সোমবার, নভেম্বর 30, 2020

কাকরি ট্রেন লুঠ : স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অজানা কাহিনী
কাকরি ট্রেন লুঠ : স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অজানা কাহিনী

কাকরি ট্রেন লুঠ : স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অজানা কাহিনী

  • scoopypost.com - Aug 09, 2020
  • ৯ অগাস্ট ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিন গান্ধিজি ভারত ছাড় আন্দোলন শুরু করেছিলেন।  এই আন্দোলনের নামকরণ নিয়েও কিছু ঘটনা আছে যা আজ বিস্মৃতির আড়ালে চলে গিয়েছে।

    প্রথম যখন এই আন্দোলন শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তখন তার নামকরণ করা হয় ‘গেট আউট’। এই শব্দ অনেক বেশি কর্কশ বলে গান্ধি তা বাতিল করে দেন। তখন গান্ধির ভাবশিষ্য বলে পরিচিত সি রাজাগোপালাচারি প্রস্তাব দেন নাম রাখা হোক ‘রিট্রিট’। এ নামও পছন্দ হয়নি গান্ধির। সেই সময় সমাজতান্ত্রিক এবং শ্রমিক নেতা ইউসুফ মেহেরালি প্রস্তাব দেন এই আন্দোলনের নাম হোক ‘কুইট ইন্ডিয়া’। শেষ পর্যন্ত এই নামটিই গৃহীত হয়।

    একদিকে যখন দেশজুড়ে ভারত ছাড় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে তখন ব্রিটিশ সরকারকে বড়সড় ধাক্কা দিতে তৈরি হচ্ছিল সশস্ত্র আন্দোলনে বিশ্বাসী সংগঠন হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন(এইচ আর এ)। তারা পরিকল্পনা করে ব্রিটিশদের অর্থ বহনকারী ট্রেন লুঠের। সেদিনটাও ছিল এই ৯ অগাস্ট। তাঁদের সেই জীবনপণ করা সরকারি খাজানা লুঠের ঘটনা আজ হয়ত অনেকেরই স্মরণে নেই। একবার ফিরে দেখা যাক, ইতিহাসের সেই ঘটনা। কাকরি ছিল লখনউ থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরের ছোট্ট এক গ্রাম। ১৯২৫ সালের ৯ অগাস্ট এই কাকরিতেই ব্রিটিশ ট্রেজারির অর্থ লুঠ করার পরিকল্পনা করেন বিপ্লবীরা। সেই অর্থের পরিমান ছিল ৮ হাজার টাকা। আজ হয়ত এই পরিমাণ শুনে অনেকেই হাসবেন কিন্তু মনে রাখতে হবে ১৯২৫ সালে এই অর্থের পরিমাণ কী ছিল।

    সেই সময় এই এইচ আর এর নেতৃত্বে ছিলেন রামপ্রসাদ বিসমিল, আসফাক-উল্লা খান, রাজেন্দ্র লাহিড়ী, চন্দ্রশেখর আজাদ, শচীন্দ্র বক্সি, কেশব চক্রবর্তী, মন্মথনাথ গুপ্ত,মুরারি লাল গুপ্ত, মুকুন্দি লাল এবং বনোয়ারি লাল। এমার্জেন্সি টেন টেনে আট নম্বর ডাউন ট্রেন দাঁড় গার্ড ও রক্ষীবাহিনীকে কবজা করে বিপ্লবীরা টাকার ব্যাগ নিজেদের হেফাজতে নিয়েও নেন। তখনই দুর্ভাগ্যবশত আহমেদ আলি নামে এক ট্রেনযাত্রী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। বিপ্লবীদের সঙ্গে থাকা জার্মানির মাউজার পিস্তল থেকে হঠাৎই গুলি বেরিয়ে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এরপরেই ব্রিটিশ সরকার বিপ্লবীদের সন্ধানে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। এইচ আর এর প্রায় ৪০ সদস্যকে তারা গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে রামপ্রসাদ বিসমিল, ঠাকুর রোশন সিং, রাজেন্দ্র লাহিড়ী এবং আসফাক-উল্লা খানের বিরুদ্ধে ডাকাতি, লুঠ এবং খুনের অভিযোগ আনা হয়।

    চূড়ান্ত রায়ে, রামপ্রসাদ বিসমিল, ঠাকুর রোশন সিং, রাজেন্দ্র লাহিড়ী এবং আসফাক-উল্লা খানকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। এই ঘটনায় জড়িত অপর অভিযুক্ত চন্দ্রশেখর আজাদ ব্রিটিশদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন ১৯৩১ সালে। বিপ্লবীদের ফাঁসির হাত থেকে বাঁচাতে অনেক চেষ্টাও করা হয়। স্বয়ং মদনমোহন মালব্য নিজে এই বিষয়ে উদ্যোগ নেন। তৎকালীন ভাইসরয় এডওয়ার্ড ফ্রেডরিক লিন্ডেকে স্মারক লিপিও দেওয়া হয়। কিন্তু সবই খারিজ করে দেয় ব্রিটিশ সরকার। শেষ পর্যন্ত ১৯২৭ সালের ডিসেম্বরে রামপ্রসাদ বিসমিল, ঠাকুর রোশন সিং, রাজেন্দ্র লাহিড়ী এবং আসফাক-উল্লা খনের ফাঁসি হয়।

    বিপ্লবীদের হয়ত ফাঁসিতে ঝোলাতে সক্ষম হয়েছিল ব্রিটিশ সরকার, কিন্তু এই কাকরি হত্যা মামলা সারা দেশের হাজার হাজার মানুষের মনে স্বাধীনতার স্বপ্ন বুনে দিয়েছিল।

    আজ ৯ অগাস্ট  ভারত মায়ের সেই বীর সন্তানদের প্রতি স্কুপি পোস্টের সশ্রদ্ধ প্রণাম।