বুধবার, অক্টোবর 21, 2020

নেমে এসেছে অন্ধকার, কাঁদছেন চন্দননগরের আলোকশিল্পীরা
নেমে এসেছে অন্ধকার, কাঁদছেন চন্দননগরের আলোকশিল্পীরা

নেমে এসেছে অন্ধকার, কাঁদছেন চন্দননগরের আলোকশিল্পীরা

  • আলোর শহর চন্দননগর। দুর্গাপুজো হোক কি, গণেশ-কার্তিক, জগদ্ধাত্রী থেকে সরস্বতী আলো পৌঁছে যায় যে শহর থেকে, সেই শহরেই আজ অন্ধকার।লকডাউনে কাজ হারানোর হাহাকার। সংসার বাঁচাতে ঘরের বউ দোকানদারি করছেন। স্বচ্ছ্বল জীবনে যিনি অভ্যস্থ ছিলেন, তিনিই আজ মাছ বিক্রি করছে।
    আলোর শিল্পের মাধ্যমে যে শহর অসংখ্য মানুষের রুটি রুজি জোগাত তার এই ভোলবদলে এখন উদ্বেগ আর আতঙ্ক। ভয়ঙ্কর সর্বনাশ ডেকে নিয়ে এসেছে করোনাভাইরাস ও লকডাউনে। চন্দননগরের কুলু পুকুর ধার থেকে বিদ্যা লঙ্কার এলাকার দু'পাশের আলোর দোকানে এখন ঝাঁপ বন্ধ। শুধু এই রাজ্য নয় বিহার, অসম, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, দিল্লি, মুম্বই দেশের সমস্ত প্রান্ত থেকে মানুষ চন্দননগরের আলোর সরঞ্জাম নিয়ে যেতেন। কলকাতার দুর্গাপুজো হোক কি মুম্বইয়ের গণেশপুজো চন্দননগরের আলোকসজ্জা ছাড়া অসম্পূর্ণ।লক্ষ লক্ষ মানুষের রোজগার হত যে আলো ঘিরে, সেখানেই আজ অন্ধকার। আলোকশিল্পীরা হা-হুতাশ করছেন।পুজোর বাকি হাতেগোনা কয়েকদিন। যে সময় চন্দননগরের শিল্পীদের দম ফেলার সময় থাকত না, তাঁদেরই বুক ঠেলে আজ বেরিয়ে আসছে দীর্ঘশ্বাস। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারিতেই পুজো উদ্যোক্তারা আলোকসজ্জার বরাত দিয়েছিলেন।পুজো এবার হবেই না। তাই অগ্রিমের টাকা ফেরত চাইছেন উদ্যোক্তারা।
    এমনই এক আলোকশিল্পী জানালেন, ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়েছিলেন। ৪ লাখ টাকার বরাত ছিল। কাজ শুরু করেছিলেন। তাতেই ঢুকে গিয়েছে নিজের পকেট থেকে দেড়-দুলাখ টাকা। কী করে টাকা ফেরাবেন। চোখে জল তাঁর। পুজো না-হলে সংসার নিয়ে পথে বসতে হবে।
    স্বচ্ছল আলোকশিল্পী যাঁরা অনেকেই কর্মচারী দিয়ে কাজ করিয়েছেন তাঁরাই আজ বিকল্প জীবিকার সন্ধান করছেন। কেউ আলোর সরঞ্জাম সরিয়ে মুদিখানার দোকান দিয়েছেন। কেউ আলোর কারখানায় কাজ না পেয়ে সবজি বিক্রি করছেন। কেউ মাছ বিক্রি করছেন। হতাশ গলায় জানালেন, মাছ যা আনেন সবদিন বিক্রি হয় না। ফেলে দিতে হয়। কী করবেন। বাঁচতে তো হবে।
    কেউ আলোর দোকানের ঝাঁপ ফেলে, মুরগির মাংস বিক্রি করছেন। চরম অন্ধকার নেমে এসেছে আলোর শহরে চন্দননগরে। বাড়ির বউ মেয়েদের বড় করতে স্বামীর সঙ্গে মুদির দোকানে বসছেন। সকলেই জানাচ্ছেন করোনা, লকডাউনের প্রভাব।তার ওপর ক্ষতি করেছে ঘূর্ণিঝড় উমপুনও। লকডাউনের ঝামেলা কমলেও চিনের সঙ্গে সংঘাত। মাল আসছে না। আলোক শিল্পে এলইডির কারিকুরির জন্য চিনের ওপর নির্ভর করতে হয়।
    পুজোর অর্ডার বাতিল হচ্ছে। তাই আর কোনও আশা দেখছেন না আলোক শিল্পীরা।ভয় পাচ্ছেন, এবার কি তাঁদেরও পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে দূরে যেতে হবে? রাজ্য সরকারের কাছে শিল্পীদের আবেদন, যদি কোনও সাহায্য মেলে। নয়তো ঘুরে দাঁড়ানোর পথ নেই।