বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

চর্চায় শরদ পাওয়ার
চর্চায় শরদ পাওয়ার

চর্চায় শরদ পাওয়ার

  • scoopypost.com - Dec 11, 2020
  • ফের জাতীয় রাজনীতির চর্চায় প্রবীণ রাজনীতিক শরদ পাওয়ার। শরদ পাওয়ার নাকি  ইউ পি এর চেয়ারপার্সন হচ্ছেন? অসুস্থ সনিয়া গান্ধির জায়গায় তিনি নাকি এই পদে আসছেন। এই নিয়ে জাতীয় রাজনীতি এখন সরগরম।  

    শরদ পাওয়ার সম্প্রতি প্রথম চর্চায় আসেন তাঁর এক মন্তব্যের কারণে । কিছুদিন আগেই তিনি বলেন রাজনীতিতে রাহুল গান্ধির ধারাবাহিকতা নেই। একই সঙ্গে তিনি বলেন দলে রাহুলের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন আছে। সেই থেকেই প্রবীণ এই রাজনীতিককে নিয়ে আলোচনা চলছে। রাহুলকে নিয়ে পাওয়ারের ওই মন্তব্যকে পিতৃসুলভ উপদেশ বলে আলোচনায় যবনিকা টানার চেষ্টা করেছে কংগ্রেস শিবির। তাতে কিছুটা হলেও কাজ হয়েছে। তার প্রমাণও পাওয়া গেছে । কৃষক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিরোধী নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেন। বিরোধী নেতারা রাষ্ট্রপতির কাছে তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবি জানান।উল্লেখ্য বিরোধী দলের নেতৃত্বে ছিলেন রাহুল গান্ধি এবং প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিক শরদ পাওয়ারও।

    এরপরেও কিন্তু ইউ পি এর চেয়ারপার্সন পদে শরদ পাওয়ারের নাম উঠে আসছে।যদিও তাঁর দল এন সি পির মুখপাত্র মহেশ তাপস বলেছেন, এরকম কোনও সম্ভাবনা নেই। তাঁর অভিযোগ বর্তমানে দেশের তীব্র কৃষি আন্দোলন থেকে  নজর ঘুরিয়ে দিতেই খুব সজ্ঞানে এই ধরণের প্রচার চালানো হচ্ছে। যদি এন সি পি মুখপাত্রের কথাই ধরতে হয় তাহলে এই আলোচনায় এখানেই ইতি টেনে দেওয়া যায়। তা কিন্তু হচ্ছে না। কারণ এন সি পি এই প্রসঙ্গকে প্রচার বলে উল্লেখ করলেও এর প্রাসঙ্গিকতাকে সমর্থন করেছেন শিবসেনার নেতা সঞ্জয় রাউত। মহারাষ্ট্রে এখন তিন দলের জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।

    শিবসেনা তার বড় শরিক। সেই দলের দাপুটে নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছেন, ইউ পি এর চেয়ারপার্সন হওয়ার সমস্ত যোগ্যতা শরদ পাওয়ারের আছে। তিনি অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ রাজনীতিক, দেশের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বহু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে তিনি ইউ পি এর চেয়ারপার্সন হওয়ার জন্য যোগ্য ব্যক্তি।

    সঞ্জয় রাউতের এই মন্তব্য ভালভাবে নেয়নি কংগ্রেস। তারা জনিয়েছে ইউ পি এ জোটের বড় দল হিসেবে চেয়ারপর্সন কংগ্রসেরই কারুর হওয়ার কথা। অর্থাৎ কংগ্রেস বলতে চায় সনিয়া শারীরিক কারণে চেয়ারপর্সনের দায়িত্ব নিতে না পারলে সেই পদে বসবেন রাহুল গান্ধি।

    এখন প্রশ্ন হল রাহুল গান্ধির নেতৃত্ব নিয়ে দলেই বার বার প্রশ্ন উঠছে। কংগ্রেস এখনও তাদের সাংগঠনিক নির্বাচনের মাধ্যমে দলের সভাপতি ঠিক করে উঠতে পারেনি। ওয়ার্কিং কমিটিতে নির্বাচন হবে নাকি মনোনয়ন তাও নীতিগত ভাবে স্থির হয় নি। এমন এক পরিস্থিতিতে শরদ পাওয়ারের মতো ওজনদার রাজনীতিকের নাম যদি ইউ পি এর চেয়ারপার্সন হিসেবে উঠে আসে , তাহলে রাহুল গান্ধিকে জোটের নেতা হিসেবে অনেকেই মানতে চাইবেন না। সেক্ষেত্রে ইউ পি এর ওপর রাহুল গান্ধি তথা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। যা কংগ্রেসের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

    অন্যদিকে বিভিন্ন ভোটে কংগ্রেসের ফল ধারাবাহিক ভাবে খারাপ হচ্ছে। রাহুল গান্ধিকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতা করা যাচ্ছে না এ কথা অবিজেপি দলের নেতারা বুঝতে পারছেন। এই কথা বুঝতে পারছেন কংগ্রেসেরো একাধিক প্রবীন নেতা। দলে তাঁরা এই নিয়ে মুখও খুলেছেন। ফলে শরদ পাওয়ারকে সামনে রেখে মোদি বিরোধিতা অনেক বেশি শক্তিশালী হবে বলেই বহু বিরোধী দলের নেতা মনে করেন। শরদ পাওয়ারের একটাই নেতিবাচক দিক রয়েছে, সেটা তাঁর বয়স।তবে ভারতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কবে আর বাধা হয়েছে।

     

    .