মঙ্গলবার, অক্টোবর 27, 2020

নিঃস্বর্গে মৃত্যুর হাতছানি!
নিঃস্বর্গে মৃত্যুর হাতছানি!

নিঃস্বর্গে মৃত্যুর হাতছানি!

  • scoopypost.com - Feb 29, 2020
  • আপনার কি খুব হতাশ লাগছে? ভীষণ একা মনে হচ্ছে? জীবনে বাঁচার কোনও কারণ নেই মনে হচ্ছে? আত্মহত্যা করবেন মনে করছেন, তাহলে একটু অপেক্ষা করুন। তার আগে একবার ঘুরে নিন ভারতের সুইসাইড পয়েন্টে। তারপর যদি এমন ইচ্ছ বেঁচে থাকে তাহলে না হয় ভাববেন...

    চারদিক ঘন সবুজ। সবুজের গা বেয়ে নেমে আসা মেঘ। পাহাড়ের মাথা থেকে যে দিকে চোখ যায়, শুধুই অপরূপ। কোথাও আবার খাড়া পাহাড়। সবুজের লেশমাত্র নেই। রয়েছে রুক্ষতা। আর সেই রুক্ষতাতেই সৌন্দর্য হয়ে উঠেছে ভয়ংকর। যেখান থেকে চোখ ফেরানো অসম্ভব। ভারতের আনাচ-কানাচে ছড়িয়ে আছে এমনই সুইসাইড পয়েন্ট। কোদাইকানাল  থেকে কিন্নর, মহারাষ্ট্র থেকে তামিলনাড়ু রয়েছে অসংখ্য পয়েন্ট। আর বেশিরভাগই পাহাড়ের মাথায়। গল্পকথাও আছে, ভালোবাসা না পেয়ে পাহাড়ের ওপর থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন প্রেমিক বা প্রেমিকা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে একবার দেখে নেবেন নাকি জায়গাগুলো? এমন স্বর্গীয় রূপ চাক্ষুষ করেও যদি হতাশা থাকে তবে দেখা যাবে..

     কল্পা সুইসাইড পয়েন্ট

    হিমাচল প্রদেশের ভীষণ সুন্দর একটা পাহাড়ি গ্রাম কল্পা। প্রকৃতি এখানে ছবির মতো। রয়েছে আপেল বাগান। কল্পা থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে আপেল বাগানের পাশ দিয়ে রাস্তা চলে গিয়েছে সুইসাইড পয়েন্টে।সেই জায়গা কেমন, কতটা সুন্দর আর ভয়ংকর নিজেই দেখুন...

    কল্পা ও রোঘির গ্রামের কাছে সুইসাইড পয়েন্ট দেখে মুগ্ধ হবেন না, এমন মানুষ এ বিশ্বে আছে কি জানা নেই। পাহাড় কাটা রাস্তার পাশে খাড়াই খাদ। যার নীচে বয়ে চলেছে নদী। কোথাও আবার নীচ পর্যন্ট দেখাও যায় না। ভয়কংর সেই রূপ। এই রূপে আত্মহারা হবেন না, এমন কারও সাধ্য আছে কি! এখানে কেউ সুইসাইড করেছিল কিনা জানা নেই, তবে এই রাস্তায় একটু এদিক-ওদিক হলেই গাড়ি পড়তে পারে খাদে। আর তাহলে যে কী হবে অনুমেয়। সেজন্যই কিনা, জানা নেই এই জায়গার নাম সুইসাইড স্পট।

    মহাবালেশ্বর

    সহ্যাদ্রি পর্বতের আগে মহারাষ্ট্রের আর একটি জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট সাবিত্রী পয়েন্ট। যাকে স্থানীয় লোক ও গাইডরা সুইসাইড পয়েন্ট বলেন।মহাবালেশ্বর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের মাথায় সাবিত্রী পয়েন্ট। তার পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে সাবিত্রী নদী। পাহাড় চূড়ার এই জায়গায় এলে নদী ও তার চারপাশের উপত্যকা চোখে পড়ে। সবুজ সেই উপত্যকার রূপে বাকরুদ্ধ হতে পারেন যে কোনও পর্যটক। আর্থার সিট ও এলিফিনস্টোন পয়েন্টের মাঝে পড়ে এটি। স্থানীয় গাইডরা গল্প শোনান, এখান থেকে নাকি কোনও এক প্রেমিক আত্মহত্যা করেছিলেন। তাই এর নাম হয়েছে সুইসাইড পয়েন্ট। তবে প্রশ্ন, এমন সুন্দর জায়গা থেকে আদৌ সুইসাইড করা যায় কী?  কারণ, এমন প্রকৃতির টানে বারবার ছুটে আসা যায়। মরলে তো আর ফেরা যায় না!

