বুধবার, এপ্রিল 14, 2021

ফের বিতর্কে পি এম কেয়ার্স
ফের বিতর্কে পি এম কেয়ার্স

ফের বিতর্কে পি এম কেয়ার্স

  • scoopypost.com - Dec 17, 2020
  • যাত্রার শুরু থেকেই বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না পি এম কেয়ার্সের। মার্চে এই তহবিল গঠনের শুরু থেকেই এই তহবিল নিয়ে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই তহবিল গঠনের উদ্দেশ্যে এবং তার যৌক্তিকতা নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলেছে। জবাব মেলেনি সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। যদিও এই তহবিলের তিনিই চেয়ারপার্সন।

    আবার সেই পি এম কেয়ার্স নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার বিতর্ক তহবিলের চরিত্র নিয়ে। অর্থাৎ এই তহবিল সরকারি  নাকি বেসরকারি? এই বিতর্ক সামনে এসেছে  সরকারি বয়ান এবং পি এম কেয়ার্সের নথির মধ্যে বিস্তর গরমিল থাকায়। এই তহবিলকে সরকারি বলেই জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে। আবার এই তহবিলের নথিতে বলা হচ্ছে এটি বেসরকারি ট্রাস্ট। আর তাই তথ্য জানার অধিকার বা আর টি আই এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ট্রাস্টের দলিলের ৫.৩ ধারায় বলা হয়েছে এর নিয়ন্ত্রণ বা মালিকানা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও সংস্থার অর্থ সাহায্যে এই তহবিল চলে না।এই তহবিলের ওপর কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই।  

    তহবিলের নথিতে এ রকম বলা হলেও কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে কিন্তু অন্য কথা বলা হয়েছে।২৭ মার্চ এই তহবিল গঠনের কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৮ তারিখ রেজিস্ট্রি করা হয় প্রাইম মিনিস্টার্স সিটিজেন্স অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড রিলিফ ইন ইমার্জেন্সি সিচুয়েশন বা পি এম কেয়ার্সের। ওই দিনই কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক থেকে এক মেমোরেন্ডাম জারি করে এই তহবিলকে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি বা সি এস আরের আওতায় নিয়ে আসা হয়। সি এস আরের আওতায় থাকায় কর্পোরেট সংস্থার কাছ থেকে অনুদান নেওয়ায় কোনও বাধা থাকে না।

    এদিকে সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ একটি জনস্বার্থ মামলা করেন।তাতে তিনি কিছু নথি পেশ করেন। নথি অনুযায়ী এই তহবিল যেহেতু সরকারি নয় সেক্ষেত্রে এখানে কর্পোরেট সংস্থার অনুদান আসতে পারে না। অথচ গত কয়েক মাস ধরে এই তহবিলে কর্পোরেট অনুদান জমা পড়ে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম এই বিষয়টি অগাস্ট মাসে সামনে আনেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি এই তহবিল সরকারি না হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রী এবং তিনজন মন্ত্রী এর ট্রাস্টি হিসেবে রয়েছেন কেন? তাছাড়া বেসরকারি সংস্থায় কর্পোরেট অনুদান জমা পড়ে কী করে? মোদি সরকার এই নিয়ে জনস্বার্থ মামলারও জবাব দিতে রাজি হয়নি।  

    কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা এই পি এম কেয়ার্স নিয়ে সরকারের কাছে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন।

    • সুজেওয়ালার প্রশ্ন, ভারতীয় রাষ্ট্রদূতেরা কেন গোপনে এই তহবিল নিয়ে প্রচার করেছে। কেন প্রকাশ্যে করা হয়নি?

    • প্রচারের কাজে কেন চিনা অ্যাপ ব্যবহার করা হয়েছে?সরকারি তহবিল না হওয়া সত্ত্বেও কেন রাষ্ট্রদূতেরা এই তহবিলের জন্য প্রচার করেছেন?

    • ২৭টি বিদেশি রাষ্ট্র থেকে কত টাকা অনুদান পাওয়া গেছে?

    • পাকিস্তান, কাতার থেকে কত টাকা অনুদান এসেছে? কারা সেই টাকা দিয়েছে?

    • কেন এই তহবিলকে ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন)অ্যাক্ট (এফ সি আর এ)থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে?

    • কেন এই তহবিলকে সি এ জির আওতায় রাখা হয়নি?

    প্রশ্ন অনেক মোদি সরকারের মুখে কুলুপ।