মঙ্গলবার, অক্টোবর 27, 2020

পরীক্ষা শেষ, গুছিয়ে ফেলুন ব্য়াগ
পরীক্ষা শেষ, গুছিয়ে ফেলুন ব্য়াগ

পরীক্ষা শেষ, গুছিয়ে ফেলুন ব্য়াগ

  • scoopypost.com - Mar 06, 2020
  • মার্চের শুরুতেই শেষ হয়েছে মাধ্যমিক। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হবে মার্চের শেষে। প্র্যাকটিক্যাল থাকলে হয়তো এপ্রিল পর্যন্ত গড়াতে পারে। তারপর তো লম্বা ছুটি। পড়ুয়াদের পড়াশোনার ক্লান্তি। আর বাবা-মায়েদের চিন্তা। দুইই যখন শেষ তখন দেরি না করে ঘুরে আসুন। পরীক্ষা শেষে ছুটিতে কোথায় যেতে পারেন রইল তারই হদিশ...

    মার্চের সময়টায় ঠান্ডা যেমন থাকে না, তেমন গরমটা অসহ্যও হয় না। তাই বসন্তের উপযোগী জায়গা বাছুন। যেখানে থাকবে ফুলের সমারোহ। যদি কাছাকাছি যাওয়ার ইচ্ছে থাকে তাহলে বরং প্ল্যান করে ফেলুন অযোধ্যাপাহাড়, দারিংবাড়ি, সাতকোশিয়া, কুলডিহা। জঙ্গল ভালোবাসলে ডুয়ার্স। পাহাড় চাইলে উত্তরবঙ্গের বিশাল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তো রয়েইছে। ঘরের কাছেই আছে সিকিম।আর রাজ্যের বাইরে বের হতে চাইলে তো রয়েছে নদী, পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গলের  সমাহার। তবে এই সময় ফুলের জায়গার পাশাপাশি পাহাড় বেছে নেওয়াই ভালো।

    অযোধ্যা পাহাড়পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়।মার্চে ঘোরার প্ল্যান থাকলে ঝট করে চলে যেতে পারেন অযোধ্যাপাহাড়। না, না পুরুলিয়া বলে টিলা ভাববেন না যেন। পাহাড় কেটে দিব্য পাকা রাস্তা চলে গিয়েছে।আর পাহাড়ি পাকদণ্ডীতে যদি পলাশের হাতছানি চান তাহলে আপনার অন্যতম পছন্দ হতেই পারে পারে পুরুলিয়া।শুধু অযোধ্যা পাহাড় নয়, এ জেলার গড়পঞ্চকোটেও পলাশের রং আপনাকে হাতছানি দেবে।অযোধ্যাপাহাড়ে থাকার জন্য সরকারি বাংলো পাবেন। দেখার জন্য আছে বামনী ফলস, ছৌ মুখোশের জন্য বিখ্যাত চড়িদা গ্রাম, আয়রণ লেক, পাখি পাহাড়, আপার ড্যাম, লোয়ার ড্যাম, মুরুগুমা ড্যাম আরও অনেক কিছু। মোটামুটি হাতে দিন তিনেক থাকলে খুব ভালোভাবে ঘুরে আসা যায় অযোধ্যাপাহাড়। চাইলে জয়চণ্ডী পাহাড়, বড়ন্তিও ঘুরে নেওয়া যায়। চাইলে যেতে পারেন গড়পঞ্চকোটও। সেখানে প্রাচীন মন্দির, পাহাড়, টিলা, জঙ্গলের পাশাপাশি কাছেই রয়েছে পাঞ্চেৎ ড্যামও।

    কীভাবে যাবেনপুরুলিয়া যাওয়ার জন্য হাওড়া ও কলকাতা স্টেশন থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন রয়েছে। রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস, হাওড়া-পুরুলিয়া এক্সপ্রেস, হাওড়া-রাঁচি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, লালমাটি এক্সপ্রেস। তালিকাটা দীর্ঘ।কলকাতা-পুরুলিয়া এসি ভলভো বাসও পাওয়া যায়।গড়পঞ্চকোট যাওয়া আরও সহজ। ট্রেনে আসানসোল গিয়ে ট্রেকার বা অটো বুক করে গড়পঞ্চকোট। কুমারডুবি স্টেশনে নেমেও যাওয়া যায়। কুমারডুবি থেকে গড় পঞ্চকোট আরও কাছে।

