বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

কৃষকদের প্রতিবাদে দিল্লি-জয়পুর হাইওয়ে বন্ধ
কৃষকদের প্রতিবাদে দিল্লি-জয়পুর হাইওয়ে বন্ধ

কৃষকদের প্রতিবাদে দিল্লি-জয়পুর হাইওয়ে বন্ধ

  • scoopypost.com - Dec 13, 2020
  • দিল্লি-জয়পুর হাইওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার কৃষক রবিবার মিছিল সেদিকে যাত্রা করায় এই পদক্ষেপ। মোদি সরকারের তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ১৮ দিন ধরে কৃষকরা দিল্লি সীমান্তে অবস্থান করছেন। সরকারের সঙ্গে তাঁদের  তিন দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এবার তাঁরা আন্দোলনের তীব্রতা বাড়াচ্ছেন।কৃষকরা আগেই জানিয়েছিলেন তাঁর ১৪ তারিখ দিল্লি-জয়পুর হাইওয়ে অবরোধ করবেন। রবিবার রাজস্থান হরিয়াণা সীমান্তের শাহাজাহানপুর এলাকায় হাজার হাজার কৃষক জমায়েত করেন। তাঁরা ট্র্যাক্টরে চেপে হাইওয়ের দিকে মিছিল করেন।এরপরেই হাইওয়ে বন্ধ করা হয়।

    শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেন তিন কৃষি আইন চাষিদের আয় বাড়াবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়বে। কৃষকরা নতুন প্রযুক্তি, নতুন সুযোগ সুবিধে পাবেন।  তিনি বলেন দেশের কৃষকদের উন্নয়নই তাঁর সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। প্রধানন্ত্রী এ কথা বললেও কৃষকরা সে কথায় আন্দোলনের পথ থেকে সরছেন না। বরঞ্চ আন্দোলন আরও তীব্র করতে চাইছেন।

    এদিকে ২৯ জন কৃষক নেতা শনিবার কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমারের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা নয়া কৃষি আইন সমর্থন করেছেন। তাঁরা বলেছেন এই আইন বদল হলে তাঁরা প্রতিবাদ করবেন। ঘটনাচক্রে এদিনই হরিয়ানার উপমুখ্যমন্ত্রী দুষ্যন্ত চৌতলা বলেছেন, আগামি ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কৃষক আন্দোলনে বড় পরিবর্তন হবে। তিনি বলেন প্রতিবাদী কৃষকদের সঙ্গে সরকারের শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে।

    স্বরাজ ইন্ডিয়ার প্রধান যোগেন্দ্র যাদব রবিবার প্রতিবাদী কৃষকদের মিছিলের পুরোভাগে থেকে নেতৃত্ব দেন। মিছিলে সামিল হন মেধা পাটেকরও। যোগেন্দ্র যাদবকে মিছিলের পুরোভাগে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে লেখা , ‘দিল্লি চলো দল্লি চলো, সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা’।  

    কৃষকরা জানিয়েছেন তাঁরা আলোচনায় রাজি আছেন, তবে সেই আলোচনা হতে হবে আইন বাতিল নিয়ে। কৃষকরা মনে করেন তিন কৃষি আইনের ফলে তাঁরা  বৃহৎ কর্পোরেটের হাতের পুতুল হয়ে পড়বেন। তাঁদের ফসল ফলানো থেকে তা বিক্রি করা সবেতেই কর্পোরেটদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে।

    এদিকে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে কৃষক আন্দোলন সংশ্লিষ্ট তিনটি পৃথক আবেদনের শুনানি হবে। প্রথমটি এক ছাত্রের করা। তাঁর আবেদন কৃষকদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হোক। কারণ তাঁরা কোভিড নিয়ন্ত্রণে জরুরি পরিষেবা অবরোধ করে রেখেছেন। দ্বিতীয় আবেদনে কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। দিল্লি-হরিয়ানা সীমানায় কৃষকদের ওপর পুলিশ যে দমন-পীড়ন চালিয়েছে তার জন্যই এই ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।তৃতীয় আবেদনে প্রতিবাদী কৃষকদের দিল্লি প্রবেশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।  

    ১৮ দিন ধরে চলা কৃষকদের আন্দোলনে এখনও কোনও সমাধান সূত্র না মেলায় বিজেপি এখন অন্যপথে আন্দোলনের মোকাবিলা করতে চাইছে। বিজেপি নেতারা কৃষক আন্দোলনকে বিভিন্ন ভাবে দুর্নাম করার চেষ্টা করছেন বলে চাষিদের অভিযোগ। বিজেপি নেতারা বলছেন, এটা খালিস্তানিদের আন্দোলন। কখনও বলছেন এই আন্দোলন বাম এবং অতিমাবেদের দখলে চলে গেছে। আবার কখনও বলছেন এই আন্দোলনের পিছনে পাকিস্তান এবং চিনের হাত রয়েছে।

    কৃষকরা বলছেন তাঁদের আন্দোলনকে শুধু বদনাম করাই নয় সরকার এখন তাঁদের ঐক্য ভাঙতে চাইছে। কৃষকদের দাবি সরকার যাই করুক তাঁরা নিজেদের দাবি থেকে সরবেন না।

     

    .