মঙ্গলবার, অক্টোবর 20, 2020

পদ্ম সম্মাননা ১৪১ জনকে, রাজ্যের প্রাপক ৫
পদ্ম সম্মাননা ১৪১ জনকে, রাজ্যের প্রাপক ৫

পদ্ম সম্মাননা ১৪১ জনকে, রাজ্যের প্রাপক ৫

  • scoopypost.com - Jan 26, 2020
  • পদ্ম সম্মাননা ১৪১ জনকে, রাজ্যের প্রাপক ৫

    শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, সমাজসেবা ক্রীড়া সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকার জন্য এবছর প্রজাতন্ত্র দিবসে ১৪১ জনকে পদ্ম পুরস্কারে সম্মানিত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পদ্মবিভূষণ প্রাপকের সংখ্যা ৭জন। ১৬জন পাচ্ছেন পদ্মভূষণ পুরষ্কার। পদ্মশ্রী পাচ্ছেন ১১৮ জন। এমনকী, পুরষ্কার প্রাপকের তালিকায় অনাবাসী ভারতীয় ও বিদেশি রয়েছেন ১৮জন। পদ্ম প্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন বাংলার ৫ জন।

    পশ্চিমবঙ্গের পাঁচঃ

    পদ্মভূষণ পাচ্ছেন ধ্রুপদী সংগীত শিল্পী অজয় চক্রবর্তী। আগেই পেয়েছিলেন পদ্মশ্রী। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে শাস্ত্রীয় সংগীতকে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন বিদেশের মাটিতে। পদ্মশ্রী পুরষ্কার পাচ্ছেন শিক্ষা ও সাহিত্যে ক্ষেত্রে কাজি মাসুম আখতার, চিকিৎসায় সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরুণোদয় মণ্ডল এবং বিষ্ণুপুর ঘরানার বিশিষ্ট সেতার শিল্পী মণিলাল নাগ। বোলপুরের চিকিৎসক ডাঃ সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায় ‘এক টাকার চিকিৎসক’ হিসেবে পরিচিত। গরিব রোগীদের চিকিৎসা করেন মাত্র এক টাকার বিনিময়ে। ডাঃ অরুণোদয় মণ্ডল সপ্তাহান্তে ছুটে যান সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে যেখানে মানুষ আজও ন্যূনতম চিকিৎসা পরিষেবা পান না।   

    সমাজসেবায় অন্যরকমঃ

    সেই অর্থে কেউ সেলিব্রটি নয়। কজনই বা তাঁদের নাম জানে। কিন্তু  নিঃশব্দে তাঁদের কাজ সমাজকে সমৃদ্ধ করেছে নানাভাবে। ভারত সরকারের তাঁদের সেই কাজের স্বীকৃতিতে দিয়েছেন পদ্ম সম্মান।

    জগদীশলাল আহুজা

    লঙ্গরবাবা নামেই পরিচিত। তাঁর লঙ্গরখানায় প্রতিদিন পাত পড়ে ৫০০-র বেশি। গরিব মানুষ ও রোগীদের নিঃস্বার্থ ভাবে খাইয়ে থাকেন তিনি। শুধু আপতকালীন সময় নয়, একেবারে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দু-দশকেরও বেশি সময় লাগাতার এই লঙ্গরখানা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    মুহম্মদ শরিফ

    ফৈজাবাদের মানুষ তাঁকে ডাকেন 'চাচা শরিফ।' নিঃসঙ্গ, একাকী মানুষের শেষযাত্রার সঙ্গী তিনি। এপর্যন্ত দাবিহীন বেওয়ারিশ ২৫ হাজার মৃতের সত্‍‌কার করেছেন চাচা ‘শরিফ’।

    জাভেদ আহমেদ টাকঃকাশ্মীরের 'দিব্যাঙ্গ শিশু'-দের জন্য কাজ করেন। বিশেষভাবে কর্মক্ষম শিশুদের জীবনে আশার আলোর দিশরী তিনি।

    তুলসী গৌড়া

    বাহাত্তর বছরের যুবতী। অক্লান্তভাবে গাছ লাগিয়ে নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন বনাঞ্চল। তাঁকে বলা হয় 'এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ফরেস্ট'।

