সোমবার, মার্চ 08, 2021

মৃত্যুঞ্জয়ী ইয়ান জোন্স
মৃত্যুঞ্জয়ী ইয়ান জোন্স

মৃত্যুঞ্জয়ী ইয়ান জোন্স

  • scoopypost.com - Nov 22, 2020
  • মরণ যাঁকে ছুঁতে পারেনা। বার বার শিয়রে এসেও ভগ্নমনোরথ হয়ে ফিরে গেছে মৃত্যু। ইয়ান জোন্স। ইংলন্ড থেকে এদেশে এসেছিলেন মানব সেবার টানে।ঠাঁই নিয়েছিলেন রাজস্থানে। কাজ করতেন সেখানকার হস্তশিল্পীদের সঙ্গে। হস্তশিল্পীদের হাতের কাজের জিনিষ তিনি বিদেশের বাজারে বিক্রি করার ব্যবস্থা করতেন। এই ভাবে দারিদ্রের অন্ধকারে ডুবে থাকা পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোঁটানোই তাঁর ব্রত।এই করতে করতে কেটে গেছে অনেক দিন। এরপর শুরু হল লকডাউন। সে এক অন্য জীবন।

    ঘর বন্দী জীবনেও নিজের কাজ চালিয়ে গেছেন ইয়ান জোন্স। বিভিন্ন ভাবে শিল্পীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।  এসবের মাঝেই তাঁর শরীরে থাবা বসিয়েছে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু। বাদ যায় নি কোভিডও। একটা মানুষের জীবনে এতকিছু হতে পারে? চট করে কেউ বিশ্বাসই করবে না সে কথা। কিন্তু এটাই বাস্তব। এখানেই শেষ নয়। জোন্সের জীবনে আরও কিছু বাকি ছিল।

    যোধপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের মাঝে কাজ করেন জোন্স। গত সপ্তাহেই তাকে হঠাৎ সাপে ছোবল মারে। নিয়ে আসা হয় যোধপুরের মেডিপালস হাসপাতালে। সেখানকার ডাক্তার অভিষেক তাতর তাঁর চিকিৎসা করেন।তিনি বলেন প্রথমে তাঁকে দেখে মনে হয়েছিল তাঁর কোভিড হয়েছে(দ্বিতীয়বার) । পরে তাঁর নেগেটিভ রিপর্ট আসে। কিন্তু সাপের কামড়ের জন্য তাঁর চোখের সমস্যা সহ আরও কিছু অসুবিধে হচ্ছিল। পরে ধীরে ধীরে চিকিৎসায় সাড়া দেন তিনি। যদিও হাঁটাচলায় খুবই সমস্যা হচ্ছিল।

    চিকিৎসক অভিষেক তাতর জানাচ্ছেন , আশা করা যায় ইয়ান জোন্সের আর কোনও বড় সমস্যা হবে না। জোন্সের ছেলে সেব জোন্স বলছে তার বাবা একজন লড়াকু মানুষ। যে কোনও প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে তিনি লড়াই করতে পারেন। অতিমারির জন্য তিনি বহুদিন দেশে ফিরতে পারেন নি। দুঃস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর তাঁর ইচ্ছে আমরা বুঝতে পারি।  

    আপাতত জোন্স দেশে ফিরে গেছেন।সেখানেই অসুস্থ শরীর সারিয়ে ফের কাজে যোগ দেবেন তিনি।