সোমবার, নভেম্বর 30, 2020

এক দেশ এক ভোট নীতি কি আদৌ সম্ভব?
এক দেশ এক ভোট নীতি কি আদৌ সম্ভব?

এক দেশ এক ভোট নীতি কি আদৌ সম্ভব?

  • scoopypost.com - Aug 31, 2020
  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক দেশ এক ভোট নীতি কার্যকর করতে তৎপর হয়েছেন। এই নীতি রূপায়ন করতে তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারই প্রথম ধাপ হিসেবে তিনি চাইছেন এক দেশ এক ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে। ইতিমধ্যে এই নিয়ে তাঁর অফিস (পি এম ও) এক দফা বৈঠকও সেরে ফেলেছে। সূত্রের খবর এসবই আসলে মোদির এক দেশ এক ভোট নীতি রূপায়নের প্রক্রিয়ার অঙ্গ।   

    এক দেশে এক ভোটের কথা এই প্রথম নয়, আগেও হয়েছে।৩৫ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৮৩ সালে দেশের নির্বাচন কমিশন এক দেশে এক ভোট নীতি কার্যকর করার সুপারিশ করে। এরপর ১৯৯৯ সালে ল কমিশন তাদের ১৭০তম রিপোর্ট পেশ করে। বিচারপতি বি পি জীবন রেড্ডির নেতৃত্বে সেই রিপোর্টে বলা হয়, আমাদের সেই অবস্থায় ফিরে যেতে হবে যখন লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে করা হয়েছিল।

    ২০০৩ সালে এই বিষয় নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী বিরোধী নেত্রী সনিয়া গান্ধির সঙ্গে আলোচনা করেন।সেই আলোচনা বেশিদূর এগোয় নি। ২০১০ সালে বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর সঙ্গে এই একই বিষয়ে আলোচনা করেন। পরে সেই আলোচনার কথা তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন।তিনি লেখেন, আমার মনে হয় দুজনেই (মনমোহন সিং এবং প্রণব মুখোপাধ্যায়) এই বিষয়ের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন। প্রতি এক- দু বছর অন্তর দেশে কোনও না কোনও নির্বাচন হওয়া কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের পক্ষে ভাল নয়। অর্থাৎ এই এক দেশ এক ভোট বিজেপির দীর্ঘদিনের এজেন্ডা। অবস্থার পরিবর্তন হয় নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর। তিনি এই কাজ দ্রুত রূপায়ন করতে তৎপর হন।

    ২০১৫ সালে সংসদের পার্সোনেল, পাবলিক গ্রিভান্স, আইন ও বিচারে স্থায়ী কমিটি এই সংক্রান্ত এক রিপোর্ট পেশ করে।রিপোর্টে বলা হয় একসঙ্গে লোকসভা এবং বিধানসভার ভোট করা গেলে অনেক সুবিধে হবে।

    • এখন যে ভাবে আলাদা আলাদ নির্বাচন করা হচ্ছে তার জন্য যে বিপুল খরচ হয় তা বেঁচে যাবে
    • মডেল কোড অব কন্ডাক্টের কারণে উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হবে না
    • জরুরি পরিষেবা অব্যাহত থাকবে
    • দুই আলাদা নির্বাচনে যে বিপুল পরিমাণ লোকবল দরকার হয় তা আর হবে না

    কংগ্রেস এই প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করে দেয়। তৃণমূল কংগ্রেস বলে, এই প্রস্তাব ‘অগণতান্ত্রিক এবং অসাংবিধানিক’। সি পি আই এবং এন সি পি বলে, এটা বাস্তবায়িত করা সম্ভব নয়। সি পি এম-এর মতে, এই ব্যবস্থা কার্যকর করায় অনেক বাস্তব সমস্যা আছে।

    ২০০১৭ সালে নীতি আয়োগের সদস্য বিবেক দেবরায় এবং কিশোর দেশাই এক রিপোর্টে উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে খরচ হয়েছিল এক হাজার একশো পনের কোটি টাকা। ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার আটশো সত্তর কোটি টাকায়। এই হিসেব শুধুমাত্র সরকারের ব্যয়ের। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির খরচ ধরলে তা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।

    ২০১৮ সালের ৩০ অগস্ট ল কমিশন দুই নির্বাচন একসঙ্গে করার বিষয়ে তাদের রিপোর্ট পেশ করে।বিচারপতি বি এস চৌহানের নেতৃত্বে কমিশন তাদের রিপোর্টে বলে, দেশের বর্তমান সাংবিধানিক পরিকাঠামোয় লোকসভা এবং বিধানসভা ভোট একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। তা করতে হলে একাধিক সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। এর পাশাপাশি তারা অনাস্থা নিয়েও কিছু সুপারিশ পেশ করে।

    বিরোধীরা এই প্রস্তাবে তাদের আপত্তি জানিয়েছে। বিরোধীদের মতে, এই ব্যবস্থা কায়েম হলে দেশে আঞ্চলিক দলগুলির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। ভারতের বহুত্ববাদী ধারণা লুপ্ত হতে পারে। একমাত্র জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলিই নির্বাচনে সুবিধে পাবে। তাছাড়া একসঙ্গে ভোট করা হলে সংবিধান প্রদত্ত একাধিক অধিকারও ক্ষুন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থা কায়েম করে মোদি তথা বিজেপি ঘুরপথে কেন্দ্রে তাদের দীর্ঘমেয়াদি অধিকার কায়েম করতে চাইছে।