখুন।পারলে গ্লুকোজ, বাদাম বা চটলেট। ভরপেট খেয়ে পাহাড়ে চড়তে কষ্ট বেশি।পাহাড়ের মাথায় আলুকাবলি, ফল পেতে পারেন তবে তেমন খাবার মিলবে না।

    কীভাবে যাবেন- ট্রেন সবচেয়ে ভালো উপায়। জয়চণ্ডী পাহাড় নামে একটি স্টেশন আছে অত্যন্ত সাজানো-গোছানা। পুরুলিয়াগামী একাধিক ট্রেন জয়চণ্ডী পাহাড়ে থামে। এছাড়া পুরুলিয়া শহর বা আসানসোল থেকেও ট্রেনে আসা যায়।

    থাকার জায়গা-জয়চণ্ডী পাহাড়ের ঠিক নীচেই রয়েছে জয়চণ্ডী হিল রিসর্ট। এখানে থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন কটেজ। আছে এসিও। ভাড়  তিন হাজার থেকে শুরু। আর যদি সেখানে নাও থাকেন, রিসর্টের রেস্তোরাঁয় মধ্যাহ্ন ভোজন সারতেই পারেন। তবে পাহাড়ে ওঠার আগে খাবার অর্ডার দিয়ে গেলেই ভালো।