বুধবার, অক্টোবর 21, 2020

গ‍্যাস, তেজস্ক্রিয়তা মোকাবিলায় নয়া রোবট
গ‍্যাস, তেজস্ক্রিয়তা মোকাবিলায় নয়া রোবট

গ‍্যাস, তেজস্ক্রিয়তা মোকাবিলায় নয়া রোবট

  • ভোপাল গ‍্যাস দুর্ঘটনার ভয়ঙ্কর স্মৃতি আজও মনে করলে মানুষ শিউরে ওঠে। সাম্প্রতিককালে বিশাখাপত্তনমে একটি কারখানায় স্টাইরিন গ‍্যাস লিকের ঘটনায় বেশ কিছু মানুষের মৃত্যু হয়। শিল্পক্ষেত্রে গ‍্যাস, তেজস্ক্রিয়তা দুর্ঘটনা রুখতে এক অভিনব রোবট আনতে চলেছে এনভোল্টা। ভারতে এই ধরনের রোবট প্রথম বলে দাবি করেছেন সংস্থার চেয়ারম্যান চন্দন বেরা। এই রোবট শিল্পসুরক্ষায় নয়া দিগন্ত খুলে দেবে বলে তাঁর অভিমত। ২০২১ সালের মাঝামাঝি পরীক্ষামূলকভাবে এই যন্ত্রমানব কাজ শুরু করবে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত এই রোবট প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


    এই যন্ত্রমানবের নাম দেওয়া হয়েছে ' রোবোডেট।' খনি, রাসায়নিক, বিদ্যুৎ সহ বিভিন্ন কারখানায় বহুমুখী ব‍্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি এই রোবট শিল্পসুরক্ষার লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন সংস্থার গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার অর্ণব সেনাপতি। কীভাবে কাজ করে এই রোবট ? রোবটটির এমনভাবে নকশা তৈরি করা হয়েছে যাতে তা ভূগর্ভস্থ কোনও জায়গায় বিষাক্ত গ‍্যাস, তেজস্ক্রিয় নির্গমন হচ্ছে কিনা খতিয়ে দেখে। এমনকী নিকাশি ও সেচ ব‍্যবস্থায় কোনও বাধা তৈরি হয়েছে কিনা তা অনায়াসেই চিহ্নিত করতে পারে। আর সবটাই সম্ভব হয় রোবটের শক্তিশালী ক‍্যামেরা ও সেন্সরের জন্য। তবে শুধু চিহ্নিতকরণ নয়, এই রোবট এমনভাবেই তৈরি করা হয়েছে যে মনুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর জায়গায় পৌঁছে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে ফেলে। সংগৃহীত তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হয় একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারে। যা থেকে ভূগর্ভস্থ কোনও স্থানে বাধা কীভাবে সরানো যাবে তা সেখানে না পৌঁছেই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। একইভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়া, বিষাক্ত গ‍্যাস ও তেজস্ক্রিয় নির্গমন ও বিকিরণ সম্পর্কে আগাম জানতে পারায় অনেক দুর্ঘটনা ও জীবনহানি এড়ানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন অর্ণববাবু। তিনি বলেন, " কলকাতা সহ রাজ‍্যের বেশ কিছু শহরে ভূগর্ভস্থ নিকাশি ব‍্যবস্থায় এখনও ম‍্যানহোলে নেমে মানুষকে কাজ করতে হয়। একবিংশ শতকে এটা মানা খুব কঠিন। যন্ত্রমানব ' রোবোডেট ' এই কাজটা খুব ভালো করতে পারবে। "

    সংস্থার গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের বরিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার জিৎ কর্মকার জানান, এই রোবটটি পরবর্তী পর্যায়ে কোন রিমোট ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবে। এর ধাতব বাইরের আবরণ যে কোনও তাপমাত্রায় কার্যকর হবে। বহিস্থ আবরণ হবে টেম্পরেচর ও ওয়াটারপ্রুফ। রোবটটির নকশা এমনভাবেই তৈরি হয়েছে যে কোনও অগম্য স্থানে তা পৌঁছে যেতে পারবে। পাহাড়ি এলাকাতেও সাবলীলভাবে কাজ করবে ' রোবোডেট। ' প্রয়োজনে একটি ড্রোনের মাধ্যমে প্রায় সোয়া কিলোমিটার রাস্তাও পাড়ি দিতে সক্ষম এই রোবট।


    এনভোল্টার তরফে জানানো হয়েছে বিভিন্ন পূর্ত, সেচ, খনি, বিদ্যুৎ সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ‍্যসরকারি দফতর এবং বেসরকারি শিল্প সংস্থার কাছে এই রোবট কেনার আবেদন জানানো হবে। কীভাবে এই রোবট কাজ করে তা হাতেকলমে দেখানো হবে আগ্রহী সংস্থাকে। ডেমোনস্ট্রেশনের পর এই রোবট কিনতে আগ্রহী সংস্থার বিশেষ চাহিদা অনুযায়ী রোবটের মডেলে কিছুটা অদলবদলও ঘটানো যেতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা সংস্থা এনভোল্টার ইঞ্জিনিয়ার অর্ণব সেনাপতি।