বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

অরণ‍্যের অধিকার নেই যেখানে
অরণ‍্যের অধিকার নেই যেখানে

অরণ‍্যের অধিকার নেই যেখানে

  • scoopypost.com - Jan 20, 2021
  • মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের কোলে পটে আঁকা ছোট্ট গ্রাম চিরিঙ্গমাগরে। উপজাতিদের বাস এই গ্রামে। গারো পাহাড়ের দক্ষিণে মূল সড়ক থেকে প্রায় ৬ ঘণ্টার দূরত্ব এই গ্রামের প্রবেশ পথ গভীর স‌ং কোশি অরণ্যের মাঝে। গারো হিলস জেলার চকোপট ব্লকের ১০ কি.মি দূরে এই অরণ্য যার বিস্তার ৯৭ বিঘা জুড়ে।


    এই অরণ‍্যের চারদিকে জানা, অজানা সুদৃশ্য ফুল, ফলের গাছে ভর্তি সবুজ বনানীর শোভা দেখলে বোধ হবে স্রষ্টার হাত চলকে একঢাল সবুজ গড়িয়ে পড়েছে। শান্ত, সুন্দর, এই অরণ‍্যে নানা পশু, পাখি, কীটপতঙ্গের বাস। গ্রামবাসী ছাড়া বহিরাগতদের এই গ্রামে প্রবেশ নিষেধ। এর কারণও বড় অদ্ভুত। যেহেতু গ্রামে ঢুকতে বনপথ ধরতে হয়, তাই বহিরাগতদের ঢোকায় আপত্তি। এই অরণ‍্যে ফুল ছেঁড়া, ফল তোলা, গাছগাছালিতে হাত দেওয়া, সবুজের কোনও রকম ক্ষতি এবং পশু, পাখি, কীটপতঙ্গ শিকার পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ।

    অরণ‍্যের অধিকার রয়েছে যা উপজাতিদের কিন্তু চিরিঙ্গমাগরে গ্রামের বাসিন্দাদের বাপ ঠাকুরদার আমল থেকে এই অরণ‍্যে শিকার ও সবুজ ধ্বংস একেবারে নিষিদ্ধ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, কেউ অন‍্যথা করলে, পূর্বপুরুষের সময়কাল থেকে চলে আসা প্রথা ভাঙলে সেই ব‍্যক্তি রোগ ব‍্যাধিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। এতদিন ধরে গ্রামবাসীরা এই অরণ্য শুধু রক্ষা করে আসছেন তাই নয়, এই অরণ্যকে পবিত্র বলেও মানেন। গ্রামবাসীরা এই অরণ্য এতটাই পবিত্র বলে মানেন যে সেখানে নোংরা করা এমনকী থুতু ফেলার কথাও ভাবতে পারেন না। এই অরণ‍্যের সৃষ্টি আনুমানিক সপ্তদশ শতকে। ওয়ান্ডিং চ. মারাক এবং তাঁর স্ত্রী মেজিং এম. সাংমা অন‍্যান‍্য গ্রামবাসীদের নিয়ে এই অরণ‍্যে প্রথম বলি চড়ান। উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ প্রকৃতি দেবতায় বিশ্বাসী। সমগ্র জীবজগতের স্রষ্টা সর্বশক্তিমান কারাকামে -কে খুশি রাখতে তাঁরা বছরে একবার বলি চড়াতেন। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বলি প্রথা চলে এসেছে। তবে


    চিরিঙ্গমাগরে গ্রামের উপজাতি সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ মানুষ বর্তমানে খ্রিস্টধর্ম নিয়েছেন। তাই এখন আর অরণ্য পুজোয় বলি চড়ানো হয় না। যদিও খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত উপজাতি গ্রামবাসীরা আজও ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনে এই অরণ্য বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন।