সোমবার, নভেম্বর 30, 2020

সিনিয়র সিটিজেন ডে-তে কেমন আছেন ওঁরা?
 সিনিয়র সিটিজেন ডে-তে কেমন আছেন ওঁরা?

সিনিয়র সিটিজেন ডে-তে কেমন আছেন ওঁরা?

  • scoopypost.com - Aug 21, 2020
  • শিশু দিবস, নারী দিবস, প্রেম দিবস নিয়ে মাতামাতি হলেও, আন্তর্জাতিক সিনিয়র সিটিজেন ডে বা প্রবীণ নাগরিকদের জন্যেও একটা দিন আছে সেটা বোধহয় অনেকেই জানেন না। আসলে বয়স ৬০ পার হলেই ক্রমশ গুরুত্ব কমতে থাকে মানুষগুলোর। সংসারে,সমাজে, সন্তানদের কাছে ।

    কিন্তু সারা জীবন দায়িত্ব পালনের পর ক্রমশ সন্তানের ওপর নির্ভর করতে বসা মানুষগুলো কি একটু বেশি যত্ন পেতে পারেন না ? কোভিড পরিস্থিতিতে ঝুঁকির সূচকে রয়েছেন ষাটোর্ধ্ব মানুষগুলো। কারণ, জীবন-সংসারের জোয়াল ঠেলে প্রৌঢ়ত্বে উপনীত তাঁরা। শরীরে রয়েছে ডায়াবেটিস থেকে উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসের সমস্যা-সহ নানা রোগ। কোভিড পরিস্থিতিতে ২১ অগস্ট ওয়ার্ল্ড সিনিয়র সিটিজেন ডে-তে কেমন আছেন তাঁরা?

    তবে তাঁর আগে জেনে নেওয়া যাক এই দিনটির ইতিহাস।মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগন ১৯৮৮ সালে ষাটোর্ধ্বদের নিয়ে দিবস উদযাপনের সূচনা করেন। উদ্দেশ্য ছিল উপার্জন করে সন্তান প্রতিপালন, সংসার প্রতিপালনের পর শেষ বয়সে যেন মানুষগুলো সকলের সমাদর ও সমর্থন পান। এই বয়সে এসে যেন তাঁরা সন্তানদের ওপর নির্ভর করতে পারেন।

    কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় এই বয়সের মানুষগুলো ক্রমশই একাকিত্বে ডুবে যাচ্ছেন। পুরুষরা তো বটেই, মহিলারা তার চেয়েও বেশি হতাশায় ভুগছেন। শারীরিক সমস্যা এই বয়সে তাঁদের পরনির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দেয়। সেইসঙ্গে অনেকেরই থাকে আর্থিক সমস্যা। সঞ্চয় ভাঙিয়ে খাওয়া, রোগের জন্য টাকা রাখা, প্রতি পদে মেপে চলতে হয়। বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে সিনিয়র সিটিজেনদের অবস্থা ভয়াবহ। মৃত্যুভয়, আর্থিক অনিশ্চয়তা রয়েছেই, সঙ্গে প্রবল একাকীত্ব গ্রাস করছে তাঁদের।ইউনাইটেড নেশন বা রাষ্ট্রসংঘের ২০১৯-এর একটি সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, ভারতীয় জন সংখ্যার ৬ শতাংশ এখন ৬৫ বছরের ওপরে।২০৫০ সালের মধ্যে এই অঙ্কটা হবে দ্বিগুণ অর্থাত্ ১২ শতাংশ।

    ১৯৬১-এর হিসেবে যেখানে ষাটোর্ধ্ব মানুষের অন্যের ওপর নির্ভরশীলতার হার ছিল ১০.৯ শতাংশ সেখানে ২০১১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪.২ শতাংশে।গত ন’বছরে সেই শতাংশের হিসেব আরও বেড়েছে বলেই অনুমান।

    সবচেয়ে দুঃখের কথা হল, দিনে দিনে বাড়ছে বৃদ্ধাশ্রম। ষাটোর্ধ্ব মানুষগুলো যে ক্রমশই সংসার-পরিজন থেকে ব্রাত্য হচ্ছেন ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা তারই প্রমাণ।নিজের শখ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে সংসার ও সন্তান প্রতিপালন করা বয়স্ক মানুষরাই একসময় হয়ে পড়ছেন সন্তানদের কাছে অনাকাঙ্খিত। কিংবা বদলে যাওয়া সমাজে বয়স্ক বাবা-মায়ের কানের কাছে টিকটিক করা আধুনিক ছেলে-বউমারা মেনে নিতে পারছেন না। কোথাও যেন দুই প্রজন্মের মানসিকতার ফারাক ব্যবধান বাড়াচ্ছে দুই পক্ষের। শেষ বয়সে যখন ঠাকুমা-দাদু সঙ্গ চাইছেন ছেলে-বউমা, মেয়ে-জামাই নাতি-নাতনিদের তখন কোথাও যেন অব্যক্ত দূরত্ব তৈরি হয়ে যাচ্ছে।

    আর তাই বয়সকালে নাতি-নাতনির সান্নিধ্য পাওয়ার বদলে বৃদ্ধাশ্রমের অনাত্মীয় মানুষগুলোই হয়ে উঠছেন পরম আত্মীয়।কিন্তু ভিতরে ভিতরে ভীষণ একা হয়ে পড়ছেন তাঁরা। সন্তান ও আপনজনদের কাছ থেকে এই দূরত্বের জন্য গুমরে মরছেন মানুষগুলো। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিও। পড়াশোনা শেষে ছেলে চলে যাচ্ছে বিদেশে চাকরি করতে। সেখানেই থিতু হচ্ছে বিয়ে করে। আবার যাদের একটা কি দুটো মেয়ে, তারাও বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি চলে যাচ্ছে। ফলে বাবা-মা নিজের বাড়িতেই একলা হয়ে যাচ্ছেন।এই বয়সে এসে স্বামী-স্ত্রীর কে আগে চলে যাবেন কারও জানা নেই। কিন্তু একা যিনি বেঁচে থাকছেন তাঁর কাছে বিষয়টা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আর্থিক দিক তো বটেই, ভাবাচ্ছে শারীরিক অসুস্থতাও। ২০১৮ সালের সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে এদেশে বৃদ্ধাশ্রমে ৯৭ হাজার জনের জায়গা রয়েছে।আগামী দশ বছরের মধ্যে ৯ লাখ মানুষের জায়গার দরকার হবে বৃদ্ধাশ্রমে।

    বিশ্ব প্রবীণ দিবস পালনের অর্থই হল মানুষগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া। প্রবীণ মানুষগুলো তো আপনারই জন। তাঁরাই তো কষ্ট করে সন্তান প্রতিপালন করেছেন। তবে শেষ বয়সে কেন তাঁরা একটু সমর্থন, শ্রদ্ধা, সহানুভূতি পাবেন না। কেন এত বড় বিশ্ব সংসারে একাকিত্বে ডুবে তাঁদের মৃত্যুর অপেক্ষা করতে হবে। কেন হেনস্তা হতে হবে নিজেরই ছেলে-বউমা কিংবা মেয়ে-জামাইয়ের কাছে।নারী দিবস, শিশু দিবসের পাশাপাশি তাই এই দিনটিরও গুরুত্ব বাড়ছে। এখনই সচেতন না হলে হয়তো নচিকেতার গানের সেই দিনটি সত্যি হবে আপনার জন্যও যেখানে বৃদ্ধাশ্রমে পড়ে থাকা মা বলছেন,

    “…আশ্রমের এই ঘরটা ছোট, জায়গা অনেক বেশি
    খোকা আমি দু'জনেতে থাকবো পাশাপাশি
    সেই দিনটার স্বপ্ন দেখি ভীষণ রকম
    মুখোমুখি আমি খোকার বৃদ্ধাশ্রম...”