    দারিংবাড়িছুটি যদি ছোট হয় আর পাহাড় ঘোরার ইচ্ছে থাকে তাহলে বরং পুরীর বদলে যান ওড়িশার দারিংবাড়িতে।পুরীতে সমুদ্র আর দারিংবাড়িতে পাহাড়। বরফ মোড়া নয়, সবুজ উপত্যকা দাড়িংবাড়িতে পাইনের সঙ্গ ভালোই লাগবে। পাহাড়ি বলেই এ সময় আবহাওয়া বেশ মনোরম। সর্বনিমম্ন তাপমাত্রা মার্চ-এপ্রিলে ১৬-২২ এর মধ্যে। সর্বোচ্চ ওই ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। ঘুরে নিন দোলুরি নদী, পুতুদি ঝরনা, দাড়িংবাড়ি ঝরনা আরও অনেক কিছু। মেঘের খেলা চাইলে দাড়িংবাড়ির কাছেই চলে যেতে পারেন মেঘাতুবুরুতে। এখানে থাকার জায়গা খুব কম। রয়েছে কয়েকটা মাত্র হোমস্টে। তবে দাড়িংবাড়ি থেকে খানিক দূরে হোটেল পাবেন। তাই থাকার বন্দোবস্ত করে বেরিয়ে পড়ুন ওড়িশার কাশ্মীরে।সাতকোশিয়া, সিমলিপালের জঙ্গলও ঘুরে প্ল্যান করতে পারেন।

    কীভাবে যাবেন- দাড়িংবাড়ি ভুবনেশ্বর থেকে ২৫১ কিলোমিটার, ব্রহ্মপুর স্টেশন থেকে ১২০ কিলোমিটার। ব্রহ্মপুর থেকে গাড়ি ভাড়া করে চলে যাওয়া যায় দাড়িংবাড়ি। হাওড়া থেকে ব্রম্ভপুরের একাধিক ট্রেনও আছে।

    হিলে-বার্সেপরীক্ষা শেষ। শুরু বসন্ত। পাহাড়ে তাই ফুলের বাহার। মার্চের শেষে আর এপ্রিলে পাহাড় ভরে থাকে রঙিন ফুলে। যদি পাহাড়ের কোলে রডডেনড্রনের শোভা চান, যদি চান ঘুম ভাঙুক পাখির ডাক, আপনার আশপাশে উড়ে বেড়াক প্রজাপতিরা তাহলে বরং সিকিমের বার্সে রডডেনড্রন স্যানচুয়ারিটাই ঘুরে আসেন। এখানে কিন্তু খানিক ট্রেক করতে হয়। পরীক্ষা শেষে পাহাড়ি রাস্তায় হেঁটে ঘুরতে আপনার সন্তানের দিব্য লাগবে।হিলে থেকে বার্সে ছোট্ট ট্রেক। চার কিলোমিটার। পাহাড়ি রাস্তা জুড়ে শুধু ফুল আর ফুল। গাছে উড়ে বেড়াচ্ছে পাখি। প্রকৃতি অপরূপ। আগে থেকে ব্যবস্থা করে গেলে বার্সেতে রাত্রিবাস করা যায়। এই জঙ্গল মিশেছে সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্কের সঙ্গে। বার্সের পাশাপাশি যেতে পারেন ওখরে। এখানেও ট্রেক করতে হয়। রয়েছে রডোডেনড্রনের সম্ভার।

    কীভাবে যাবেন- যে কোনও ট্রেন ধরে নিউ জলপাইগুড়ি। সেখান থেকে গাড়িতে হিলে। দূরত্ব ১৩৫ কিলোমিটারের মতো। যেতে সময় লাগবে ঘণ্টা ৫-৬।

    কোলাখামসবুজ, শ্বেতশুভ্র পাহাড়, নীল আকাশে যদি মুক্তি খুঁজতে হয় তাহলে বরং প্ল্যান করে ফেলুন কোলাখাম। কালিম্পংয়ের লাভা থেকে আট কিলোমিটার দূরে। নেওড়া ভ্যালি ফরেস্টের গা ঘেঁষে ছোট্ট গ্রাম কোলাখাম। পরিষ্কার আকাশে সেখানে ভীষণ স্পষ্ট শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজংঘা।কাছেই আছে ছাঙ্গে ফলস চেল নদী।এর সঙ্গে জুড়ে নিতে পারেন লাভা, লোলেগাঁও ও রিশপ।