    পোপাটরাও পাওয়ারঃ মহারাষ্ট্রের খরাপীড়িত যে সমস্ত গ্রামে চাষবাসের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা সেখানে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছেন তিনি।
    রাধা মোহন ও সবরমতীঃ রিসোর্স সেন্টার 'সম্ভব' তৈরি করে চাষিদের মধ্যে উন্নতমানের বীজ বিতরণ করে চলেছেন। জৈব চাষও শেখানো হয় রিসোর্স সেন্টারে।

    ট্রিনিটি সাইওঃ উপজাতি মহিলা ট্রিনিটি পার্বত্য এলাকার ৮০০-রও বেশি মহিলাকে হলুদচাষ শিখিয়ে, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পথ দেখিয়েছেন।


    কুশল কানওয়ার শর্মাঃ গুয়াহাটির পশুচিকিত্‍‌সক এশিয়ার হাতিদের বাঁচাতে সচেতনতা তৈরি করছেন।


    সত্যনারায়ণ মুনদায়ুবঃ অরুণাচলপ্রদেশের গণ্ডগ্রামে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেন প্রবীণ এই শিক্ষাদূত।


    হিম্মতা রাম ভামভু

    তাঁর পক্ষীপ্রেম সুবিদিত। পড়তে পারেন পাখির ভাষা। পাখিরাও বিলক্ষণ চেনেন তাদের আপনজনকে। প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি পাখিকে ২০ কেজি দানাশস্য খাওয়ান।

    রবি কান্নন

    বরাক উপত্যকার ৭০, ০০০ ক্যানসার রোগীর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিত্‍‌সা করেছেন চেন্নাইয়ের বিখ্যাত এই ক্যানসার বিশেষজ্ঞ।

    পদ্ম সম্মাননায় দেশ-বিদেশেরঃ

    মরিশাসের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অনরুদ জুগনথকে পদ্মবিভূষণে সম্মানিত করা হয়েছে। বারাণসীর বিশিষ্ট ধ্রুপদী সংগীত শিল্পী চান্নুলাল মিশ্র পাচ্ছেন পদ্মবিভূষণ। পদ্মবিভূষণ পাচ্ছেন ৬ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মহিলা বক্সার মেরি কম।

    পদ্মভূষণ পাচ্ছেন শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রা ও ভেনু শ্রীনিবাসন, নাগাল্যান্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস সি জামির, জম্মু কাশ্মীরের রাজনীতিবিদ মোজাফফর হুসেন বেগ ও ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু।

    খেলার জগতের পাশাপাশি রুপোলি পর্দার অনেকেই পাচ্ছেন পদ্ম সম্মান। পদ্মশ্রী পাচ্ছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত, প্রযোজক একতা কাপুর, পরিচালক ও প্রযোজক করণ জোহর। পদ্মশ্রী পাচ্ছেন  ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণকারী সঙ্গীত শিল্পী আদনান স্বামী।  

    অন্যদিকে, নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য প্রয়াত অরুণ জেটলি ও সুষমা স্বরাজকে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে। মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ দেওয়া হচ্ছে প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজেকেও। গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারির্করকে  মরণোত্তর পদ্মভূষণে সম্মানিত করেছে কেন্দ্র।

    ১৯৫৪ সাল থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী পুরস্কার দিয়ে আসছে ভারত সরকার। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে প্রতিবারই পদ্মপ্রাপকদের নাম ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। কলা, সাহিত্য, শিক্ষা, খেলা, চিকিৎসা, সামাজিক কাজকর্ম, বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং, সমাজসেবা, প্রশাসনিক কাজ, ব্যবসা, বিনোদন ক্ষেত্রে যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন, সমাজের যাঁদের বিশেষ অবদান রয়েছে তাঁদের মধ্যে থেকেই বেছে নেওয়া হয় পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের। তবে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী ছাড়া অন্য সরকারি কর্মীরা পদ্মপুরস্কারের জন্য মনোনীত হন না।