বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

ন্যূনতম সহায়ক মূল্য আইনসিদ্ধ হোকঃ স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ
ন্যূনতম  সহায়ক মূল্য আইনসিদ্ধ হোকঃ স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ

ন্যূনতম সহায়ক মূল্য আইনসিদ্ধ হোকঃ স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ

  • scoopypost.com - Dec 14, 2020
  • কৃষকদের মূল দাবি সমর্থন করল আর এস এসের অর্থনৈতিক সেল স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ। তাদের দাবি ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের দাবিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হোক। এর পাশাপাশি তারা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের ধাঁচে কৃষকদের জন্য কৃষি আদালত গঠনেরও দাবি তুলেছে। কৃষকদের মূল দাবির প্রতি নিজেদের সমর্থন জানাতে তারা লিখিত বিবৃতি জারি করেছে। কৃষকদের মূল দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ তিন কৃষি আইন বদলের দাবি করেনি। তারা বলেছে এই আইনে কৃষকদের জন্য অনেক কিছু ভালো ব্যবস্থাও আছে।

    আইনের বদল না চাইলেও স্বদেশী জাগরণ মঞ্চের দেওয়া বিবৃতি্তে তিন কৃষি আইনের একাধিক গলদের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    • স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি স্বীকৃতী দাবি করেছে।

    • যে কোন বিবাদের নিষ্পত্তির জন্য তারা কৃষি আদালত গঠনের দাবি জানিয়েছে।

    • নতুন আইনে কিষাণ মান্ডি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে পারে বলে তারাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

    • নয়া আইনে বড় কোম্পানিগুলি কৃষকদের শোষণ করতে পারে বলেও মঞ্চ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

    স্বদেশী জাগরণ মঞ্চের জাতীয় সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাবে নয়া কৃষি আইনের গলদগুলি নিয়ে তাদের আশঙ্কা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মঞ্চ মনে করে বড় কোম্পানিগুলির সঙ্গে কোনও বিবাদ হলে নয়া আইনে কৃষকদের বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কারণ নয়া আইনে এই বিবাদের নিষ্পত্তির ক্ষমতা এসডিও পদাধিকারীদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। মঞ্চের মতে এই মহকুমা শাসকেরা এমনিতেই কাজের চাপে ব্যস্ত। তার ওপর এই দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তালে কৃষকরা তাদের নাগাল পাবেনা। এই সম্ভাবনা দূর করতে মঞ্চ কৃষি আদালত গঠনের দাবি জানিয়েছে।

    মঞ্চ স্বীকার করেছে নয়া আইনের ফলে ধীরে ধীরে এ পি এম সি গুলি লুপ্ত হয়ে যাবে। তার ফলে বড় কোম্পানিগুলি কৃষকদের শোষণ করার সুযোগ পেয়ে যাবে। সরকার অবশ্য বলেছে তারা আরো ২২,০০০ কিষাণ মান্ডি তৈরি করবে। মঞ্চ দাবি জানিয়েছে এই পরিস্থিতিতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যকে আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে। যাতে ওই দামের কমে কোনও বড় সংস্থা কৃষকদের পণ্য বিক্রি করতে না পারে।

    এই প্রসঙ্গে কৃষকদের সঙ্গে আলোচানার পর সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের বিষয়ে লিখিত আশ্বাস দিতে রাজি হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, সাধারণ প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতিকে বড় কোম্পানি যদি মেনে নিতে অস্বীকার করে তাহলে চাষিরা তাদের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে এঁটে উঠতে পারবে না। সেই কারণেই ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া দরকার।

    নয়া আইনের আরও এক বিষয়ে মঞ্চ আপত্তি জানিয়েছে। নতুন আইনের পরিভাষায়  বড় কোম্পানিগুলিও নিজেদের কৃষক বলে দাবি করতে পারে। নয়া আইনে যে, কোনও কিছু উৎপন্ন করছে বা ব্যবসা করছে নিজে অথবা শ্রমিক নিয়োগ করে তারাই কৃষক বলে গণ্য হবে।

    স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ মনে করে এটা একেবারেই যথার্থ নয়। মঞ্চ মনে করে যে নিজে ফসল উৎপন্ন করছে তাঁকেই কৃষক বলে চিহ্নিত করা উচিত। কোনও সংস্থা বা কোম্পানিকে নয়।

    স্বদেশী জাগরণ মঞ্চের বিবৃতি থেকে বোঝাই যায় যে নয়া কৃষি আইনে কত গলদ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙঘের অর্থনৈতিক সেল হওয়ার দরুন তারা হয়ত সরাসরি আইন বাতিলের দাবি জানাতে পারছে না। তবে আইনের মূল সুরে কৃষকদের শোষনের যে ষোলআনা সুযোগ রয়েছে তা তাদের লিখিত বিবৃতি থেকেই স্পষ্ট।