মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

রাজ্যে নির্বাচনী প্রচার শুরু বিজেপির
রাজ্যে নির্বাচনী প্রচার শুরু বিজেপির

রাজ্যে নির্বাচনী প্রচার শুরু বিজেপির

  • scoopypost.com - Oct 20, 2020
  • আগামি বিধানসভা ভোটের প্রচার শুরু করে দিল বিজেপি। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু হল এই প্রচার। বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা নিজেই এই প্রচার শুরু করে দিয়ে গেলেন। যে উত্তরবঙ্গে গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ফল সবচেয়ে ভাল হয়ছিল সেই উত্তরবঙ্গ থেকেই দলের প্রচার শুরু করলেন জেপি নাড্ডা।

    যদিও বিজেপির স্ট্রং ম্যান বলে পরিচিত অমিত শাহেরই এ রাজ্যে আসার কথা ছিল।শেষ মুহূর্তে তাঁর বদলে আসেন জেপি নাড্ডা। এই রদবদলে দলের কর্মী-সমর্থকরা বেশ হতাশ।মুখে সে কথা স্বীকার না করলেও জেপি নাড্ডার সমাবেশে উপস্থিতিই সে কথার প্রমাণ  দেয়।

    জেপি নাড্ডার একাধিক বক্তব্যের মধ্যে প্রধান বিষয় ছিল  সি এ এ । এই নাগরিকত্ব আইন নিয়ে এ রাজ্যে কোনঠাসা হয়ে রয়েছে বিজেপি। দলের সাংসদ  এবং মতুয়া নেতা শান্তনু ঠাকুর নিজেই এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে দলকে বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। ফলে এই সি এ এ নিয়ে দলের সমর্থকদের আশ্বস্ত করার দায় ছিল বিজেপির। সেই কাজটাই করার চেষ্টা করলেন জেপি নাড্ডা।

    নাড্ডা তাঁর বক্তব্যে নাগরিকত্ব, চা বাগানের সমস্যা এবং পাহাড়ের জনজাতি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বক্তব্য তুলে ধরেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল নাড্ডা তাঁর বক্তব্যে সরাসরি গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কোনও মন্তব্য করেন নি।  নাড্ডা তাঁর বক্তব্যে বিজেপি সমর্থকদের আরও ছমাস কষ্ট সহ্য করে দলের কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন,তারপরেই বাংলায় ক্ষমতায় আসবে বিজেপি।  

    এদিকে নাড্ডার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম অভিযোগ করেন এই বাংলায় বিজেপির কোনও জায়গা নেই। গোটা বাংলা মমতাময়। তিনি বলেন মমতা আজ যা ভাবেন বিজেপি কাল তা ভাবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি সুকৌশলে বিতর্কিত বিষয় গুলি এড়িয়ে গেছেন। কৃষি বিল বা শ্রম আইন সংশোধনের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলি তিনি এড়িয়ে গেছেন। যদিও এ রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত বা কৃষি সম্মানের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্প কেন চালু করা হচ্ছে না তিনি তার জবাব চান?  

    বিজেপির অন্দরের খবর অমিত শাহ এলে প্রচারে যে প্রভাব পড়ে জেপি নাড্ডাকে  দিয়ে তা হয় না। ফলে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতির এই সভায় ভোটে তেমন প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন না বিজেপি নেতারা।দলের নেতা, কর্মী  থেকে  সমর্থকদের ভোটের ময়দানে নামাতে অমিত শাহের উপস্থিতি যতটা কর্যকর নাড্ডার পক্ষে তা সম্ভব নয় বলেই মনে করেন বিজেপির রাজ্য নেতারা।তাছাড়া এই মুহূর্তে বিজেপির সবচেয়ে বড় সমস্যা হল তাদের গৃহ বিবাদ। অতি সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয়ে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ  এবং মুকুল শিবিরের বিভেদ একেবারে সামনে এসে গিয়েছে। রাহুল সিনহার মতো নেতারাও যে দলের প্রতি খুবই রুষ্ট তাও আর চাপা নেই। এই পরিস্থিতিতে দলকে এক জায়গায় এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মাঠে নামানো যে বড় চ্যালেঞ্জ তা একান্ত আলোচনায় মেনে নিচ্ছেন দলের সব স্তরের নেতারাই।