মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

পরবর্তী প্রধান বিচারপতি নিয়ে বিতর্ক
পরবর্তী প্রধান বিচারপতি নিয়ে বিতর্ক

পরবর্তী প্রধান বিচারপতি নিয়ে বিতর্ক

  • scoopypost.com - Oct 12, 2020
  • দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি কে হবেন? বর্তমান প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে অবসর নিচ্ছেন ২০২১ এর ২৩ এপ্রিল।তারপর স্বাভাবিক নিয়মে এই পদে বসার কথা বিচারপতি এন ভি রামানার। সিনিয়রটির ভিত্তিতে তাঁরই ওই পদে বসার কথা। সম্প্রতি তাঁর ওই পদে বসা নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে। এর পিছনে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর একটি চিঠি। সেই চিঠি তিনি লিখেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদেকে। ৬ অক্টোবরে লেখা তাঁর চিঠিতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এন ভি রামানার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডির লেখা চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বিচারপতি রামানা অন্ধ্রপ্রদেশের তেলেগু দেশম পার্টির নেতা চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে মিলিত হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতিদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।এমনকি সরকার ফেলার চেষ্টা হচ্ছে বলেও চিঠিতে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিচারপতি রামানার মেয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের অমরাবতী এলাকায় জমি কিনেছেন। এই অমরাবতীতেই অন্ধ্রপ্রদেশের নতুন রাজধানী হওয়ার কথা । যদিও সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ বিচারপতিরা বলছেন, জমি কেনা কোনও অপরাধ নয়। বহু মানুষই অমরাবতীতে জমি কিনেছেন।

    জগনের এই অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।সুপ্রিম কোর্টের বর্তমন প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে অবসর নেবেন আগামি বছর এপ্রিল মাসে। পদ্ধতি অনুযায়ী ২৪ এপ্রিল ২০২১এ ওই পদে বসার কথা বিচারপতি ভি রামানার। তিনি ওই পদে থাকবেন ২০২২ এর ২৬ অগাস্ট পর্যন্ত। প্রশ্ন হল এখন জগনের এই অভিযোগের ভিত্তিতে যদি বিচারপতি রামানার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়, তাহলে তাঁর ওই পদে বসা আটকে যেতে পারে।

    সূত্রের খবর, কোনো কারণে যদি বিচারপতি রামানা ওই পদে না বসতে পারেন তাহলে ওই পদে আসবেন বিচারপতি উদয় উমেশ ললিত ।তবে স্বাভাবিক নিয়মে তিনি ওই পদে এলে তার মেয়াদ হবে মাত্র সাড়ে তিনমাস। যদি বিচারপতি রামানা ওই পদে না বসেন তাহলে উদয় উমেশ ললিত অনেক বেশি দিন প্রধান বিচারপতির পদে থাকতে পারবেন।

    বিচারপতি উদয় উমেশ ললিত আইনজীবী থেকে বিচারপতি পদে এসেছেন । আইনজীবী হিসেবে তিনি গুজরাতে পুলিশের ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় অমিত শাহের হয়ে সওয়াল করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি তাই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে উদয় উমেশ ললিতকেই চাইছেন বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে। সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের সংগে মোদি সরকারের এর আগেও বিরোধ হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত সরকারকে পিছু হঠতে হয়েছে। এখন বিচারপতি রামানার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের কাছে। বল এখন তাঁর কোর্টে বলেই মনে করছেন প্রবীন আইনজীবী এবং কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক মনুসিংভি। তিনি বলেছেন , গণতন্ত্রে বিচারবিভাগ এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এখন এই বিষয়ে কোনও দলের টিপ্পনি করা উচিত নয়।

    এদিকে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে জগনমোহন রেড্ডির অভিযোগ জানানোর সময় নিয়ে । ৬ অক্টোবর তিনি দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন। দেখা করেছেন অমিত শহের সঙ্গেও। ওই দিনই তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে আর এক বিচারপতির বিরুদ্ধে আট পাতার লিখিত অভিযোগ জমা দিলেন। এই দুয়ের মধ্যে যোগসূত্র দেখতে পাচ্ছেন বহু বিরোধী নেতা।

    এখন প্রশ্ন হল জগনের রাগের কারন কী?

    বিচারপতি এন ভি রামানা দাগী রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে জমে থাকা মামলার চূড়ান্ত নিস্পত্তির জন্য বিভিন্ন হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই তালিকায় নাম রয়েছে জগনেরও। যদি তিনি কোনও ভাবে দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে তাঁকে কড়া সাজার মুখে পড়তে হবে। আদালত তাঁকে যতদিনের সাজা দেবে তারপরেও ছ বছর তিনি কোনও নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না। অন্তত ১৩টি মামলায় জগনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়েছে।  

    রাজনৈতিক দিক থেকেও এই ঘটনার  আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। কেন্দ্রে এখন এন ডি এ সরকার রয়েছে বললেও,কার্যত তা বিজেপি সরকার হয়েই রয়েছে। মোদি মন্ত্রিসভায় এখন টিম টিম করে একমাত্র শরিক দলের মন্ত্রী রয়েছেন রামদাস অটওয়াল। কৃষি বিলের প্রতিবাদে বিজেপির সবচেয়ে পুরনো জোট শরিক অকালি শুধু সরকার থেকে বেরিয়ে যায় নি, জোট থেকেও বেরিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে তাই বিজেপির নতুন জোট সঙ্গী দরকার। সে ক্ষেত্রে জগনের ওয়াই এস আর কংগ্রেসের চেয়ে ভাল শরিক আর কে হতে পারে?