বুধবার, মে 12, 2021

বেসুরো বিবেক, দ্বিতীয় বলি করোনা সঙ্কটে
বেসুরো বিবেক, দ্বিতীয় বলি করোনা সঙ্কটে

বেসুরো বিবেক, দ্বিতীয় বলি করোনা সঙ্কটে

  • scoopypost.com - May 12, 2020
  • করোনা সঙ্কটের আবহে রাজ‍্য প্রশাসনে সচিব পর্যায়ে দ্বিতীয় বলি হলেন স্বাস্থ্যসচিব বিবেক কুমার। মঙ্গলবার তাঁকে স্বাস্থ্যসচিব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এখন থেকে তিনি পরিবেশ দফতরের দায়িত্ব সামলাবেন। নতুন স্বাস্থ্যসচিব হলেন নারায়ণস্বরূপ নিগম। নিগম ছিলেন পরিবহণ সচিব।
    মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের আধিকারিক ছিলেন সুগায়ক বিবেক কুমার। বহু সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে গান গাইতে দেখা গিয়েছে। করোনা সঙ্কটে স্বাস্থ্যসচিব বিবেক কুমার নাকি বেসুরো গাইছিলেন। কোভিড হাসপাতালগুলির রোগীমৃত্যু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের জন্য কিনা খতিয়ে দেখতে অডিট কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত নাকি তাঁর একক ছিল। সেইসঙ্গে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ও সংক্রমণের জেরে মৃত্যুর সংখ্যায় বিস্তর গোলমাল ছিল স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিনে। কেন্দ্রীয় পরিদর্শক দলের চিঠির উত্তরে করোনায় মৃতের সংখ্যার সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিনে প্রকাশিত সংখ্যার গরমিল বিরোধী বিজেপির অভিযোগকে মান‍্যতা দেয়। বিজেপি অভিযোগ তুলেছিল, এরাজ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা কম করে দেখানো হচ্ছে। অনেকের করোনা পরীক্ষাও করা হচ্ছে না কোভিড হাসপাতালগুলিতে। কেন্দ্রীয় পরিদর্শক দলের সফরের পর আশ্চর্যজনকভাবে করোনায় মৃতের সংখ্যা একলপ্তে অনেকটাই বেড়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং করোনা সংক্রমণ নিয়ে রোজকার প্রেস ব্রিফিং করলেও এইসব বিতর্ক শুরু হলে ব্রিফিংয়ের দায়িত্ব মুখ‍্যসচিব রাজীব সিনহার উপর ছেড়ে দেন। স্বাস্থ্যসচিবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় পরিদর্শক দলকে তথ্য যোগাতে গিয়ে, চিঠির উত্তর দিতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় মুখ‍্যসচিবকেও। মুখ‍্যসচিব নিজে স্বীকার করেন পদ্ধতিগত ত্রুটির জন্য করোনায় মৃতের সংখ্যায় গরমিল ছিল। যদিও প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের মধ্যে আশঙ্কা," এবার কার পালা? " খাদ্যসচিবের পর স্বাস্থ্যসচিব বদলি হয়েছেন। নবান্ন সূত্রে অবশ্য স্বাস্থ্যসচিবের বদলিকে রুটিন বলা হয়েছে কিন্তু আমলা মহলে আশঙ্কার মেঘ জমেছে।
    করোনা সঙ্কটে মাসখানেক আগে প্রথম সরতে হয়েছিল খাদ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে। ডিজিটাল কার্ড, আরকেএসওয়াই ১ এবং আরকেএসওয়াই ২ রেশন কার্ডধারীদের জন‍্য রাজ‍্য সরকার মাথাপিছু ৫ কেজি করে চাল বিনামূল্যে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। তা সত্ত্বেও বহু মানুষ রেশন থেকে তা না পাওয়ায় অসন্তোষ দানা বাঁধে। রাজ‍্য সরকার ও শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রেশন দূর্নীতির অভিযোগ তোলে সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী কংগ্রেস,বিজেপি সহ সমস্ত বামদল। রেশন দূর্নীতিতে রাজ‍্য বিজেপি সরাসরি খাদ্যমন্ত্রী জ‍্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দিকে আঙ্গুল তুলে তাঁর পদত্যাগ দাবি করে। এই অতি মহামারির জেরে কেউ যাতে অভুক্ত না থাকে তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো চাল, ডাল প্রাথমিকভাবে রাজ‍্য নিতে না চাওয়ায় গণবন্টনে সমস্যা ঘনীভূত হয়েছিল। লকডাউনে রাজ‍্যের চালকলগুলি বন্ধ থাকায় সেইসমস্ত চালকল থেকে চাল সংগ্রহ বন্ধ থাকায় রাজ‍্যের প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষকে রেশন দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সেইসঙ্গে ত্রাণ বিলির জন্য শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের চাপের কথাও বলে আসছিলেন রেশন ডিলাররা। খাদ্যমন্ত্রী অবশ্য কেন্দ্রের ও বিরোধীদের অপপ্রচার, রেশন দোকানদারদের দূর্নীতি বলে নিজে দায়মুক্ত থেকেছেন। রেশন দূর্নীতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বিরক্তি প্রকাশ করে খাদ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠান। একসপ্তাহ হয়েছে, তিনি সচিব পদে ফের কাজে যোগ দিয়েছেন অগ্নি নির্বাপন ও জরুরি পরিষেবা দফতরে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে কেন্দ্রের পাঠানো ডাল গণবন্টনের জন্য না তুলতে নির্দেশ দেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। যদিও রেশনে ডাল দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রের ও বিরোধীদের অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে অবশ্য অবস্থান বদলে বলেন কেন্দ্র মুসু্র ও মুগ ডাল দেয়নি, তরকা ডাল অর্থাৎ গোটা মুগ দিয়েছে। গোটা মুগ ভাঙিয়ে দেওয়ারও দাবি জানান খাদ্যমন্ত্রী কিন্তু তা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় কেন্দ্র। এদিকে রাজ্য সরকার গোড়ায় মুসুরডাল না তোলায় উত্তর পূর্বের রাজ‍্যগুলিতে পাঠিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।