মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

ফুটবলকে চিরবিদায় চ্যাপম্যানের
ফুটবলকে চিরবিদায় চ্যাপম্যানের

ফুটবলকে চিরবিদায় চ্যাপম্যানের

  • scoopypost.com - Oct 12, 2020
  • এশিয়ান কাপে ইরাকের আল জাওরা ক্লাবের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ৬-২ স্কোরলাইন এখনও ভারতীয় ফুটবলে গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯০ এর দশকে টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির অন্যতম সেরা ফুটবলারের কেরিয়ারের প্রায় সর্বস্ব জুড়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। ক্লাব সমর্থকদের নয়নের মণি আর ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দলের অপরিহার্য ‘ক্যাপ্টেন’ সেই কার্লটন চ্যাপম্যান নীরবেই চিরবিদায় জানালেন ফুটবলকে। মাত্র ৪৯ বছরেই চলে গেলেন সদাহাস্যমুখ এই ফুটবলার। রবিবার রাতে পিঠে ব্যথা অনুভব করায় বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চ্যাপম্যানকে। সেখানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বাইচুং-বিজয়ন-চ্যাপম্যান এই ত্রয়ীর একজন ধরে গেলেন অকালেই। ১৯৯২ সালে বাইচুং ভুটিয়ার হাত ধরে কলকাতা ময়দানে পা রাখেন কার্লটন চ্যাপম্যান। ১৯৯৩ সালে ইস্টবেঙ্গলের ১৪ নম্বর জার্সি গায়ে দিয়ে তাঁর জয়যাত্রার শুরু। বাইচুং ভুটিয়ার এক আত্মার বন্ধু হিসাবে ময়দানে পরিচিত ছিল চ্যাপের। ৯৩ সালে ময়দানে যখন আই এম বিজয়ন ও জো পল আনচেরির জুটি নিয়ে কথা হত সেইসময় বাংলার তথা ভারতীয় ফুটবলে দেখা দিয়েছিল বাইচুং-চ্যাপম্যান জুটি। কিছুদিন কলকাতায় খেলার পর চ্যাপম্যানকে সই করায় জেসিটি। জেসিটিতে তিন বছর ছিলেন তিনি। এর মধ্যেই দলকে জিতিয়েছিলেন ১৪টি ট্রফি। তারপর ১৯৯৮ এ ইস্টবেঙ্গলেই ফিরে আসেন ‘ক্রিয়েটিভ’ এই মিডফিল্ডার। দলের প্রয়োজনে পুরো মাঝ-মাঠের দায়িত্ব একার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। এক সময় ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়কের ব্যান্ডও উঠেছিল চ্যাপম্যানের হাতে। ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন চ্যাপম্যান। তাঁরই অধিনায়কত্বে ১৯৯৭ সালে সাফ কাপ জিতেছিল ভারত।

    খেলা থেকে অবসর নিলেও ফুটবল আর মাঠের প্রেমে শেষদিন পর্যন্ত মজে ছিলেন চ্যাপম্যান। কোচিং করিয়েছেন বিভিন্ন ক্লাবে। চেন্নাইয়ের দলকে কোচিং করানোর দায়িত্ব নিয়ে নিয়ে দিন দুয়েক আগেই তাঁর সঙ্গে ক্লাবকর্তাদের কথা হয়েছিল। এই মরসুমে চেন্নাই ক্লাবের কোচ হিসাবে চ্যাপম্যানের নাম কার্যত ফাইনাল হয়ে গিয়েছিল বলেও সূত্রের খবর। কলকাতার মাঠে তাঁর শেষ আসা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শতবর্ষে আয়োজিত একটি প্রদর্শনী ম্যাচে। প্রিয় বন্ধু তথা সতীর্থকে হারিয়ে কলকাতার বহু ফুটবলারেরই মন খারাপ।