মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

মোদির পুজো রাজনীতি
মোদির পুজো রাজনীতি

মোদির পুজো রাজনীতি

  • scoopypost.com - Oct 23, 2020
  • আপাত দৃষ্টিতে নিছকই পুজো উদ্বোধন। সেই সাদামাটা কাজটাই এখন রাজনীতির রঙে রাঙিয়ে গেল। যার মূলে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। যেহেতু নামটা মোদির তাই তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপই রাজনীতির আতসকাঁচের তলায় ফেলে বিচার করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি।

    সল্টলেকের ই জেড সি সি তে গতকাল বিজেপির দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এই ভার্চুয়াল পুজো উদ্বোধন রাজ্য রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

    নরেন্দ্র মোদির ভার্চুয়াল  উদ্বোধনের আগে থেকেই এই পুজো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। এ রাজ্যে এর আগে কোনও রাজনীতিক দলের উদ্যোগে কখনও পুজো হয়নি বলেই মত রাজ্যের প্রবীন রাজনীতিকদের। যদিও বিজেপি এই পুজোকে তাদের বলে মানতে নারাজ। তারা বলছে তাদের সাংস্কৃতিক সেল এই পুজোর উদ্যোক্তা।  যদিও এই পুজোর পুরোভাগে রয়েছেন কৈলাস বিজয় বর্গী, মুকুল রায়ের মতো নেতারা। এই পুজো নিয়ে আবার বিজেপির অন্দরের বিবাদও সামনে এসে গিয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই পুজোকে তাদের বলে স্বীকৃতি দিতে রাজি ছিলেন না। প্রকাশ্যে তা নিয়ে বিবৃতি দিতেও দ্বিধা করেন নি  তিনি। ফলে বিজেপির এই পুজো প্রথম থেকে বহু বিতর্কে, বিতর্কিত।

    নরেন্দ্র মোদি সেই বিতর্কে আরও কিছু রাজনৈতিক চর্চার বিষয় যোগ করে গেলেন। মোদি এদিন তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে পুজো নিয়ে যত না বললেন তার চেয়ে অনেক বেশি বললেন বাংলা, বাঙালির ঐতিহ্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাঙালির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের  অবদানের কথা।শিল্প, সাহিত্য, সমাজ সংস্কারে অবদান রাখা বাঙালিদের নাম উল্লেখ করলেন তিনি গড়গড় করে। সংবাদ মাধ্যম হিসেব করে দেখেছে মোদি তাঁর ভাষণে কম করে ৪০ জন বিশিষ্ট বাঙালির নাম উল্লেখ করেছেন। এমনকি বিশিষ্ট বাঙালী নারীদের নামও ছিল তাঁর তালিকায়। খুঁত ধরা যাঁদের অভ্যেস তাঁরা বলছেন, এই তালিকা থেকে বাদ গেছে দুই ক্ষেত্রের বিশিষ্ট বাঙালিরা-এক ক্রীড়াক্ষেত্র এবং রাজনীতি।

    রাজনীতিক বিশ্লেষকরা বলছেন , বিশিষ্ট বাঙালি রাজনীতিকদের নাম তিনি সচেতন ভাবেই এড়িয়ে গিয়েছেন। যদিও তিনি সুভাষ চন্দ্র বোসের নাম তিনি উল্লেখ করেছেন। কার নাম তিনি বলেন নি বরং সেটা বলাই সহজ হবে। রামমোহন থেকে রামকৃষ্ণ, রবীন্দ্রনাথ থেকে নজরুল, মা সারদা থেকে মাতঙ্গিনি হাজরা বাদ যান নি কেউই।বাদ পড়েন নি উত্তম-সুচিত্রাও।  

    মোদির এই বাঙালি প্রেম নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েন নি বিরোধীরা, সে তো তাঁরা সব সমোই করেন। কটাক্ষের কথায় যাওয়ার আগে একবার বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত মোদি কী করতে এসেছিলেন আর কী করলেন?

    তিনি ভার্চুয়াল পুজো উদ্বোধন করেন। বিজেপি সূত্রে খবর রাজ্যের প্রায় ৭২ হাজার বুথেই এই ভার্চুয়াল উদ্বোধন  দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রতি বুথে যাতে কমপক্ষে ২৫ জন এই ভার্চুয়াল উদ্বোধন দেখেন তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে এই ব্যাপক আয়োজনে কত টাকা ব্যয় করা হল। ভোটের দামামা বাজার আগেই যদি এই বিপুল টাকা খরচ করা হয় , তাহলে ভোট পর্বে কত টাকা খরচ হবে তা অমুমান করাই স্বাভাবিক।বিরোধীরা সেই প্রশ্ন তুলছেন।

    মোদি আসলে পুজো উদ্বোধনকে সামনে রাখে আগামি বিধানসভা নির্বাচনের সলতে পাকিয়ে গেলেন। সেই কারণেই তিনি এত করে বাঙালি বন্দনা করলেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।  

    তবে মোদির এই বাঙালি বন্দনায় জল ঢেলে দিয়েছেন তৃণমূল নেতা পার্থ  চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, অতই যদি বাঙালি প্রেম থাকে তাহলে বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দিয়ে দেখান মোদি।

    কংগ্রেসের নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন পুজোর আঙ্গিনায় রাজনীতি টেনে এনে মোদি বাংলার কৃষ্টি , সংস্কৃতিকে কালিমালিপ্ত করলেন।

    বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন,বিজেপি জানে তারা বাংলা এবং বাঙালি বিরোধী। তাই প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে বিশিষ্ট বাঙালিদের নামের তালিকা পাঠ করিয়ে নিলেন। এই ভাবে বাঙালিকে সম্মান দেওয়া যায় না।