বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

জাতীয় সঙ্গীতের পরিবর্তন চান স্বামী
জাতীয় সঙ্গীতের পরিবর্তন চান স্বামী

জাতীয় সঙ্গীতের পরিবর্তন চান স্বামী

  • scoopypost.com - Dec 13, 2020
  • এবার রবি ঠাকুরের ওপর কোপ পড়তে চলেছে। সৌজন্যে বিজেপি সাংসদ সুব্র্যক্ষ্মণ্যম স্বামী। স্বামী চান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সঙ্গীতের পরিবর্তন করা হোক। নিজের এই ইচ্ছের কথা জানিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠিও দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দ্রুত জবাবও পেয়েছেন তিনি। নিজের টুইটে সে কথা উল্লেখও করেছেন স্বামী।

    রাজ্যে আগামি বছরেই বিধানসভা ভোট। তার আগে বিভিন্ন ইস্যুতেই রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করছেন নরেন্দ্র মোদি। বিধানসভা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এই রবি প্রেম চলবে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তার মধ্যেই এই  রবীন্দ্র বিরোধ বিতর্ক তৈরি করেছে ।

    স্বামী, কেন রবি ঠাকুরের ‘জন গণ মন’ তে আপত্তি তুলছেন তা ব্যাখ্যা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন দেশের যুব সমাজও এই দাবি তুলছে। তাঁর মতে রবি ঠাকুরের গানে যে ‘সিন্ধু’ শব্দটি রয়েছে তা সংশয় তৈরি করছে। বিশেষ করে স্বাধীনতার পরে এই শব্দ আরও বেশি করে ধন্দ তৈরি করছে। সুব্র্যক্ষ্মণ্যম স্বামী চান রবীন্দ্রনথের লেখা প্রথম পঙতির বদলে সুভাষ চন্দ্র বোসের ন্যাশানাল আর্মির  অর্ন্তবর্তী সরকারের ‘কাওয়ামি তারানার’ প্রথম পঙতি ‘শুভ সুখ চ্যান’ গানের প্রথম পঙতি ব্যবহার করতে। এই গান লেখা হয়েছিল সুভাষ বোসের নির্দেশে। লিখেছিলেন মুমতাজ হোসেন এবং কর্ণেল আবিদ হাসান সুফারনি। সুর দিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন রাম সিং ঠাকুর। দুই গানের সুরে বিশেষ কোনও ফারাক নেই।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে স্বামী ‘সিন্ধু’ শব্দে আপত্তি জানালেও কাওয়ামি তারানা গানেও কিন্তু সেই সিন্ধু শব্দের ব্যবহার রয়েছে।  স্বামী নিজের দাবির স্বপক্ষে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের উল্লেখ করেছেন। রাজেন্দ্র প্রসাদ ১৯৪৯ সালে বলেছিলেন, জাতীয় সঙ্গীতে শব্দের পরিবর্তন বা সংশোধ্ন করা যেতে পারে।

    বিজেপির রবীন্দ্র বিদ্বেষ এই প্রথম নয়। সংঘের বিভিন্ন মহলে রবীন্দ্রনাথের বহু লেখা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। মোদি ক্ষমতায় আসার পর সঙঘের শিক্ষা সেলের নেতা দীননাথ বাত্রা এন সি ই আর টির পাঠ্যক্রম থেকে রবীন্দ্রনাথের লেখা বাদ দেওয়ার সুপারিশও করেছেন।

    এই পরিস্থিতিতে সুব্র্যক্ষ্মণ্যম স্বামীর মন্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। স্বামী আশা প্রকাশ করেছেন আগামি ২৩শে জানুয়ারির মধ্যে তাঁর দাবি পূরণ হবে।এদিকে স্বামীর প্রস্তাবকে অন্য ভাবেও দেখছেন কেউ কেউ। তাঁরা বলছেন স্বামী আসলে কৌশলে বাঙালির মধ্যে গৃহ বিবাদ লাগাতে চাইছেন। রবীন্দ্রনাথের গানের বদলে তিনি সুভাষ চন্দ্রের আই এন এর গান জাতীয় সঙ্গীত করার দাবি করেছেন। এইভাবে বাঙালি রবীন্দ্রনাথ-সুভাষ চন্দ্রে ভাগ হয়ে যাবে।

    রাজনৈতিক মহল অবশ্য মনে করছে স্বামী যাই বলুন, আগামি বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে মোদি সরকার এখনই রবীন্দ্রনাথের গানে হাত দেওয়ার ঝুঁকি নেবে না। কারণ ভোট বড় বালাই।