বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 21, 2021

অন্য বাইডেনের গল্প
অন্য বাইডেনের গল্প

অন্য বাইডেনের গল্প

  • scoopypost.com - Nov 09, 2020
  • দুঃখ, দুর্ভাগ্যের সঙ্গে লড়াই এর আরেক নাম জো বাইডেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ের প্রতিটা মুহূর্ত ছিল টান টান উত্তেজনা। জয়ের একেবারে দোরগোড়ায় এসেও পাশা পালটে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল প্রতি পদে। এমনকি এখনও যখন তিনি ‘প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট’, তখনও তাঁকে লড়াই করতে হচ্ছে তাঁর বিরোধী ট্রাম্পের অভব্যতার সঙ্গে। হেরে গিয়েও যিনি বলছেন আমি হারিনি। আসলে এই লড়াই বাইডেনের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন যেমন দীর্ঘ তেমনই তাঁর দুঃখ, দুর্ভাগ্য তাঁর বহু দিনের সঙ্গী। কতবার ভেবেছেন সব কিছু শেষ করে দিতে। পারেন নি।

    বাইডেনের রাজনৈরিক জীবন শুরু সেনেটর হিসেবে। ১৯৭২ সালে তিনি সেনেটর হন।  সেই প্রথম সাফল্য উদযাপনের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে বাইডেন পরিবারে। সামনেই বড়দিন। সব মিলিয়ে বেশ বড় করেই উদযাপনের পরিকল্পনা ছিল বাইডেন পরিবারের।সব কিছু গুছিয়ে কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিলেন বাইডেন পত্নী। সঙ্গে দুই ছেলে আর মেয়ে। অফিসে বসেও কাজে মন বসছিল না বাইডেনের। বার বারই মনে হচ্ছিল কখন ফিরবেন বাড়িতে। পরিবারে্র সঙ্গে আনন্দ করবেন।অফিসে বসেই পেলেন সেই মর্মান্তিক দুঃসংবাদ।

    একটা ট্রাক তাঁর পুরো পরিবারকে পিষে দিয়েছে। ছুটতে ছুটতে বাড়ি আসেন। ততক্ষণে সব শেষ। স্ত্রী আর কয়েক মাসের মেয়েকে বাঁচানো যায় নি। ভয়ঙ্কর আঘাত নিয়ে প্রানে বেঁচে গেছেন দুই ছেলে।স্ত্রী নেইলি হান্টার ছিলেন বাইডেনের কলেজের সহপাঠী। তখনই  প্রেমে পড়া আর ১৯৬৬তে বিয়ে । তাঁদের তিন সন্তান। দুই ছেলে আর ছোট্ট ফুটফুটে একটা মেয়ে। দুর্ঘটনা মা আর মেয়েকে কেড়ে নেয় বাইডেনের জীবন থেকে।

    এই দুর্ঘটনায় চরম হতাশায় ডুবে যান বাইডেন। এক সময় স্থির করে নেন, শেষ করে ফেলবেন নিজেকে। পারেন নি, ছোট ছোট দুই ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজেকে শক্ত করেন। নিজের ইতি কর্তব্য স্থির করে ফেলেন। মানুষ করতে হবে দুই ছেলেকে। শুরু হয় বাইডেনের অন্য এক লড়াই। প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে সঙ্গে সন্তান  প্রতিপালনের লড়াই। বাইডেন সে সময় প্রতিদিন ৩০০ কিলোমিটার ট্রেন জার্নি করতেন । রাতের বেলা যখন বাড়ি ফিরতেন তখন ছেলেদের ঘুম পাড়ানোর জন্য গান, ছড়া আর গল্প  সংগ্রহ করতেন। ডিনার সেরে ছেলেদের সেই সব শুনিয়ে ঘুম পাড়াতেন জো বাইডেন। আজ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়ে শুরুতেই যে দায়িত্বের পরিচয় তিনি দিচ্ছেন তা তাঁর রক্তে । নিজের পরিবারের প্রতি যত দায়িত্বশীল, দেশের প্রতিও তিনি ততটাই দায়িত্বশীল এবং দায়বদ্ধ।  বাইডেনের  দুর্ভাগ্যের এখানেই শেষ নয়। ১৯৭৭ এ বাইডেন আবার বিয়ে করেন। জিল স্টিভেনসন এবং বাইডেনের একটি মেয়ে হয়। নাম অ্যাশলে।

    ১৯৮১তে নতুন মেয়ে জন্মানোর আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয় নি বাইডেনের জীবনে। ২০১০ সালে অসুস্থ হয়ে পড়ে তাঁর বড় ছেলে বিউ। এর বছর পাঁচেক পরেই ব্রেন ক্যানসারে মারা যায় বিউ।

    বড় ছেলের মৃত্যুতে মানসিক ভাবে খুবই আঘাত পান বাইডেন। কিন্তু ছেলের কাছে কথা দিয়েছিলেন নিজের দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন না। কারণ ছেলে অসুস্থ হওয়ার পর বাইডেন ভেবেছিলেন সব কিছু থেকে সরে যাবেন। বাবার এই ভাবনার কথা জানতেন বড় ছেলে বিউ। তাই তখনই বাবাকে রাজি করিয়ছিলেন যা কিছুই হয়ে যাক তিনি যেন নিজের কাজ থেকে সরে না যান । হয়ত সেদিন তাঁর ছেলে তার বাবাকে একদিন দেশের প্রেসিডেন্ট পদে দেখতে চেয়েছিলেন।

    প্রেসিডেন্ট হওয়ার আনন্দের মাঝেও যখন একটু অবসর পাবেন, বাইডেন হয়ত দু ফোঁটা চোখের জল ফেলবেন তাঁর ছেলে, মেয়ে আর প্রথমা স্ত্রীয়ের জন্য। তাদের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে হয়ত বলবেন, আনন্দ কর, দেখ আজ আমি-প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট।