বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

২০১৪র ভরাডুবির জন্য সনিয়া মনমোহনকে দায়ী করেছেন প্রণব
২০১৪র ভরাডুবির জন্য সনিয়া মনমোহনকে দায়ী করেছেন প্রণব

২০১৪র ভরাডুবির জন্য সনিয়া মনমোহনকে দায়ী করেছেন প্রণব

  • scoopypost.com - Dec 12, 2020
  • আগামি বছর জানুয়ারিতে প্রকাশ পাবে তাঁর বই। এটাই তাঁর বইয়ের চূড়ান্ত পর্ব। লেখক প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।বইয়ের নাম দ্যা প্রেসিডেন্সিয়াল ইয়ার্স। প্রকাশনা সংস্থা রূপা প্রণব মুখোপাধ্যায়ের এই বই আগামি জানুয়ারিতে  বিশ্বব্যাপী প্রকাশ করবে বলে স্থির করেছে।

    বইয়ের যে সংক্ষিপ্তসার জানা গেছে তা থেকে মনে হচ্ছে, বই সবার হাতে পৌঁছলে আবার ঝড় উঠবে। ঝড় উঠবে কংগ্রেসে। যে কংগ্রেস্ পর পর নির্বাচনী বিপর্যয়ে ঘরে বাইরে জেরবার হয়ে রয়েছে সেই কংগ্রেসে আবার বড়সড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির এই বই।

    কেন এমনটা মনে হছে? এই বইতে প্রণব মুখোপাধ্যায় অনেক স্পষ্ট ভাবেই ২০১৪ সালে সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির জন্য সরাসরি সনিয়া গান্ধি এবং ডঃ মনমোহন সিংকেই দায়ী করেছেন।

    ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে পর্যন্ত প্রায় সব কংগ্রেস মন্ত্রিসভায় প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেন কংগ্রেসের বল-ভরসা। দল বা সরকারের যে কোনও সমস্যায় তিনি ছিলেন মুশকিল আসান। এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রপতি করে দেওয়ার পিছনেও কংগ্রেসের বিশেষ করে গান্ধি পরিবারের হাত দেখতে পান বহু কংগ্রেসী।  

    প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর বইয়ে লিখেছেন, কংগ্রেসের অনেকেই মনে করেন ২০০৪ সালে যদি আমি প্রধানমন্ত্রী হতাম তাহলে হয়ত ২০১৪র ভোটে কংগ্রেসের এমন ভরাডুবি হত না। ভোটের ফল কেন এমন হল তারও নিজের মতো করে মূল্যায়ন করেছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন সনিয়া গান্ধি দলের কাজ এবং দলের সমস্যা  ঠিকমতো সামলাতে পারেন নি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দীর্ঘদিন সংসদের বাইরে থাকায়, ভিন্ন দলের নেতা, সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ নষ্ট হয়ে যায়।

    প্রণব লিখেছেন, ‘কংগ্রেসের অনেকে মনে করত আমি প্রধানমন্ত্রী হলে এই ভোট বিপর্যয় হত না। যদিও আমি নিজে তা মনে করি না। আমি মনে করি, আমি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর দলের নেতৃত্ব রাজনৈতিক লক্ষ্য হারিয়ে ফেলে’।

    প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর বইয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখছেন, ‘আমি মনে করি সরকার পরিচালনা করার নৈতিক কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর ওপরই নির্ভর করে। দেশের সামগ্রিক ছবিটা ধরা পড়ে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর প্রশাসনের কাজকর্মের ওপর। ডঃ সিং তাঁর জোট সরকার বাঁচিয়ে রাখতেই সব সময়  ব্যস্ত থাকতেন। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি তাঁর প্রথম দফায় স্বৈরতান্ত্রীক প্রশাসন চালাতে শুরু করেছিলেন। যার ফলে বিচারব্যস্থা, আইনসভা এবং সরকারের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়। একমাত্র সময়ই বলতে পারবে তাঁর পরের দফায় এইসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হল কিনা’।এই বইতে তিনি বেশ কিছু রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার মতো বিতর্কিত বিষয়েরও উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে নোট বাতিলের মতো পদক্ষেপে তাঁর ভূমিকারও উল্লেখ রয়েছে তাঁর বইতে।  

    এই বইকে প্রণুখোপাধ্যায়ের একেবারে নিজস্ব মতামত এবং উপলব্ধি বলেই প্রকাশকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। প্রকাশকের মতে, প্রণব বাবুকে বহু জটিল পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। সাংবিধানিক গুরুত্ব এবং নিজের মতামতের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়  তাঁকে সব সময়ই মাথায় রাখতে হত।

    তাঁর সম্পর্কে বলা হত, ‘তিনি হলেন সবচেয়ে যোগ্য এবং ভাল প্রধানমন্ত্রী যা দেশ কোনওদিন পেলনা’ । প্রণব বাবু তাঁর বইয়ের আগের পর্বে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক কীভাবে সামলেছেন তা ব্যাখ্যা করেছেন।

    প্রণব বাবুর মনে হয়েছিল ২০০৪ সালে  প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সনিয়া গান্ধি তাঁকেই বেছে নেবেন, কিন্তু সনিয়া বাছলেন মনমোহন সিং কে। ২০১৭তে বইয়ের আগের পর্বের উদ্বোধনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং বলেছিলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় প্রণব বাবু খুব সঠিক কারণেই কিছুটা ভেঙ্গে পড়েছিলেন। তাঁর অখুশি হওয়ার যুক্তি গ্রাহ্য কারণ ছিল, কিন্তু তিনি সব সময়ই আমাকে যথেষ্ঠ শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। আমাদের মধ্যে খুব ভাল সম্পর্ক ছিল এবং যতদিন বাঁচব তা বজায় থাকবে’ ।