সোমবার, নভেম্বর 30, 2020

৮৭-তেও নীরায় আচ্ছন্ন সুনীল
৮৭-তেও নীরায় আচ্ছন্ন সুনীল

৮৭-তেও নীরায় আচ্ছন্ন সুনীল

  • scoopypost.com - Sep 07, 2020
  • বাঙালির চোখে অ্যাংরি ইংয়ম্যান বলতে ভেসে ওঠে বেলবটম প্যান্ট আর মাথায় ফেট্টি বাঁধা অমিতাভ বচ্চনের ছবি। কিন্তু আমাদের এ শহরেই, হৃদয়ের খুব কাছেই আরও একজন অ্যাংরি ইংয়ম্যান আছেন কবিতার বইয়ের দু’মলাটে। তাঁর বাড়ি দিকশূণ্যপুরে। নীরার জন্যে তাঁর মনখারাপ করে, আর তাঁর কাছে ধর্মগুলো সব রূপকথার মত। চিনতে পারলেন? না পারলেও তাঁর অবশ্য কিছু যায় আসে না। আজ যে তাঁর জন্মদিন। বেঁচে থাকলে ৮৭ বছর পার করতেন বাঙালির এই অ্যাংরি ইংয়ম্যান কবি-সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
    ‘‘আমার নাকি বয়েস বাড়ছে? হাসতে হাসতে এই কথাটা
    স্নানের আগে বাথরুমে যে ক’বার বললুম!
    এমন ঘোর একলা জায়গায় দু-পাক নাচলেও
    ক্ষতি নেই তো-
    হাসতে হাসতে দম ফেটে যায়, বিকেলবেলায়
    নীরার কাছে
    বলি, আমার বয়েস বাড়ছে, শুনেছো তো? ছাপা হয়েছে?’’
    ‘হঠাৎ নীরার জন্য’ কবিতাবলির ‘বয়েস’ কবিতায় লিখেছিলেন সুনীল। এই কবিতার শেষটা ছিল ‘‘নীরা, শুধু তোমার কাছে এসেই বুঝি/ সময় আজো থেমে আছে।’’
    ঠিকই তো, তাঁর কাছে আর কাজে বয়স থেমেই থাকে। কারণ, দিকশূন্যপুরের বাসিন্দাদের কারুর বয়স বাড়ে না। বয়স বাড়ে না নীললোহিতের। তবে, মাঝে মাঝে হু হু করা বৈশাখি দুপুরে বুককাঁপানো একটা দমকা হাওয়া এসে উড়িয়ে নিয়ে যায় পড়ে থাকা সময়ের মত লাল কৃষ্ণচূড়া ফুলগুলোকে। নিও-ক্লাসিক ‘একা এবং কয়েকজন’, ‘সেই সময়’, প্রথম লেখা ‘আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি’,‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘প্রথম আলো’, ‘পূর্ব-পশ্চিম’ , এখনও সম্মোহিত করে বাঙালি পাঠককে। সুনীল নিজেই তো এক সময়। ছোটবেলায় কাকাবাবু আর সন্তুর সঙ্গে বেরিয়ে সেই যে সবুজ দ্বীপের রহস্য খোঁজার পালা এখনও বোধহয় শেষ হয়নি তাঁর। এখনও কলেজস্ট্রিটে, গড়িয়াহাটে, স্টার থিয়েটারে, শিশিরমঞ্চে অথবা কোনও অলস বিকেলের পানশালায় তিনি হয়তো দাঁড়িয়েই আছেন, মুখে প্রসন্ন স্মিত হাসি আর মনে ইয়ংম্যানের ‘রাগ’ নিয়ে।
    আমেরিকায় গিয়ে বিখ্যাত কবি অ্যালেন গিনসবার্গের অতিথি হয়েছিলেন সুনীল, সঙ্গে দোসর শক্তি চট্টোপাধ্যায়। এলএসডি খাওয়ার শখ হয়েছিল তাঁদের দু’জনের.. খাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই হ্যালুসিনেশনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। নেশার ঘোর কাটলে স্ত্রী স্বাতীকে বলেছিলেন তিনি নিজেকে দেখতে পেয়েছিলেন, ছোট্ট একটা ছেলে হিসেবে গ্রামের মাঠে আলের উপর দাঁড়িয়ে। এ বাংলার গ্রাম, শহর, ধানের শিষে, ছোট ছেলের রূপকথায়, কৃত্তিবাসে, পূর্ব-পশ্চিমে সূর্যে তিনি তো থাকবেনই, সৃষ্টি আর স্রষ্টার কাছের মানুষ হয়ে।