    কীভাবে যাবেন- কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে নিউমাল জংশন। সেখান থেকে লাভা। লাভা থেকে কাছেই কোলাখাম। থাকার জন্য আছে বেশ কয়েকটি হোম স্টে।

    লাচুং ও লাচেনসিকিমের অন্যতম জনপ্রিয় জায়গা লাচুং ও লাচেন। লাচুংয়ে একরাত কাটিয়ে পর দিন ঘুরে নিন ইউমথাং ভ্যালি ও জিরো পয়েন্ট। মার্চের শেষে ও এপ্রিলের শুরুতে এ যাত্রায় বরফ আপনার সঙ্গী হতে পারে। যদি এপ্রিলের শেষে যান তবে ইউমথাং ভ্যালির রঙিন ফুলের বাহার আপনাকে স্বাগত জানাবে। পাশেই খরস্রোতা লাচুং নদী। জিরো পয়েন্টে অবশ্য এপ্রিলের শেষেও বরফ পাবেন। লাচুং থেকে অন্য দিকে লাচেন। লাচেন থেকে যাওয়া যায় গুরুদোংমার লেক। তবে জায়গায় পাহাড়ের অনেক উঁচুতে। বিশেষত গুরুদোংমার লেকে অনেকেই যেতে পারেন না। শ্বাসকষ্ট হয়। তাই হার্টের সমস্যা থাকলে এই জায়গায় না যাওয়াই ভালো।

    কীভাবে যাবেন- ট্রেনে শিয়ালদা বা হাওড়া থেকে এনজেপি। সেখান থেকে গাড়িভাড়া করে বা বাসে গ্যাংটক। সেখান থেকে গাড়ি করে লাচুং।

    কুর্গরাজ্যের বাইরে অফবিট ডেস্টিনেশন চাইলে ঘুরে আসুন কর্নাটকের কুর্গে। এই জায়গাকে ভারতের স্কটল্যান্ড বলা হয়। পাহাড়ি কুর্গ ছবির মতো সুন্দর। দেশের উৎকৃষ্ট মানের কফি উৎপাদন হয় কুর্গেই। রাবার, কোকো, এলাচ চাষ হয় এখানে।অনেকেই এ জায়গার খবর জানেন না। তাই পাহাড়, সবুজ যদি ভালোবাসা হয় তাহলে চলে যান কুর্গে।

    কীভাবে যাবেন- মাদেকরি নামে একটি জায়গা থেকে কুর্গ কাছে। তাই বেঙ্গালুরু এসে সড়কপথে মাদেকরি আসতে পারেন।দূরত্ব ২৬০ কিলোমিটার। আবার বেঙ্গালুরু থেকে ট্রেনে মেঙ্গালুরু এসে মাদেকরি যেতে পারেন। মাইসোর জংশন থেকে মাদেকরির দূরত্ব ১১৭ কিলোমিটার।

    হাম্পিইতিহাসের সাক্ষী হতে চাইলে যেতে পারেন কর্ণাটকরেই এক অসাধারণ জায়গা হাম্পিতে। পাহাড়ি উপত্যকা জুড়ে ছড়িয়ে ইতিহাসের নিদর্শন।এখানেই দেখা যায় প্রাচীন বিজয়নগরের ধ্বংসাবশেষ।তুঙ্গভদ্রা নদী তীরে হাম্পিতে দেখে নিতে পারেন বিঠঠল মন্দির, বিরূপাক্ষ মন্দির, হাজারা রাম মন্দির কমপ্লেক্স।ইউনেস্কোর ওয়ালর্ড হেরটিজ সাইটে পড়ে এই হাম্পি।

    কীভাবে যাবেন- বিমান বা ট্রেনে বেঙ্গালুরু। সেখান থেকে সড়কপথে ৩০০ কিলোমিটার হাম্পি।বেঙ্গালুরু থেকে ট্রেনে হসপেট জংশন। সেখান থেকে হাম্পি ১৩ কিলোমিটার।

