বুধবার, অক্টোবর 21, 2020

প্রিন্সিপ্যালের চিঠি, কেন ভাইরাল?
প্রিন্সিপ্যালের চিঠি, কেন ভাইরাল?

প্রিন্সিপ্যালের চিঠি, কেন ভাইরাল?

  • scoopypost.com - Jan 22, 2020
  • মনে আছে, থ্রি ইডিয়টসের বীরু শাস্ত্রবুদ্ধেকে? ছাত্রমহলে যিনি ‘ভাইরাস’ বলে পরিচিত ছিলেন। তাঁর কড়া শাসন, বই নির্ভর পড়াশোনা, মেজাজ অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল।শুধু তাই নয়, গল্পে জয় লোবো নামে একটি ছাত্র তার প্রজেক্ট ঠিক সময়ে জমা দিতে পারেনি বলে তার পরীক্ষায় পাশ করাও আটকে গিয়েছিল। প্রিন্সিপ্যাল হিসাবে ছাত্রের পাশে থাকা দূরের কথা, এতটাই অসহযোগিতা করেছিলেন ভাইরাস যে পরিবারের আশাভঙ্গ হওয়ার হতাশা থেকে ছেলেটি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।

    সিনেমার বীরু শাস্ত্রবুদ্ধ কিন্তু বিচ্ছিন্ন চরিত্র নন। অনেক স্কুল, কলেজে এমন প্রিন্সিপ্যাল দেখা যায়।কিন্তু ব্যাতিক্রমও আছে।সৌদি আরবের ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান স্কুল-দামামের অধ্যক্ষ  জুবির আহমেদ খান।যিনি ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার আগে তাদের বাবা-মায়েদের সুকৌশলে জীবনের পাঠ শেখালেন।

    পরীক্ষার ফল মনমতো না-হলে সন্তানকে বকঝকা করেন অভিভাবকরা। কখনও বকাবকি না-করলেও, বাবা-মায়ের আশাপূরণ করতে না-পারায় হীনমন্যতায় ভোগে পড়ুয়ারা। তার ফল, হতাশা, সেখান থেকে কখনও নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়া, কখনও আবার জীবন শেষ করে দেওয়া।এ নিয়ে একাধিক গল্প, উপন্যাস লেখা হয়েছে। হয়েছে ছিঁচোড়ে, থ্রি ইডিয়টস-এর মতো ছবিও।

    কিন্তু তা থেকে কিছু শিখেছেন কি অভিভাবকরা? নাকি, বাবা-মায়েরা, বাবা-মা হয়েছেন বলে কি তাঁদের শিক্ষার পাঠ শেষ হয়ে গিয়েছে?  বাবা-মায়েদেরকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন সৌদি আরবের ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান স্কুল-দামামের অধ্যক্ষ। সেই চিঠি এখন ভাইরাল।

    প্রিন্সিপাল বলেছেন...

    প্রিয় অভিভাবক,

    আইআইএস দামামের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা,

    সামনেই আপনাদের বাচ্চাদের বোর্ডের পরীক্ষা।আমি জানি, আপনারা সন্তানদের পরীক্ষা কেমন হবে তার ফলাফল নিয়ে চিন্তিত।

    কিন্তু একটা বিষয় মনে রাখবেন, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এমন ভবিষ্যৎ শিল্পীও আছে, যার অঙ্ক না বুঝলেও চলে।

    তাদের মধ্যে আছে উদ্যোগপতিও, যার ইতিহাস ও সাহিত্য গভীরভাবে না বুঝলেও হবে।

    আছে সঙ্গীতঙ্গ, যার কাছে রসায়ণ ভাবনার বিষয় নয়।

    আছে, খেলোয়াড় যার জন্য ফিজিক্স বোঝার চেয়েও জরুরি ফিজিক্যাল ফিটনেস বা শারীরিক সক্ষমতা।

    যদি আপনার সন্তান, ভাল নম্বর পায় খুব ভাল।কিন্তু তা না-হলে দয়া করে আপনার সন্তানের আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা কেড়ে নেবেন না। বরং বলুন, ঠিক আছে।এটা তো শুধু একটা পরীক্ষা। জীবন তার চেয়েও বড়।সেই আপনার কাছে বড়, পরীক্ষার নম্বর নয়।