মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

'থালা' জিন্দা হ্যায়
'থালা' জিন্দা হ্যায়

'থালা' জিন্দা হ্যায়

  • scoopypost.com - Sep 22, 2020
  • সিংহ হয়তো একেই বলে। ৯ জুলাই ২০১৯ শেষ বার ক্রিকেটের বাইশ গজকে বিদায় জানিয়েছিলেন ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। আবার ফিরলেন ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। মাঝে পেরিয়ে গিয়েছে ১ বছর ২ মাস ১০ দিন। ১৫ অগস্ট সন্ধ্যায় অবসর নিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। তবে কথায় আছে না ‘বুড়ো হলেও সিংহ ভুলে যায় না শিকার করতে’। আর সেই কথাই আরও একবার প্রমাণ করলেন মাহি। প্রথম ম্যাচে হলুদ জার্সি গায়ে মাঠে নামতেই টিভির সামনে বসে থাকা মাহি ভক্তদের চোখ হয়ে উঠেছিল ছলছলে।

    প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে এক বছরেরও বেশী সময় দূরে তিনি। ফের একবার বাইশ গজে টি২০ ফর্মাটে কামব্যাক করার সময় অনেক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল হেলিকপ্টার শটের জনককে। তবে প্রথম ম্যাচের ধোনিকে দেখে মুগ্ধ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। ধোনির কামব্যাক নিয়ে বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়...

    ক্যাপ্টেন কুল: এত ঠান্ডা মাথার অধিনায়ক হয়তো ভারতীয় ক্রিকেট পায়নি। কপিল দেব, সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্ব দেখেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে সবচেয়ে শান্ত অধিনায়কের নাম বলতে গেলে হয়তো মাঠের সবুজ ঘাসগুলোও বলবে এমএস ধোনির নাম। চেন্নাইয়ের প্রথম ম্যাচে আবারও ঝলক দেখালো সেই ক্যাপ্টেন কুল। একদিকে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে টানা পাঁচ ম্যাচে হার। তার মধ্যে দলে নেই হরভজন সিংহ, সুরেশ রায়নার মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। চোট পেয়ে মাঠের বাইরে বসে ডোয়েন ব্র্যাভো। তাতেও একটুও বিচলিত ছিলেন না তিনি। ঠান্ডা মাথায় তাঁর মুম্বই বধ আবার মনে করিয়ে দিল ক্যাপ্টেন কুলের তকমার কথা।

    অভিজ্ঞতা: ধোনির যতই ‘বুড়ো’ হয়ে যাক না কেন, অভিজ্ঞতার নিরিখে হার মানাবেন অনেক বড় খেলোয়াড়কেই। এমনটাই দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইশ গজে কোন সময় কোন খেলোয়াড়কে ব্যবহার করতে হয় তা ভালো করেই রপ্ত করা আছে এই কিপার-ব্যাটসম্যানের। আর তার প্রমাণ ফের মিলেছে আইপিএলের প্রথম ম্যাচে। হাতে যখন ব্র্যাভো নেই সেই সময় ২২ বছরের স্যাম কারানকে নামিয়ে বাজিমাত করা, ধোনির অভিজ্ঞতার একটা উদাহরণ।

    ধোনি রিভিউ সিস্টেম: বর্তমান ক্রিকেটে আম্পেয়ারের ডিসিশন রিভিউ করার জন্য চালু হয়েছে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম বা ডিআরএস। তবে মাহি ভক্তরা এই ডিআরএসকে বলে থাকেন ধোনি রিভিউ সিস্টেম। কারণ ধোনির ডিআরএস কল খুব কম সময়েই বিফলে গেছে। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধেও সেই ডিআরএস আবার প্রমাণ করলো অবসর নিলেও হারিয়ে যাননি তিনি।

    ফিটনেস: একটা সময ক্রিকেটের বাইশ গজে রটে গিযেছিলো উইসেন বোল্টকেও নাকি দৌড়ে টক্কর দিতে পারেন ভারতের অধিনাযক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। তবে বয়সের কারণে আজ নেই সেই দৌড়ের তেজ। মন্থর হয়েছে ব্যাটের গতিও। ২০১১ সালের হেলিকপ্টার শটে বিশ্বজয় যদিও এখনও দর্শকদের চোখে ভাসে। তবে বলে রাখা ভালো ধোনির থেকে আর সেই পারফরম্যান্সের আশা রাখা হয়ত উচিত হবে না সমর্থকদের। ফিটনেসে নিজের ১০০ শতাংশ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও বয়স বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে তাঁর। তবে এখনও উইকেটের পিছনে সিংহের গর্জন যে থমকে যায়নি সে প্রথম ম্যাচেই টের পেয়েছেন ভারতীয় দলের সতীর্থ রোহিত শর্মা।

    ভোকাল টনিক: ধোনি বাইশ গজে থাকা মানে দলের মনোবল তুঙ্গে থাকা। এই বিষয়ে সন্দেহ নেই ক্রিকেট ভক্তদের। কারণ ধোনির ভোকাল টনিক মানেই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দলকে উদ্বুদ্ধ করার উপায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় বারে বারে ভাইরাল হয়েছে পুজারা সম্পর্কে তাঁর উক্তি। “পুজারাকো উধার তালি বাজানে কেলিয়ে নেহি রাখা হ্যায়”। বা কোনও সময় বলছেন “দেখ ক্যায়সে উসকা প্যায়র হিল রাহা হে। ভলিবলকে তরহা খাড়া হ্যায়”। এই ধরণের ভোকাল টনিক ধোনির পক্ষেই সম্ভব। আর তা দলের মনোবল বাড়াতে সাহায্য করে। 

    তামিল ভাযায় 'থালা' কথার অর্থ নেতা। চেন্নাই দলে ধোনিকে 'থালা' বলেই সম্বোধন করেন প্রত্যেকে। এমনকি গোটা শহরেও 'থালা' নামেই ধোনিকে ডাকেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। আর কেন তাঁকে নেতা বলা হয় তা ফের একবার বাইশ গজে নেমে প্রমাণ করে দিলেন মাহি। মাহি ভক্তদের আশা আইপিএলের বাইশ গজে তাঁর কামব্যাক আরও একটা স্মরনীয় ইতিহাসের জন্ম দেবে। আইপিএল শেষে হাসি মুখে মাঠ ছাড়বেন ধোনি, নাকি ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মত চোখে জল নিয়েই বাইশগজকে চিরবিদায় জানাবেন মাহি? উত্তরটা জানতে চান সবাই।