মঙ্গলবার, জানুয়ারী 26, 2021

শুরু হয়ে গেল ভ্যাকসিন প্রতিযোগিতা
শুরু হয়ে গেল ভ্যাকসিন প্রতিযোগিতা

শুরু হয়ে গেল ভ্যাকসিন প্রতিযোগিতা

  • scoopypost.com - Nov 17, 2020
  • ৯০, ৯২, ৯৫ এই সংখ্যাগুলোই এখন সারা বিশ্বের মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। এগুলো নিছক কোনও সংখ্যা নয়। এই সংখ্যাগুলোর ওপর বিশ্ববাসীর অনেক কিছু নির্ভর করছে। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কোভিড-১৯। বিশ্বের কোটি কোটি ,মানুষের জীবন-জীবিকা সব কিছু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই কোভিডের দাপটে। এরই পাশাপাশি বিশ্ব জুড়েই চলছে এই কোভিডের হাত থেকে পরিত্রাণের রাস্তা খোঁজা। আশার কথা সেই রাস্তার সন্ধান বোধহয় এবার পেতে চলেছেন বিশ্ববাসী। আর এই সংখ্যাগুলো সেই রাস্তার এক একটা মাইল ফলক বলা যায়। আসলে এই সংখ্যাগুলো কোভিড মুক্তির নিশ্চয়তার হার। এখনও পর্যন্ত সারা বিশ্বে যে তিনটি কোভিড ভ্যাকসিনের ক   থা জানা গেছে এই সংখ্যা সেই ভ্যাকসিনগুলির সাফল্যের হার।

    বিশ্বে প্রথম কোভিড ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করেছিল রাশিয়া। তাদের স্পুটনিক ভিই প্রথম কোভিড ভ্যাকসিন। কিন্তু এই ভ্যাকসিন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠায় তা নিয়ে মানুষের আগ্রহ কিছুটা হলেও ধাক্কা খেয়েছে। স্পুটনিকের ঘোষণা হলেও আরও ভাল ভ্যাকসিনের সন্ধানে গবেষণা কিন্তু থেমে থাকে নি। ব্রিটেনের অ্যাস্টাযেনকা সেই সময় সারা বিশ্বের মানুষের মনে বিপুল আশা জাগিয়েছিল।তাদের গবেষণার একেবারে শেষ পর্যায়ে হঠাৎই কিছু খারাপ ফল সামনে আসে । এর জেরে কিছুদিনের জন্য তাদের গবেষণা স্থগিত রাখা হয়।পরে আবার তা শুরু হয়।

    অতি সম্প্রতি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ফাইজার ঘোষণা করে তারা কোভিড ভ্যাকসিন তৈরিতে দারুন সাফল্য পেয়েছে। তাদের তৈরি ভ্যাকসিন ৯০ শতাংশ কার্যকর। ফাইজারের এই ঘোষণা সামনে আসার পর রাশিয়া দাবি করে তাদের ভ্যাকসিন ৯২ শতাংশ কার্যকর। এই দুই ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থার দাবি থেকে একটা কথা কিন্তু স্পষ্ট, আর্ন্তজাতিক বাজারে শুরু হয়ে গেছে কোভিড ভ্যাকসিনের বাজার দখলের লড়াই।   

    রাশিয়া এবং ফাইজার যখন একে অপরের চেয়ে বেশি কার্যকর ভ্যাকসিনের দাবি করছে, তখন বিশ্ববাসীকে চমকে দেয় মার্কিন সংস্থা মর্ডানা। তারা দাবি করেছে তাদের ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট ৯৫ শতাংশ কার্যকরী। মর্ডানার এই দাবি পুরোপুরি মেনে না নিলেও আমেরিকার করোনা টাস্ক ফোর্সের প্রধান অ্যান্টনি ফাউচি একে অত্যান্ত ভাল খবর বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ৯৫ শতাংশ না হলেও ৯০ শতাংশ কার্যকর বলেই মনে হচ্ছে।

     মর্ডানার আসল কার্যকারীতা  অন্য জায়গায়। এই ভ্যাকসিন ঘরের ফ্রীজেই ২ থেকে ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে ২০ থেকে ৩০ দিন রাখা যায়। ফলে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত সহজ। ঘরের তাপমাত্রায় মর্ডানার ভ্যাকসিন রাখা যায় ১২ ঘন্টা। মর্ডানার দাবি মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে তাদের ভ্যাকসিন ৬ মাস পর্যন্ত রাখা যায়। সে জায়গায় বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে ফাইজারের ভ্যাকসিন। তাদের ভ্যাকসিন রাখতে গেলে আল্ট্রা কোল্ড স্টোরেজ দরকার। মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এই ভ্যাকসিন ৬ মাস পর্যন্ত রাখা যায়। সাধারণ ফ্রীজে রাখা যায় দিন পাঁচেক।

    এই সব খবরে একটা বিষয় স্পষ্ট আগামি দিনে বিশ্বের মানুষ আরও কিছু ভ্যাকসিনের খবর পাবেন। যার মধ্যে রয়েছে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনও। ফলে বাজার ধরার প্রতিযোগিতা আরো বাড়বে।