    কোদাইকানালের গ্রিন ভ্যালি ভিউ

    তামিলনাড়ুর পাহাড় ও সবুজ ঘেরা অন্যতম পর্যটক আকর্ষণের জায়গা হল কোদাইকানাল। কোদাই লেক থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের মাথার এই জায়গা থেকে চারপাশের সবুজ উপত্যকা দৃশ্যমান। যে রূপ পর্যটকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে দেয়। পাহাড়ের নীচেই গভীর খাদ। ৫ হাজার ফুট। সেখানে একবার পড়ে গেলে, বাঁচা দূরের কথা দেহেরও কোনও খোঁজ পাওয়া যাবে না। অদ্ভূত প্রকৃতির খেয়াল। অপরূপের মাঝেই থাকে বিপদের সংকেত। ভয়। সেই ভয় জয় করতে পারলেই জিত। এ পয়েন্ট কেন সুইসাইড পয়েন্ট তার নির্দিষ্ট কারণ জানা নেই। তবে একটু এদিক ওদিক হলেই যেহেতু মৃত্যুর হাতছানি, তাই হয়তো এমন নাম।

    দোদাবেতা পিক

    জীবনে যদি কিচ্ছু ভালো না লাগে, তাহলে বরং একবার উটির দোদাবেতা পিকই ঘুরে আসুন। কেন আবার, সুইসাইড পয়েন্ট দেখতে হবে তো। উটির নাম নতুন করে বলার দরকার নেই। যত বলিউড ছবি আছে, তার অনেকগুলোরই শ্যুটিং উটির পাইন বনে, পাহাড়ের ঢালে, লেকে। উটি থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে নীলগিরির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ দোদাবেতা। কন্নড় শব্দ দোদাবেতার অর্থ বড় পাহাড়।এখানে আবহাওয়া সবসমসয়ই মনোরম। দোদোবেতা পিক সুইসাইড পয়েন্ট নামে খ্যাত। সুইসাইড নয়, পাহাড় চূড়ায় দাঁড়িয়ে লম্বা একটা শ্বাস নিন। তারপর চারপাশটা দেখুন। এক পাহাড়ের পেছনে আর এক পাহাড়, তার পেছনে আর এক। সংরক্ষিত অরণ্যর মাঝে এই পাহাড় শৃঙ্গ মনের যত খারাপ লাগা এক নিমেষে হটিয়ে দেবে। খানিক চুপ করে থাকুন সেখানে। শুনতে পাবেন পাখিদের কলতান। আর কিছুক্ষণ থাকুন। হতাশার বদলে জাগবে আশা, এ দেশের, এ বিশ্বের সুন্দরকে উদ্ভাবনের।

    কুন্নুর ল্যাম্বস রক, সুইসাউড পয়েন্ট

    উটির অদূরে নীলগিরির কোলে সবুজ গালিচা বিছানো আর এক ছিমছাম জায়গা কুন্নুর। রাস্তার পাশে সবুজ চা-বাগান এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। পাহাড়, ঝরনা, চা-বাগিচায় ঘেরা এই জায়গা পর্যটকের কাছে খুবই জনপ্রিয়। কুন্নুরের ল্যাম্ব রকেই রয়েছে আরও একটি সুইসাইড পয়েন্ট। ইংরেজ ক্যাপটেন ল্যাম্বের নামে জাগয়াটির নাম। তিনি বলেছিলেন, এই পাহাড়ের রাস্তা তিনি বের করেবন। চারবারের চেষ্টায় তিনি পেরেছিলেন। ল্যাম্ব রক থেকে দেখা যায় চারপাশের অনেকটা জায়গা। পাহাড়, সবুজ, জনপদ। ল্যাম্বস রক থেকে হঁটে গেল পড়ে আরও একটা জায়গা। যেখানে খাড়া খাদ নীচে নেমে গিয়েছে। সেই খাদের দিকে তাকালে অতি বড় সাহসীর বুক কেঁপে যায়। কিন্তু চারপাশে রয়েছে অনুপম সৌন্দর্য। দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ উপত্যকা। সাজানো-গোছানো চা বাগান। না, এই জায়গা আত্মহত্যার জন্য নয়। হঠাৎ করে খাড়া পাহাড় নীচে নেমে যাওয়ায় অসাবধানতায় বিপদ হতে পারে। তাই এই জায়গার নাম সুইসাইড পয়েন্ট।