মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

নাটকের পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়ার আক্ষেপ ছিল সলিল চৌধুরীর
নাটকের পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়ার আক্ষেপ ছিল সলিল চৌধুরীর

নাটকের পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়ার আক্ষেপ ছিল সলিল চৌধুরীর

  • scoopypost.com - Nov 19, 2020
  • সঙ্গীত জগতের এক কিংবদন্তী সুরকার, গায়ক সলিল চৌধুরী।‘রানার’,  ‘কোনও এক গাঁয়ের বধূ’ থেকে ‘অ্যায় মেরে বতন কে লোগো’, ‘কাঁহি দূর যান দিন ঢল যায়ে’  বাংলা, হিন্দির ঘেরাটোপ ছাড়িয়ে মালায়লম থেকে এদেশের অসংখ্য ভাষার ছবিতে সুর সৃষ্টি করেছেন যিনি তাঁরই আজ ৭৫তম জন্মদিন।

    সুরকার, গীতিকার সলিল চৌধুরীর জীবন বড় বর্ণময়। কিন্তু জানেন কি, তাঁর হারানো সংকলন খুঁজে পেলেন নাট্যকার হিসেবেও পরিচিত হতে পারতেন তিনি।কমিউনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী সলিলের পেছনে পুলিশ ফেউ-এর মতো লেগে ছিল। ‘ঢেউ উঠছে কারা টুটছে’, ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা’ গানে তিনি আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়েছেন। লিখছিলেন নাটকও। দেশ তখন সবে স্বাধীন হয়েছে। সে সময় গণনাট্য সংস্থার জন্য লিখেছিলেন ‘এই মাটিতে’, ‘জনান্তিকে’, ‘সংকেত’। জনতাকে উদ্বুদ্ধ করতে পারা এই নাটক প্রথম অভিনয়ের পরই নিষিদ্ধ করেছিল স্বাধীন দেশেরে তত্কালীন সরকার। পাণ্ডুলিপি লোকচক্ষুর আড়ালে সরাতে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিল। যা আর কখনও খুঁজেই পাওয়া যায়নি।

    সলিল চৌধুরীর জীবনী নিয়ে প্রকাশিত বই জীবন উজ্জীবন এবং সলিল চৌধুরীতে এই আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন শিল্পী স্বয়ং।

    প্রতিবাদী সঙ্গীতপ্রেমী বাবার যোগ্য সন্তান ছিলেন সলিল।বাবা জ্ঞানেন্দ্রনাথ ছিলেন ডাক্তার। অসমের লতাবাড়ি চা-বাগানের সাহেব ম্যানেজার তাঁকে ভারতীয় বলে অপমানজনক কথা বলায় মেরে দাঁত ভেঙে দিয়েছিলেন। তারপর কোনওরকমে কলকাতা পালিয়ে এসেছিলেন। সঙ্গে এনেছিলেন গানের সম্ভার।

    ডাক্তার বাবার কাছেই সঙ্গীত শিক্ষা সলিলের। সেই সঙ্গে দৃঢ়চেতা বাবার নির্ভীক মানসিকতার প্রতিফলনও পড়েছিল তাঁর ওপর। ১২ বছর থেকেই খাতার পাতা ভর্তি করে কবিতা-গান লিখতেন সলিল।

    অসম থেকে এসে পড়াশোনার জন্য গড়িয়াহাটের যশোদা ভবনে দু’জন কমরেডের সঙ্গে ছিলেন। একরাতে পুলিশ হানা দেয়। সেদিন ওই দুই কমরেড ভূপতি ও সুরপতি ধরা পড়লেও, তাঁদের মায়ের বুদ্ধিমত্তায় বেঁচে গিয়েছিলেন সলিল।তবে তাঁকে এক বছর গা-ঢাকা দিতে হয়েছিল। আর তার পর যথন কলকাতা ফেরেন তখন সলিল চৌধুরীর অবাক হওয়ার পালা। কারণ তাঁর সুর ও কথায় ‘কোনও এক গাঁয়ের বধূ’ হেমন্তের কণ্ঠে বিগ হিট। গড়িয়াহাটের যশোদাভবনে যেদিন পুলিশ এসেছিল তার আগেই হেমন্তর সঙ্গে আলাপ। গান লিখে সুরটা শুধু তোলাতে পেরেছিলেন। তারপরই পুলিশি হানা। বাকি কাজ ততদিনে করে ফেলেন হেমন্ত। মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট করে রেকর্ড করেন। শুধু একবার নয়, এমন ঘটনা বারবার হয়েছিল।

    সুকান্ত ভট্টাচার্যের রানার কবিতায় সুর দিয়েছিলেন সলিল। কমিউনিস্ট-দের সঙ্গী গণনাট্যের কর্মীকে ফের পুলিশি তাড়ায় গা-ঢাকা দিতে হয়েছিল। ফিরে দেখেছিলেন ‘রানার’ রেকর্ড করেছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।

    সলিল চৌধুরী তাঁর সুরে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সঙ্গে পাশ্চাত্যের সুরকে যথাযথ ভাবে মেশাতে পেরেছিলেন। আর তাই বোধ হয় এদেশের শ্রেষ্ঠ সুরকারদের মধ্যে তিনি একজন হয়ে রয়ে গিয়েছেন।লতা, আশা থেকে গানের জগতের মহারথীরা তাঁর সুরে গেয়েছেন।৭৫টি হিন্দি চলচ্চিত্র,৪০টির বেশি বাংলা ছবি, ২৬টি মালায়লম ছবিতে সুর দিয়েছেন তিনি। অসমিয়া, তামিল, তেলুগু, মারাঠি, কন্নড়, গুজরাতি-সহ অসংখ্য ভাষাতেই অল্প-বিস্তর কাজ করেছেন সলিল চৌধুরী।