মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

ফিরে দেখা বাইশগজের 'মরুঝড়'
ফিরে দেখা  বাইশগজের 'মরুঝড়'

ফিরে দেখা বাইশগজের 'মরুঝড়'

  • scoopypost.com - Sep 22, 2020
  • করোনা আবহে ভারতের মাটিতে হচ্ছে না আইপিএল ২০২০। নিউট্রাল ভেনু হিসেবে তার আয়োজন করা হয়েছ সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। ইউএই-র মাঠে টি-২০ ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের ঝড় তুলবেন দেশ-বিদেশের খেলোয়াড়রা। এই আমিরশাহিতেই তৈরি হয়েছিল ঘটেছিল ভারতীয় ক্রিকেটের এক অসামান্য ইতিহাস। আরব আমিরশাহির শারজাতেই যে উঠেছিল মাস্টার ব্লাস্টারের 'মরুঝড়'। ২২ বছর আগের সচিনের ব্যাটের সেই মরুঝড় যেন আজও জীবন্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে।

    সালটা ১৯৯৮। কোকাকোলা কাপে ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড। শারজাতেই আয়োজন করা হয়েছিল এই প্রতিযোগিতার। ফাইনালে অনেক আগেই উঠে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে আরও এক ফাইনালিস্ট নির্ধারণ হওয়ার জন্য হাতে ছিল মাত্র একটি ম্যাচ। ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া। আর সেই ম্যাচেই দুটি মরুঝড়ের সাক্ষী ছিল মেন ইন ব্লু ব্রিগেড।

    অজি ব্রিগেড তখন তারকাখচিত। শেন ওয়ার্ন, মাইক্যাল কাসপ্রোইচের মত দাপুটে বোলার দিয়ে সাজানো অস্ট্রেলিয়ান একাদশ। তার মধ্যে শারজার মন্থর উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২৮৪ রানের টার্গেট। ওই মাঠে প্রায় ৪১ ডিগ্রি তাপমাত্রায় খেলতে নেমে দ্বিতীয় উইকেটে এই রান চেজ করা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করেছিলেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু হেরে গেলে ফাইনাল খেলার আশাটুকও যে শেষ হয়ে যাবে। 

    ওপেন করতে নেমে মাত্র ১৭ রান করেই ফিরে যান অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। তখন দলের রান ছিল ৩৮। দ্রুত রান তোলার জন্য ক্রিজে আসেন নয়ন মোঙ্গিয়া। মোঙ্গিয়ার দুরন্ত ৪৬ বলে ৩৫ রান দ্বিতীয় উইকেটে ১০৭ রানে পৌঁছে দেয় টিম ইন্ডিয়াকে। এরপরেই ১৪ রান ও ১ রান করে পরপর ড্রেসিংরুমে ফিরে যান আজহারউদ্দিন ও অজয় জাদেজা।

    ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে ম্যাচের রাশ নিয়ে নিচ্ছিল অজি ব্রিগেড। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কার কালো মেঘ জমেছে ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যে। এর মাঝেই হাজির আরও এক বিপদ। চারিদিক আঁধার করে গোটা শারজা ঢেকে গেল ডেজার্ট স্টর্ম বা মরুঝড়ে। যার জন্যে কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখতে হয় ম্যাচ। ম্যাচ চালু হওয়ার পর  লক্ষ্যমাত্রা বদলে গিয়েছে ভারতের টার্গেট গেল বদলে। ভারতকে ম্যাচ জিততে গেলে ৪৮ ওভারে করতে হবে ২৭৬ রান। আর ফাইনালের টিকিট পেতে লাগবে ২৩৭ রান। আর তখনই ক্রিকেটের ঈশ্বর ভর করলেন সচিন রমেশ তেন্ডুলকর নামে এক মুম্বইকরের ব্যাটে। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে সেদিন জ্বলেছিল আগুনতি রংমশাল। মাঠে উঠলো আরও এক মরুঝড়। সৌজন্যে মাস্টার ব্লাস্টার। 

    ক্রিজের নন স্ট্রাইকার এন্ডে দাড়িয়ে ভিভিএস লক্ষ্মণ। ব্যাট করছেন সচিন তেন্ডুলকর। মরুঝড় শেষে ম্যাচ শুরু হতেই আবার মরুদেশে ঝড় তুললেন মাস্টার ব্লাস্টার। একের পর এক বল পাঠালেন মাঠের বাইরে। কোনও সময় স্টেপ আউট আবার কোনও সময় চোখধাঁধানো কভার ড্রাইভে। অজি বোলিংকে রীতিমত খুন করছিলেন তিনি। লক্ষণের অবশ্য কাজ ছিল স্ট্রাইক রোটেট করা। তবে সচিনের রানের খিদে এত ছিল যে তিনি দুই রানকে তিনে পরিণত করার জন্য প্রাণপন দৌড়াচ্ছিলেন। তাতে তাঁকে সঙ্গ না দিতে পারায় লক্ষ্মণকে ধমক দিতেও ছাড়েননি মাস্টার ব্লাস্টার। ১৩১ বলে ১৪৩ রানের সচিনের ইনিংস সাজানো ছিল ৯টি বাউন্ডারি ও ৫টি ওভার বাউন্ডারিতে। সচিনের মরুঝড় অবশ্য ভারতকে সেই ম্যাচে জেতাতে পারেনি। ২৫০তেই থামতে হয়েছিল ভারতকে। তবে, প্রয়োজনীয় ২৩৭ রান তুলে ফেলায় ফাইনাল খেলার ছাড়পত্র মিলেছিল। সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে নিজের সেদিনের অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন ভিভিএস। ২২ বছর পর ফের একবার আরবের মাটিতে ক্রিকেটের বিশাল আয়োজন। হাজির একাধিক তারকা ক্রিকেটার। আর আইপিএল মানেই ঝড়ের গতিতে রান তোলা। টি-২০ তে অনেকের ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং হয়তো চোখ টানবে, কিন্তু মন ভরাবে সচিনের ২২ বছর আগের সেই মরুঝড়।