মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

চেনা জুতোর অজানা কথা
চেনা জুতোর অজানা কথা

চেনা জুতোর অজানা কথা

  • scoopypost.com - Nov 11, 2020
  • কহিলা হবু,"শুন গো গোবুরায়,
    কালিকে আমি ভেবেছি সারা রাত্র--
    মলিন ধূলা লাগিবে কেন পায়
    ধরণীমাঝে চরণ-ফেলা মাত্র?

    ...কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জুতা আবিষ্কার’ কবিতা আমাদের অনেকেরই পড়া। শেষপর্যন্ত রাজার পা ঢেকে জুতোর ধারণা দিয়েছিলেন এক চামার।

    ...তখন ধীরে চামার-কুলপতি
    কহিল এসে ঈষৎ হেসে বৃদ্ধ,
    "বলিতে পারি করিলে অনুমতি,
    সহজে যাহে মানস হবে সিদ্ধ।
    নিজের দুটি চরণ ঢাকো, তবে
    ধরণী আর ঢাকিতে নাহি হবে।'


    সে তো অনেক আগের কথা। কিন্তু এই যে স্কুল থেকে খেলার মাঠে আমরা কেডস ব্যবহার করি, ক্যানভাসের জুতো পরি জানেন কী এই জনপ্রিয় জুতোর উত্পত্তি কীভাবে। কীভাবে তা তৈরি হয়েছিল!
    এর নেপথ্যে ছিলেন চেকোস্লোভাকিয়া টমাস। মাত্র ১০ বছর বয়েসে মাতৃহারা হয়েছিলেন ছেলেটি। বাপ-ঠাকুরদা ছিলেন দক্ষ চর্মকার। ছোট থেকেই বাবার কাছে চামড়ার কাজ শিখতে শুরু করেন। ১২ বছরেই টমাস জুতো তৈরিতে তুখোড় হয়ে উঠল।
    কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ছিল বড় কিছু করার। ১৮ বছরের টমাস দাদা আন্তোনিন ও দিদি অ্যানাকে বুঝিয়েছিলেন, একটা ছোট্ট দোকান থেকে জুতো বিক্রি করে বড় হওয়া সম্ভব নয়। তার চেয়ে ভালো জুতোর কোম্পানি করা। কারণ, তাতে অনেক জুতো বিক্রি হবে। আর কর্ম সংস্থানও হবে কিছু মানুষের। কুড়িয়ে বাড়িয়ে মাত্র ৩২০ ডলার জোগাড় করতে পেরেছিলেন তিন ভাইবোন। তা দিয়েই ১৮৯৪ তে তারা বানিয়ে ফেলেছিলেন একটি জুতোর কোম্পানি।



    মাত্র ১০ জন কর্মীকে নিয়ে শুরু হাওয়া সে কোম্পানি কিন্তু এক বছরেই দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল। কাঁচামাল কেনার টাকাও ছিল না। অন্য কেউ হলে ব্যবসা-র সেখানেই ইতি পড়ত। কিন্তু টমাস হাল ছাড়েননি। তিনি বললেন, চামড়া নেই তো কী হয়েছে, ক্যানভাস কাপড় দিয়ে বানাবো জুতো। বানাতে খরচ বেশি নয় তাই দামেও হবে সস্তা। নতুন ভাবে বাজারে এল প্রথম ক্যানভাসের জুতো (কেডস)। আর সেই জুতো বাজারে আসা মাত্রই হিট! এক বছরের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াল সেই কোম্পানি।

    তবে উত্পাদন বাড়াতে হলে আমেরিকার আবিষ্কার অ্যাসেম্বলি লাইন বস্তুটি আয়ত্ত করতে হবে বুঝেছিলেন টমাস। তাই চলে যান সেথানে। আসলে কোনও কিছু হাতে কলমে শেখার পক্ষপাতি ছিলেন তিনি। ‎ আমেরিকা থেকে ফিরে, অ্যাসেম্বলি লাইনের সাহায্যে টমাস তাঁর প্রোডাকশন বাড়িয়ে ফেললেন প্রায় ১০ গুণ। এদিকে, মারা গেলেন দাদা আন্তোনিন। দিদি অ্যানা, বিয়ে করে ব্যবসা ছেড়ে চলে গেলেন। কোম্পানি-র হাল ধরলেন টমাস। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময়, মিলিটারি জুতো তৈরির বিরাট কন্ট্রাক্ট পেলেন টমাস।



    বাস্তবতা দিয়েই জীবনে জটিল সমস্যার সহজ সমাধান করেছেন টমাস সাহেব। একবার দেখা গেল কারখানা থেকে শোরুমে নিয়ে যাওয়ার পথে চুরি যাচ্ছে জুতোর বাক্স। সকলেই বলেছিলেন নিরাপত্তা জোরদার করতে। কিন্তু টমাস সাহেব বললেন, "প্রথমে বাঁ পায়ের জুতো গুলো পাঠিয়ে দাও। তার দু’দিন পর ডান পায়ের" ! জুতো চুরি রাতারাতি বন্ধ হয়ে গেল। ওঁর জুতোর দাম-ও তাই উনি অদ্ভুত ভাবে ৯ সংখ্যাটা দিয়ে শেষ করতেন। কারণ, উনি বুঝেছিলেন ১০০-এর জায়গায় ৯৯ লিখলে ক্রেতারা বলবেন "একশো টাকারও কমে পেলাম।" সেই ট্র্যাডিশন এখনও চলছে।

    ১৯৩২ সালে সুইজারল্যান্ডে কোম্পানি-র একটি শাখা উদ্বোধন করতে গিয়ে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান টমাস সাহেব। এখন ৭২ টা দেশে ছড়িয়ে থাকা তাঁর জুতোর কোম্পানির হেড কোয়ার্টার ওই সুইজারল্যান্ডে-ই !


    টমাস সাহেবের বানানো জুতো আমরা সকলেই পরেছি। এই টমাস সাহেবে-ই হলেন বাটা শ্যু কোম্পানি-র প্রতিষ্ঠাতা টমাস বাটা।

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

     

    তথ্যসূত্র ইন্টারনেট