সোমবার, নভেম্বর 30, 2020

স্ট্যাচু অব লিবার্টির নীচে ড্রাগনের বাসা!
স্ট্যাচু অব লিবার্টির নীচে ড্রাগনের বাসা!

স্ট্যাচু অব লিবার্টির নীচে ড্রাগনের বাসা!

  • scoopypost.com - Aug 18, 2020
  • 'দ‍্য স্পাই হু লাভস মি' - জেমস বন্ডের ফিল্মের মতো ব‍্যাপার। মার্কিন গুপ্তচরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গোপন তথ্য জেনে ফেলার নানা ছলাকলা। অতি ধূর্ত জেমস বন্ড সেসব ফাঁদ কেটে বেরোতে জানে। কিন্তু চিনা এজেন্টের ফাঁদে পড়ে মার্কিন এজেন্টের শেষমেষ আমও গেছে, ছালাও গেছে। চিনা এজেন্টের ছদ্মবেশে মার্কিন এজেন্টের পাতা ফাঁদে পড়ে প্রাক্তন সিয়া এজেন্ট ও এফবিআই অফিসার অ্যান্ড্রু ইউক চিং মা ১৪ অগস্ট গ্রেফতার হয়েছেন। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিয়া-র কাজকর্ম, পরিকল্পনায় এতটাই গোপনীয়তা রাখা হয় এবং অপারেশন এত স্তর বিভক্ত যে তা ওই গুপ্তচর সংস্থার এজেন্টরা নিজস্ব ভূমিকার বাইরে কিছু জানতে পারেন না। দেশের সুরক্ষায় মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার গোপনীয়তার ঢাল এতদিন পর্যন্ত অটুটই ছিল। কিন্তু সেই বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো হয়ে চিনের হাতে গিয়ে পড়েছে। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) বা সিয়া এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল বুর‍্যো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) - এর অতি গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে চিনের হাতে যাওয়া যেন একেবারে বাঘের ঘরে ঘোঘের বাসা কিংবা সর্ষের মধ্যে ভূত। নাহলে বিশ্বব‍্যাপী করোনা সংক্রমণের দায় চাপিয়ে চিনকে যখন একঘরে করতে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তখন সর্বোচ্চ পর্যায়ের অতি গোপন গোয়েন্দা তথ্য চিনের কাছে ফাঁস হয়ে যায় ! আর এতেই ট্রাম্প জমানায় মার্কিন প্রশাসনের বেআব্রু দশা প্রকট হয়ে পড়েছে।
    সোমবারই হাওয়াই ফেডারেল কোর্ট প্রাক্তন মার্কিন সিয়া এজেন্ট ও এফবিআই অফিসার ৬৭ বছরের অ্যান্ড্রু ইউক চিং মা -কে দেশের অতি গোপন গোয়েন্দা তথ্য চিনা এজেন্টের কাছে ফাঁস করে দেওয়ার দায়ে অপরাধী সাব‍্যস্ত করেছে। অ্যান্ড্রু হংকংয়ে জন্মেছিলেন এবং তিনি স্বাভাবিক নিয়মে মার্কিন নাগরিক। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত তিনি সিয়া এজেন্ট হিসেবে বেজিংয়ে কর্মরত ছিলেন। পরে অবশ্য যোগ দিয়েছিলেন এফবিআই-তে। ওইসময় বেজিংয়ে এক চিনা এজেন্টের সঙ্গে তাঁর সখ‍্য গড়ে ওঠে। বন্ধুতা জমে ওঠে সুখ দুঃখের বিনিময় কথায়। চিনা এজেন্ট অ্যান্ড্রুকে অর্থের টোপ দেন এবং বলেন শুরু থেকে একদশক গুরুতর দায়িত্ব পালনের পরেও তাঁর বেতন, অন‍্যান‍্য সুবিধা আশানুরূপ নয়। এরপর থেকে চিনা এজেন্ট মার্কিন এজেন্টের থেকে অর্থের বিনিময়ে গোপন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন।
    অ্যান্ড্রুর এক আত্মীয়, ১৯৬৭ থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত সিয়া এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। এখন তাঁর বয়স ৮৫ এবং বয়সজনিত রোগে অসুস্থ। তদন্তে জানা গিয়েছে, তিনিও ২০০১ সালের গোড়া পর্যন্ত চিনের স্টেট সিকিউরিটি মন্ত্রকের কাছে মার্কিন তথ্য পাচার করেছেন।
    অ্যান্ড্রুর গতিবিধি আতসকাচের তলায় ছিল। একজন মার্কিন এজেন্ট চিনা এজেন্টের ছদ্মবেশে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে সখ‍্য গড়ে তোলে। এফবিআই তক্কে তক্কে ছিল। অত্যন্ত গোপনে চিনা এজেন্ট ছদ্মবেশে মার্কিন এজেন্টের কথোপকথন এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ঘুষ দেওয়ার অডিও এবং ভিডিও সংগ্রহ করে। এফবিআই- তেও অ্যান্ড্রু কাজ করেছেন। ফলে এফবিআই - এর তদন্তের কৃতকৌশল তাঁর অজানা থাকার কথা নয়। কিন্তু বিধি বাম। অর্থের লোভে দেশের সুরক্ষার সঙ্গে আপোস করতে দ্বিধা করেননি অ্যান্ড্রু। তার মূল্য দিতে হল গ্রেফতার হয়ে। হাওয়াই ফেডারেল কোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের চার্জ গঠন হয়ে গিয়েছে। এবার শুধু শাস্তি ঘোষণার অপেক্ষা। গতবছর নভেম্বরে চিনে কর্মরত মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিয়া- র এজেন্ট জেরি চুন সিং লী -কে গ্রেফতার করে ১৯ বছরের কারাবাসের শাস্তি দিয়েছে মার্কিন ফেডারেল কোর্ট। জেরি ১৯৯৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত সিয়া এজেন্ট ছিল। এসব শুনে মনে হচ্ছে না, এক্কেবারে ওয়েব সিরিজের গল্পের মত!