সোমবার, নভেম্বর 30, 2020

রহস্যে অমর নেতাজি দেশবাসীর হৃদয়ে
রহস্যে অমর নেতাজি দেশবাসীর হৃদয়ে

রহস্যে অমর নেতাজি দেশবাসীর হৃদয়ে

  • scoopypost.com - Aug 18, 2020
  • পৃথিবীর ইতিহাসে বোধহয় সবচেয়ে চর্চিত দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু যাঁকে ঘিরে আবাল বৃদ্ধ বনিতার আগ্রহের শেষ নেই। দুটি কারণে। আবেদন নিবেদন নয়, ইংরেজ শাসকের চোখে চোখ রেখে তাঁর স্বাধীনতার যুদ্ধ করার সাহস এবং তাঁর অন্তর্ধান রহস্য। ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট তাইপেইয়ে তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনার ৭৫ বছর পরেও অধিকাংশ ভারতবাসী আজও মনে করেন ওই বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি। তাই এখনও ওইদিনটি নেতাজির অন্তর্ধান রহস‍্যের জন্য চিহ্নিত। নেতাজি সম্পর্কে ভারতবাসী এবং বিশেষভাবে বাঙালিদের আবেগের শেষ নেই। মঙ্গলবার এইদিনটির স্মরণে টুইট করে নেতাজি সম্পর্কে তথ্য জানার আবেগ উস্কে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। টুইটে তিনি লিখেছেন, " ১৯৪৫ সালের এই দিনেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু তাইওয়ানের তাইহোকু বিমানবন্দর থেকে বিমানে উঠেছিলেন চিরকালের জন্য হারিয়ে যেতে ! আমরা এখনও কেউ জানি না তাঁর সঙ্গে ঠিক কী হয়েছিল। মানুষের কিন্তু জানার অধিকার আছে এই মহান ভূমিপূত্রকে নিয়ে। "
    নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে এপর্যন্ত তিনটি কমিশন হয়েছে। ১৯৫৬ সালে শাহনাওয়াজ কমিশন, ১৯৭০ সালে খোসলা কমিশন এবং ১৯৯৯ সালে মুখার্জি কমিশন।
    নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে চারটি তত্ত্ব রয়েছে। সেগুলি প্রথমত, তাইওয়ানের তাইপেইতে তাইহোকু বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, জাপানের রেনকোজি মন্দিরের তাঁর চিতাভস্ম সংরক্ষিত। তৃতীয়ত, রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। চতুর্থত, উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদে মৌন সন্ন্যাসী গুমনামী বাবা আসলে নেতাজি ছিলেন।
    শাহনাওয়াজ কমিশন ও খোসলা কমিশন তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর তত্ত্বে মান‍্যতা দেয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্যদের অধিকাংশ সদস্য এই তত্ত্বই বিশ্বাস করেন এবং দাবি করেন। প্রচারও করে থাকেন। নেতাজির ভাইপো শিশির বসুর স্ত্রী কৃষ্ণা বসু এবং তাঁর ছেলে ইতিহাসবিদ সুগত বসু এই দাবি করে এসেছেন। ঘটনাচক্রে প্রয়াত কৃষ্ণা বসু এবং সুগত বসু তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ছিলেন।
    মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও শাহানওয়াজ কমিশন ও খোসলা কমিশনের রিপোর্টকে মান‍্যতা দিয়ে তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয় বলে মনে করে। যদিও মুখার্জি কমিশন জানায়, তাইওয়ান সরকার চিঠি দিয়ে কমিশনকে জানিয়েছিল, ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্টের ৭ দিন আগে ও পরে তাইহোকুতে কোনও বিমান দুর্ঘটনা ঘটেনি। ফরাসি সরকারের ফাঁস করা ফাইলের ভিত্তিতে ফরাসি ইতিহাসবিদ জেবি মোরও দাবি করেছিলেন, ১৯৪৫ সালে ১৮ অগস্ট তাইহোকুতে কোনও বিমান দুর্ঘটনা ঘটেনি। নেতাজি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রেনকোজি মন্দিরে রাখা চিতাভস্মের ডিএনএ পরীক্ষা চাইলেও ইতিহাসবিদ সুগত বসু অবশ্য উচ্চতাপে চিতাভস্মের ডিএনএ -র অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান। সুগত বসুর দাবি, তাঁর বাবা শিশির বসু নেতাজির জাপানি দোভাষী নাকামুরার থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়েছে এই সিদ্ধান্তে এসেছিলেন। ওই বিমানে নেতাজির সঙ্গী হবিবুর রহমান প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। কিন্তু রাধারমণ চক্রবর্তী, শোভনলাল দত্তগুপ্ত, রজতকান্ত রায়ের মতো ইতিহাসবিদরা তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়েছে এমনটা মানেন নি। সেইসঙ্গে একই বিমানের যাত্রী হয়ে নেতাজির মৃত্যু হয়েছে অথচ হবিবুর রহমান বেঁচে গেলেন কীভাবে তা সংশয়াতীত নয়।বরং প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। সেইসঙ্গে দেশবাসীর আজাদ হিন্দ বাহিনীকে দান করা বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং সোনার গয়নার সুটকেস কোথায় কীভাবে উধাও হয়ে গেল আজও সেই রহস্যের কোনও যুক্তিগ্রাহ‍্য ব‍্যাখ‍্যা কোনও সূত্র থেকে মেলেনি।