    কোদাইকানালতামিলনাড়ুতে পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কোলে পাহাড়ি, সাজানো জনপদ কোদাইকানাল। চা-বাগান, হ্রদ এর অন্যতম সৌন্দর্য।উচ্চতা ৭০০০ ফুট। তামিলনাড়ুর দিন্দিগান জেলার কোদাইকানাল অন্যতম জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট। বেড়াতে যেতে যদি এপ্রিল পেরিয়ে যায় তাহলেও ভাবনা নেই। কারণ, পাহাড়ি বলেই পরিবেশ এ সময় থাকবে মনোরম।এখান থেকে ঘুরে নিন কোদাই লেক, ব্রায়ান্ট পার্ক, কোকার্স ওয়াক, গুনা কেভস, ডলফিন নোজ। দেখার জায়গা রয়েছে অনেক। তবে কোদাইকানাল জায়গাটাই খুব সুন্দর।

    কীভাবে যাবেন- কোদাইকানালের সবচেয়ে কাছের এয়ারপোর্ট হল মাদুরাই।এখান থেকে দূরত্ব ১২০ কিলোমিটার।কোয়েম্বাটুর থেকেও যেতে পারেন। দূরত্ব ১৮০ কিলোমিটার।

    ভুটানঘরের কাছেই আছে ড্রুকপা রাজার দেশ। ভুটান। পারো, থিম্ফু, চেলিলা পাস, পুনাখা দেখার জায়গার তালিকাটা বেশ লম্বা। এককথায় অপরূপ ভুটান। ঝকঝকে রাস্তাঘাট। সরল মানুষজন। আর ঘরবাড়ির নিজস্ব শৈলিতে ভুটান স্বতন্ত্র। পাহাড়প্রেমীদের জন্য অবশ্যই মনে রাখার মতো জায়গা হতে পারে ভুটান।

    কীভাবে যাবেন- ট্রেনে হাওড়া বা শিয়ালদা থেকে হাসিমারা স্টেশন। সেখান থেকে জয়গাঁ। জয়গাঁয় ভুটানের প্রবেশদ্বার। এদেশে ভিসা না-লাগলেও বিশেষ পারমিশন নিতে হয়। জয়গাঁ দিয়ে ভুটান ঢোকার মুখেই আছে অফিস। সেখানে পারমিশন করিয়ে গাড়ি নিয়ে সোজা ভুটান।

    কিন্নরসুন্দরী হিমাচলের অন্যতম আকর্ষন কিন্নর। সিমলা, কুলু, মানালিক ভিড়ভাট্টার বাইরে আরও  সুন্দরের খোঁজে ঘুরে নিতে পারেন কিন্নর। সাংলা, কল্পা, ছিটকুল প্রতিটি গ্রাম পরম যত্নে তৈরি করেছেন সৃষ্টিকর্তা।এপ্রিলে আপেল না পেলেও, পাবেন রঙিন ফুলের সম্ভার। সাংলায় আছে ভীমাকালি মন্দির। কাঠের মন্দিরটির স্থাপত্যশৈলিতো আছেই, দেখলে মনে হবে পেছনের সাদাচুড়ার পাহাড়টাকে চাইলেই ছুঁয়ে ফেলতে পারবেন। কল্পা থেকে দেখা যায় কৈলাসের একাংশ। আর ছিটকুলের সৌন্দর্য বলা-কওয়ার ঊর্ধ্বে।

    কীভাবে যাবেন- হাওড়া-কাল্কা মেল ধরে কাল্কা। সেখান থেকে টয়ট্রেনে যান সিমলা। সিমলা ঘুরে গাড়ি নিয়ে সাংলা, কল্পা।চাইলে দিল্লি থেকে সড়কপথে সিমলা যেতে পারেন।

    ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্সকুড়িয়ে বাড়িয়ে দিন সাতেক ম্যানেজ করতে পারলে, আর শরীরে জোর থাকলে বরং অন্যরকম ছুটি কাটাতে বেরিয়ে পড়ুন ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স-এই উদ্দেশে। ফুলের উপত্যকা সেখানে থাকবে অপেক্ষায়। ডেইজি, ক্যালেন্ডুলা, পপি, অ্যাস্টার, জেরোলিয়াম। রং-বেরংয়ের তিনশো প্রজাতির ফুলে সেখানে হাওয়ায় মাথা দোলায়। তবে এপ্রিলের শুরুতে নয়, যান মে মাসের শুরুতে। বরফ গলে যখন ফুল ফুটবে।

    কীভাবে যাবেন- হাওড়া থেকে ট্রেন ধরে হরিদ্বার।সেখান থেকে গাড়িতে যোশীমঠ। বদ্রীনাথ যাওয়ার পথে পড়ে গোবিন্দঘাট। সেখানেই ফুলের উপত্যকার শুরু।