মঙ্গলবার, মে 11, 2021

করোনা কারণে শীতে বসবে না সংসদ
করোনা কারণে শীতে বসবে না সংসদ

করোনা কারণে শীতে বসবে না সংসদ

  • scoopypost.com - Dec 15, 2020
  • বাতিল করা হল সংসদের শীতকালিন অধিবেশন। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এ কথা জানিয়েছেন। কোভিডের কারণেই শীতকালিন অধিবেশন বাতিল করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

    সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী জানিয়েছেন এই বিষয়ে তিনি সমস্ত বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলেছেন। সকলেই জানিয়েছেন কোভিডের কারণে শীতকালিন অধিবেশন না করাই ভাল। মন্ত্রী বলেন, এখন ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়। শীতে কোভিডের সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি। এই সময় কোভিড সংক্রমণে বেশি নজর দেওয়া দরকার। সেই সঙ্গে তিনি জানান খুব দ্রুত কোভিড ভ্যাকসিন পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এইসব কারণ খতিয়ে দেখেই শীতকালিন অধিবেশন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন জানুয়ারিতে বাজেট অধিবেশনের মধ্যে দিয়েই সংসদের পরবর্তী অধিবেশন হবে।

    সংসদে কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর চিঠির জবাব দিতে গিয়েই প্রহ্লাদ যোশি শীতকালিন অধিবেশন বাতিলের কথা জানিয়েছেন। অধীর চৌধুরী চিঠি দিয়ে তিন কৃষি আইন নিয়ে আলোচনা করার জন্য সংসদের অধিবেশন ডাকার দাবি জানান। তাঁর চিঠির জবাব দিতে গিয়ে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী জানান, তিনি এই বিষয়ে বিভিন্ন দলের ফ্লোর লিডারদের সঙ্গে আলাদা ভাবে কথা বলেছেন। তাঁরা সকলেই শীতকালিন অধিবেশন বাতিলে সায় দিয়েছেন। সরকার তাই ২০২১এর জানুয়ারিতে একেবারে বাজেট অধিবেশন দিয়েই সংসদের পরবর্তী অধিবেশন চায়। যোশী তাঁর চিঠিতে অধীর চৌধুরীকে একজন দায়িত্বশীল নেতা বলে উল্লেখ করে তাঁর সহযোগিতা চেয়েছেন।

    এদিকে এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন মোদি সরকার কৃষি আইন নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল। কারণ শীতকলিন অধিবেশন হলে সেখানে অবশম্ভাবী ভাবে কৃষি আইন নিয়ে আলোচনা হত, যাতে সরকার অস্বস্তিতে পড়ত। অধিবেশন বাতিল হওয়ায় সে সম্ভাবনা রইল না। এর পাশাপাশি সরকার এখন পূর্ণ শক্তি দিয়ে কৃষক আন্দোলনের বিরোধিতা করার সুযোগ এবং সময় পাবে। রাজনৈতিক  বিশ্লেষকরা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিরও কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁরা বলছেন একদিকে তাঁরা মুখে কৃষি আইনের বিরোধিতা করছেন এবং কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করছেন, অথচ এই কারণে বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য সরকারের ওপর চাপ তৈরি না করে শীতকালিন অধিবেশন বাতিলে সায় দিয়ে দিলেন। যার ফলে কৃষকদের আন্দোলন মোকাবিলা করায় সরকারের হাতই শক্ত হল এবং বিরোধীদের দ্বিচারিতা স্পষ্ট হল।