বুধবার, নভেম্বর 25, 2020

নারীর খাটো পোশাকে 'আপত্তি', আসছে নয়া আইন
নারীর খাটো পোশাকে  'আপত্তি', আসছে নয়া আইন

নারীর খাটো পোশাকে 'আপত্তি', আসছে নয়া আইন

  • scoopypost.com - Sep 22, 2020
  • আঙ্কোরভাট, আঙ্কোরথামের দেশে মহিলাদের জন্য এবার কড়া পোশাকবিধি চালু হতে চলেছে। নারীদের খাটো ও খোলামেলা পোশাক পরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে নয়া আইন আসতে চলেছে কম্বোডিয়ায়। এই 'একুশে আইন', নীতি-পুলিশি এবং ব‍্যক্তি স্বাধীনতায় রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে মলিকা টান নামের এক অষ্টাদশী মডেল অনলাইনে সই সংগ্রহ করতে নেমে পড়েছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ২১ হাজার মহিলা সই করে সরকারের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে প্রতিবাদীর সংখ্যা। খসড়া আইনে বলা হয়েছে কোনও মহিলা খাটো, খোলামেলা, শরীর দেখানো পোশাক পরলে জরিমানা করা হবে। একথা জানাজানি হতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক মহিলা খোলামেলা পোশাকে নিজেদের ছবি পোস্ট করে জিজ্ঞেস করতে থাকেন তাঁদের জরিমানা করা হবে কিনা। খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, "দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী, সামাজিক মান মর্যাদা খোয়ানো, ছোট, খোলামেলা, অশোভন, শরীর দেখানো পোশাক পরা চলবে না মহিলাদের"। সেইসঙ্গে আইনের খসড়া প্রস্তাবে পুরুষদেরও আদুড় গায়ে থাকা, ঘোরা, চলাফেরা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মানসিক প্রতিবন্ধীদের জনসমক্ষে অবাধ হাঁটাচলায় নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। সব রকমের ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করার কথা প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে।নারীদের ব‍্যক্তি স্বাধীনতায় ইতি টানা আইন প্রণয়নের সরকারি উদ্যোগের প্রথম প্রতিবাদকারী মডেল মলিকা টান -এর মতে, "এধরনের আইন তৈরির উদ্যোগ নারীদের উপর আক্রমণ। আমি যে পোশাকে নিরাপদ, স্বচ্ছন্দ, এবং নিজেকে প্রকাশ করতে পারব সেটাই হবে আমার পছন্দ। রাষ্ট্র এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারে না"। মলিকার অভিযোগ, "পুরুষরা চায় আমরা অনুগত দাসী হয়ে থাকি। তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী সবকিছু করি। প্রচলিত ধারণা নারীরা শান্ত, নম্র, প্রতিবাদহীন হবে। এর অন‍্যথা হলেই বিপদ"।


    আয়লান লিম নামের আর এক যুবতী প্রস্তাবিত আইনের সমালোচনা করতে গিয়ে সরকারকে একহাত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, "এদেশে মহিলারা যৌন হয়রানি, হিংসার শিকার হলে মহিলাদেরই এজন্য দোষারোপ করা হয়। সরকার এই সংস্কৃতির উপর জোর দিতে চায়। খসড়া বিল পাস হলে এই বিশ্বাস আরও জোরদার হবে। নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে এই আইন তৈরি করার মাধ্যমে সরকারি সিলমোহর লাগাতে চাইছে"।
    কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে মন্ত্রী ওক কিমলেখ প্রস্তাবিত আইন সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু জানিয়েছেন, "এটা এখন খসড়া পর্যায়ে আছে"। যদিও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, প্রস্তাবিত আইনের বিরোধিতা করতে গেলে সরকারের তরফে উপর জনগণের চাপসৃষ্টি করা স্বাভাবিক। যা একদমই উচিত নয়। মানবাধাকার কর্মীদের অভিযোগ, কম্বোডিয়ায় আইন খুব তাড়াহুড়ো করে পাস করানো হয়। খসড়া আইনের উপর আলোচনা খুবই কম হয়।কম্বোডিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস - এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর চাক সোপিপের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত আইনের প্রভাব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উপর খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। গরিব মানুষ আরও গরিব হবে। এই আইনে মানুষের চলাফেরা বিঘ্নিত হবে এবং একত্র সমাগমে কর্তৃপক্ষের থেকে আগাম অনুমতি নেওয়ার অজুহাতে তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও অভিযোগ তাঁর।

    বিগত কয়েক বছরে কম্বোডিয়ায় নারীদের পোশাক নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে। আধুনিকমনস্কা মহিলাদের পরা পোশাককে 'অশোভন ' দেশের সামাজিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে দেগে দেওয়া হয়েছে। অনেকক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মহিলার বিরুদ্ধে স্থানীয় স্তরে সালিশিতে শাস্তি, জরিমানার মতো ব‍্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 'যথাযথ' পোশাক না পরার অপরাধে শিল্পীদের অনুষ্ঠান পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি। এপ্রিল মাসে অনলাইনে পোশাক বিক্রেতা এক মহিলাকে পর্নোগ্রাফির অপরাধে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ পোশাক বিক্রির সময় ওই মহিলা শরীর দেখানো 'অশোভন' এবং 'উস্কানিমূলক' পোশাক দেখিয়েছিলেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী হুন সেন স্বয়ং মুখ খুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "অনলাইনে, লাইভ স্ট্রিমিংয়ে এধরনের পোশাক পরা সেদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের লঙ্ঘন। "